পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে পুরনো ফরাক্কা সেতুর সমান্তরালে নয়া সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দক্ষিণ ভারতের একটি সংস্থার পাশাপাশি একটি চিনা সংস্থাও নির্মাণকাজে যুক্ত। সেতুটির মালদা ও মুর্শিদাবাদ– দু’দিকেই কাজ চলছিল। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ মালদার বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার দিকে সেতুর এক ও দু’নম্বর পিলারের মধ্যে গার্ডার বসানোর সময় ভেঙে পড়ে গার্ডারটি। সেখানে তখন কাজ করছিলেন কমপক্ষে ১০ শ্রমিক। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান কয়েক জন।
কয়েক বছর আগে ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ কলকাতার পোস্তায় নির্মীয়মাণ এমনই একটি উড়ালপুল ভেঙে কমপক্ষে ২৬ জন মারা যান। আরও ৭০ থেকে ৭৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল জখম অবস্থায়। উড়ালপুলের ভেঙে পড়া চাঙড় এবং স্টিলের কাঠামোর নীচে অনেকই অর্ধেক চাপা পড়ে ছিলেন। কারও মাথা বেরিয়েছিল বাইরে, কারও পা। নির্মীয়মাণ বিবেকানন্দ উড়ালপুলটি গণেশ টকিজ মোড়ের কাছে ভেঙে পড়েছিল।
আরও পড়ুন: ভারতে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সুস্থ ৬৩,৬৩১ জন, কোভিড সুস্থতার হার প্রায় ৭৫%
ঘড়িতে তখন বেলা ১২টা ৪০। রবীন্দ্র সরণি ও কে কে টেগোর রোড ক্রসিংয়ে নির্মীয়মাণ পোস্তা উড়ালপুলের ১৫০ মিটার অংশ ভেঙে পড়ে। বিশালকার লোহার বিমের নীচে চাপা পড়েন অসংখ্য পথচারী, ট্যাক্সিচালক-সহ বহু মানুষ।
আরও পড়ুন: কোভিডে ভারতের জোড়া নজির: সংক্রমণ ছাড়াল ৩০ লক্ষ, দিনে রেকর্ড ১০ লক্ষ করোনা টেস্ট
উড়ালপুল ভেঙে পড়ার ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগ ওঠে নির্মাণকারী সংস্থা আইভিআরসিএল-এর দিকে। খড়্গপুর আইআইটি-র দেওয়া রিপোর্টে সামনে আসে ভুল নকশা আর গুণগত মান যাচাইয়ের অভাবেই ভেঙে পড়ে পোস্তা উড়ালপুল। রিপোর্টে পরিষ্কার বলা হয়, বিবেকানন্দ উড়ালপুলের নকশায় ত্রুটি ছিল এবং ওই ভুল নকশাই অনুমোদন করা হয়েছিল। উড়ালপুলের সব নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মানও ঠিক ছিল না। কোয়ালিটি চেকিং ঠিকমতো হয়নি। পূর্বতন বাম সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে তৃণমূল সরকার। পালটা সিপিআইএম দাবি করে, উড়ালপুলে যে অংশটি ভেঙে পড়েছে, তা তৃণমূল সরকারের আমলেই তৈরি হওয়া। এই চাপানউতোরের মধ্যেই তত্কালীন মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় ও খড়গপুর আইআইটি-র তিন অধ্যাপককে নিয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি ওই উড়ালপুলের উপর দিয়ে যান চলাচলের বিপক্ষে মত দেয়। আবার উড়ালপুলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকাও বিপজ্জনক। তাই নির্মীয়মাণ উড়ালপুলের বাকি অংশ ভেঙে ফেলাই উচিত বলে জানায় কমিটি।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
