Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর যা স্বপ্ন, বিজেপি তা পূরণ করতে পারবে তো? – ahead of assembly polls, will tmc leader suvendu adhikari join bjp, a report

হাইলাইটস

  • শুভেন্দু অধিকারী যদি তৃণমূল দলটি সত্য়িই ছাড়েন তাহলে তিনি কেন ছাড়বেন?
  • এক লব্জে তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম উচ্চারণ করেছিলেন মমতা।
  • কিন্তু সব কিছু করার পরেও যেন শুভেন্দুকে প্রাণ খুলে কিছু দিতে পারেননি তৃণমূল নেত্রী।

সম্বিত পাল

রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা শুভেন্দু অধিকারী কেন দল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাবেন? কেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে মোদী-সঙ্গ করবেন? কী লাভ হবে তাঁর? এমন অনেকগুলি প্রশ্নই উঠে আসছে। এর উত্তরও অনেক রকমের হতে পারে।

মুকুল রায়ের বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জল্পনা স্তিমিত হতে না হতেই নতুন জল্পনার পালে বেশ হাওয়া লেগেছে। শুভেন্দুকে নিয়ে এই ধরনের আলোচনা নতুন নয়। মুকুল রায় বিজেপিতে যাওয়ার সময়ও তাঁকে নিয়ে গুজব ছড়িয়েছিল। কিন্তু নারদ-তদন্তের খাড়া মাথায় নিয়েও তিনি তখন গেরুয়া শিবিরের পথে হাঁটেননি।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও তিনি দলত্যাগের আলোচনার শিরোনামে। সাম্প্রতিক নানা ঘটনা সেই জল্পনায় বেশ ইন্ধন জুগিয়েছে। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী যদি তৃণমূল দলটি সত্য়িই ছাড়েন তাহলে তিনি কেন ছাড়বেন?

২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাওড়ার ডুমুরজোলা স্টেডিয়ামে তৃণমূল ছাত্র-যুবদের একটি অনুষ্ঠানে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ঘোষণা করেছিলেন, অভিষেক-শুভেন্দু আগামী প্রজন্মের নেতা। তাঁরা আগামী ৫০ বছরের নেতৃত্ব তৈরি করে যাবেন।

এক লব্জে তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম উচ্চারণ করেছিলেন মমতা। অনেকেই তখন ভেবেছিলেন শুভেন্দুকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী। গুরুত্ব যে একেবারেই দেননি তা নয়। পূর্ব মেদিনীপুরে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অধিকারী-পরিবারের বিপরীতে অবস্থান করা কয়েকজন নেতাকে রেখে বাকিটা অধিকারীদের হাতেই ছেড়ে রেখেছেন অনেকদিন ধরেই। নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া শুভেন্দুকে সংসদে পাঠিয়েছেন। যুব সভাপতির দায়িত্বও দিয়েছিলেন। পরে রাজ্য মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার জন্য নন্দীগ্রাম থেকেই শুভেন্দুকে বিধায়ক করেছেন। ভরসা করে জঙ্গলমহল হোক বা মুর্শিদাবাদ বা উত্তর দিনাজপুরে শুভেন্দুকে ক্রাইসিস ম্যানেজার করে পাঠিয়েছেন।

কিন্তু সব কিছু করার পরেও যেন শুভেন্দুকে প্রাণ খুলে কিছু দিতে পারেননি তৃণমূল নেত্রী। মাঝখানে চলে এসেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে জায়গা করে দিতেই শুভেন্দুকে যুব সভাপতির পদটি ছেড়ে দিতে হয়েছিল। স্টপ-গ্য়াপের মতো শুভেন্দুর থেকে নিয়ে সৌমিত্র খানকে কিছুদিনের জন্য পদটি দিতে হয়েছিল তখন। সাংগঠনিক দক্ষতা দেখানো সত্যেও তৃণমূলে দু’নম্বর হয়ে ওঠা হয়নি শুভেন্দুর। আর যে হবে না, তা জলের মতো পরিষ্কার।

একজন সংগঠন করে উঠে আসা নেতার কাছে তৃণমূলে পিকে-কর্পোরেট সংস্কৃতি যে তার ভাল লাগছে না তা তিনি হাবভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন অনেকদিন আগেই। এখন অভিষেক-রাজে তাঁর অনুগামীরা যে তাঁর নিজের জেলাতেই হালে পানি পাবেন না তাও যুব তৃণমূলের সভাপতির পদটির মনোনয়ন দেখে বুঝে গেছেন নিশ্চয়ই। সঙ্গে রাজ্য সমন্বয় কমিটির বা তারও স্টিয়ারিং কমিটির একজন সাধারণ সদস্য হয়েই যে তাঁকে থাকতে হবে তাও দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। সম্প্রতি তৃণমূলের সরকারি কর্মচারীদের ফেডারেশনের দায়িত্ব থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

স্বাভাবিক কারণেই রাজনৈতিক উচ্চাশা ও ক্ষমতা যাঁর রয়েছে, এহেন পরিস্থিতিতে তাঁর এই দলে থেকে যে বিশেষ লাভ নেই তা একটি বাচ্চা ছেলেও বোঝে।

