শুক্রবার রবীন্দ্র সরোবর চত্বরে আসা প্রাতঃভ্রমণকারীদেরই নজরে প্রথমে আসে বিষয়টি। স্থানীয় কোনও বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিক থেকে সেই পিপিই কিট ফেলে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের ধারণা। প্রাতঃভ্রমণকারীদের কয়েক জনের বক্তব্য, গাড়ি করে যাওয়ার সময় অনেকে ছুড়েও ওই জায়গায় কিছু জিনিস ফেলেন। সে সব জমে যে আবর্জনার স্তূপ, তার মধ্যেই পড়েছিল পিপিই কিট ও গ্লাভ্স।
হাসপাতাল-নার্সিংহোমে ব্যবহৃত কোভিড বর্জ্য, মাস্ক-গ্লাভ্স-পিপিই কিট কী ভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করতে হবে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সুস্পষ্ট নির্দেশিকা আছে। তার পরেও সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না।
কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য, জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দেবব্রত মজুমদার বলেন, ‘যত্রতত্র পিপিই কিট ও গ্লাভ্স যাতে কেউ না-ফেলেন, সেই জন্য আমরা বিভিন্ন ভাবে প্রচার চালাচ্ছি। এই প্রচার আরও জোরদার করা হবে। কারণ, এই সব নষ্ট করারও একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। সাধারণ পুরকর্মীদের যদি এ সব জঞ্জাল নিয়ে যেতে হয়, তা হলে তাঁদেরও করোনায় সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’
আরও পড়ুন: কলকাতায় করোনা পরীক্ষার নামে প্রতারণা! ভুয়ো রিপোর্টের ফাঁদে পড়ে মৃত প্রৌঢ়
ফুটপাথবাসীদের একটা বড় অংশও মাস্ক ব্যবহার করছেন না। তাতে আরও প্রবল সংক্রমণের আশঙ্কা। সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের একটা অংশে ফুটপাথে প্লাস্টিক টাঙিয়ে কয়েক জন বসবাস করেন। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, স্থান সংকুলানের অভাবে মাস্ক ঠিক মতো রাখা যাচ্ছে না। ওই ফুটপাথবাসীদের যুক্তি, তাঁরা এতটাই অপরিসর জায়গায় থাকেন যে, মাস্ক খুলে কখনও বালিশের তলায় রাখছেন আবার কখনও সেটি ফেলে রাখছেন অন্য কোথাও। ফলে, মাস্ক নোংরা হচ্ছে, শেষে নষ্টও হয়ে যাচ্ছে। এক মহিলার বক্তব্য, ‘মাস্ক পরলে কি করোনা হবে না, এমন কোনও কথা আছে! মাস্ক আমাদের দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ও সব বেশিক্ষণ ঠিক থাকে না, ছিঁড়ে গিয়েছে!’
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
