করোনার উত্পাতে পড়াশোনা বন্ধ! মঙ্গলসূত্র বন্ধক রেখে সন্তানদের জন্য টিভি কিনল মা

নিজস্ব প্রতিবেদন- সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হতে বসেছিল। তাই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন। নিজের মঙ্গলসূত্র বন্ধক রেখে সন্তানদের জন্য টিভি কিনলেন এক মা। এমনিতেই করোনার প্রকোপে স্কুল, কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। কবে সব খুলবে, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তাও কেউ জানে না। তা ছাড়া বাচ্চাদের এই পরিস্থিতিতে কোনওমতেই স্কুলে পাঠাতে চাইছে না অভিভাবকরা। সংক্রমণের ভয় এখন যেন আরও বেড়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনলাইন ক্লাস হবে। কিন্তু এদেশে এমন অনেক সংসার রয়েছে যেখানে স্মার্টফোন নেই। এমনকী সরকার আজ বললে কাল স্মার্টফোন কিনে ফেলার সামর্থও নেই অনেক বাবা-মায়ের। তা হলে কি এই পরিস্থিতিতে তাঁদের সন্তানরা পড়াশোনা করবে না! কী হবে তাদের ভবিষ্যত্!

একজন বিবাহিতা নারীর কাছে তাঁর বিয়ের চিহ্ন মঙ্গলসূত্র বন্ধক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া কিন্তু চাট্টিখানি কথা ছিল না। কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা-মায়েরা বাস্তবের রুক্ষ জমিতে দাঁড়িয়ে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত হাসি মুখে নিয়ে ফেলেন। বলা ভাল নিতে বাধ্য হন। এক্ষেত্রেও তাই। কর্নাটকের সরকার টিভির মাধ্যমে বাচ্চাদের এই পরিস্থিতে পড়াশোনা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব বাড়িতে স্মার্টফোন নেই। কিন্তু তুলনামূলক বেশি বাড়িতে টিভি রয়েছে। তাই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্ণাটকের সরকার। কিন্তু তাতে প্রশ্ন থাকে। অনেক বাড়িতে তো টিভি পর্যন্ত নেই। অথচ সেইসব বাড়িতে মেধাবি ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। তাদের ভবিষ্যত কী অন্ধকারে ডুবে যাবে! স্রেফ একটা টিভি ছিল না বলে!

আরও পড়ুন-  ইংরেজিতে কাঁচা! ৩৩ বছর ধরে ক্লাস টেনে ফেল করছেন ইনি, করোনা পাস করাল

কস্তুরি নামের সেই মা থাকেন কর্নাটকের গডগে। তিনি বলেছেন, “প্রশাসন জানিয়েছিল টিভির মাধ্যমে বাচ্চাদের পড়ানো হবে। কিন্তু আমাদের বাড়িতে টিভি নেই। এই পরিস্থিতিতে টিভি কেনার সামর্থও নেই। তাই মঙ্গলসূত্র বন্ধক রেখে টিভি কিনেছি। বাচ্চাদের রোজ প্রতিবেশির বাড়িতে পাঠানো যায় না। আর ওদের পড়াশোনা বন্ধ করতে চাইনি।” কর্নাটকের করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ৫০ বছরের কমবয়সী মানুষদের মৃত্যুর হার সেখানে হঠাত্ করে বেড়ে গিয়েছে। আর তাতেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে রাজ্যজুড়ে।    



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

৮০ কোটি শিশুর রক্তে মিশে যাচ্ছে ক্ষতিকারক সিসা, UNICEF-এর তথ্য চমকে দেওয়ার মতো

Fri Jul 31 , 2020
পৃথিবীর তিন চতুর্থাংশ বাচ্চার শরীরে মিশে যাচ্ছে ক্ষতিকারক সিসা। Source link

Breaking News

Recent Posts