কিন্তু বিজেপিতে গিয়ে কি শুভেন্দুর সেই উচ্চাশা পূরণ হবে? এ কথা বললে বোধহয় বাড়াবাড়ি হবে না, মমতার পরে পশ্চিমবঙ্গে যদি কোনও নেতার মাটি কামড়ে থেকে, জেলায় জেলায় ঘুরে ঘুরে জনগণের মধ্যে দাপিয়ে কাজ করার ক্ষমতা থাকে তা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। সাংগঠনিক ও প্রশাসিক দুই রকম দায়িত্ব নিতেই তিনি সক্ষম। তিনি শুধু বাগ্মীই নন, জনগণের ভাষায় কথা বলতে পারেন। জননেতার একটি চরিত্র রয়েছে। চেষ্টা করলে তৃণমূল নেত্রীকে চ্যালেঞ্জ দিতেও পারেন।

কিন্তু বিজেপিতে গিয়ে কি তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রার্থী হয়ে যাবেন? ২০২১ সালে শুভেন্দু বনাম মমতা দ্বৈরথে যাওয়ার দুঃসাহস বিজেপি কি দেখাতে পারবে? একেই গেরুয়া শিবিরে যে ‘অতৃপ্ত আত্মা’রা ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেখানে শুভেন্দু তৃপ্ত হবেন, এমনটা তো এখনও ভাবাই যাচ্ছে না। সেখানে গিয়েও তো শুভেন্দুকে কারও না কারও দু’নম্বর হতে হবে। না হয় তাঁর পাল কাটার চেষ্টা জারি থাকবে গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই। ভবিষ্যতে যদি শিঁকে ছেঁড়ে তাহলে অন্য কথা। অতটা তিনি অপেক্ষা করবেন? মুকুল রায়ের জাতীয় রাজনীতিতে আগ্রহ থাকলেও, শুভেন্দু অধিকারী কখনই রাজ্য রাজনীতির বাইরে যেতে চাননি।

নাকি তিনি নন্দীগ্রাম-পূর্ব মেদিনীপুরের বেতাজ বাদশা হয়েই থেকে যেতে চান। থেকে যেতে চান তাঁর পুরনো ইমেজেই? সেটা হলে খেলাটা অনেক সহজ। ইতিমধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিজেপি যে সামান্য হলেও প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে, তা কারও চোখ এড়ায়নি। সারা রাজ্য যখন পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে দেওয়া হয়নি, সেখানে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে নির্বিঘ্নে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থীরা। এমনকী কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতেরও দখল নিয়েছে তারা। রামনগরে সমবায় নির্বাচনেও বিজেপি জয়ী হয়েছে। বিধানসভা হোক বা লোকসভা — গেরুয়া শিবিরের ভোটের সংখ্যা বেড়েছে অনেকটাই। অধিকারী-গড়ে এমন ফল একটু দৃষ্টিকটু নয় কী?

আরেকটি সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। শুভেন্দু নিজের দল গড়ে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে বিজেপির সঙ্গে জোট করতে পারেন। কিন্তু সারদা-নারদ কাঁটা বিঁধে থাকা শুভেন্দুকে এতটা দর কষাকষির সুযোগ কি বিজেপি দেবে?

তৃণমূল শিবির থেকে নেতা পাওয়ার চেয়েও মমতা-শিবিরে ধাক্কা দেওয়ার জন্যই তৃণমূলে ভাঙন ধরাতে চায় বিজেপি। সংঘ পরিবার বা বিজেপি রাজনীতির আভ্যন্তরীণ সমীকরণে সেখানে বাইরে থেকে আসা নেতাদের নিয়ে এমনিতেই মেপে পা ফেলা হয়। সেখানে বিবেকান্দ-ভক্ত শুভেন্দুকে নিয়ে সংঘের বিশেষ আপত্তি না থাকলেও, একেবারে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা তো তিনি নন। তার উপরে দিলীপ ঘোষেরা তাঁকে কতটা জমি ছাড়তে প্রস্তুত, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাবে। আর দল ছাড়লে মমতা যে একেবারে শুভেন্দুকে ভুলে যাবেন, পুরনো কোনও মামলা তুলে আনবেন না, তারই বা গ্যারান্টি কোথায়?

সুতরাং বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার স্বপ্ন যদি সত্য়িই দেখে থাকেন শুভেন্দু অধিকারী, তাহলে কতটা সময় তাঁকে বিনিয়োগ করতে হবে তা নিশ্চয়ই তিনি বুঝতে পারছেন। কারণ এখনই তাঁর সে স্বপ্ন পূরণ হওয়ার প্রতিশ্রুতি আর যাই হোক বিজেপি অন্তত দেবে না বলে ধরাই যায়। ক্ষমতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কতটা ধৈর্যই বা তিনি ধরে রাখতে পারবেন, সেটাও একটা বড় পরীক্ষা।

আরও পড়ুন: স্বামী কৃপাকরানন্দকে মুখ্যমন্ত্রী বানানোর চেষ্টা গভীর এক পরিকল্পনার অংশ মাত্র…

এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

Sushant Singh Rajput’s Pet Dog Fudge Takes A Stroll Around Late Actor’s Bike; Family Shares Video On Twitter

Sat Aug 22 , 2020
নিজস্ব প্রতিবেদন : সুশান্তের মৃত্যুর ২ মাস পার হয়ে গিয়েছে। তবে তাঁকে ভোলেনি তাঁর পরিবার ও অনুরাগীরা। এখনও সুশান্তের ব্যবহৃত বাইকের সামনে তাঁকে খুঁজে বেড়ায় অভিনেতার প্রিয় পোষ্য ফাজ। সম্প্রতি, সুশান্তের পরিবারের তরফে এমনই একটি ভিডিয়ো শেয়ার করা হয়েছে।  সুশান্তের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের তরফে ‘ইউনাইটেড ফর জাস্টিস’ (united for […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts