আর অন্য অংশ ‘পরিবারতন্ত্রে’র অবসান ঘটিয়ে গান্ধী পরিবারের বাইরের কোনও নেতাকে কংগ্রেসের কমান্ড তুলে দেওয়ার পক্ষে। এই অংশ মনে করে, যৌথ নেতৃত্বের মধ্যেই আছে ঝিমেয়ে পড়া দলকে ফের চাঙ্গা করার মন্ত্র। সংস্কারপন্থী নেতাদের সংখ্যাও যে নেহাত মন্দ না, তা সনিয়াকে লেখা ‘পত্রবোমা’ থেকেই পরিষ্কার। সূত্রের খবর, গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মা, কপিল সিব্বাল, মুকুল ওয়াসনিক, মণীশ তিওয়ারি, শশী থারুর এবং হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডার নাম আছে সংস্কারপন্থীদের তালিকায়। অনেকে আবার তরুণ নেতা মুকুল ওয়াসনিককে পরবর্তী কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রাখছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কংগ্রেসে অভ্যন্তরে আমূল সংস্কারের দাবি জানান দলের শীর্ষ ২৩ নেতা। এই মর্মে তাঁরা অন্তর্বর্তী সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীকে একটি চিঠিও লেখেন। সেই চিঠিতে দলের নানা সংকটময় পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি পূর্ণ সময়ের নেতৃত্বেরও দাবি জানানো হয়েছে। সেই চিঠির গতকাল জবাব দিলেছেন সনিয়া।
আরও পড়ুন: সভানেত্রীর পদ থেকে সরছেন? কংগ্রেস নেতাদের চিঠিতে সনিয়ার জবাবে জল্পনা
সূত্র দাবি করেছে, দলের শীর্ষ নেতাদের চিঠির জবাবে সনিয়া নাকি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সভানেত্রী পদে তাঁর এক বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। এ বার তিনি সেই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। দলের উচিত নয়া সভাপতি নির্বাচন করা। সোমবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সনিয়া ফের এই ইচ্ছের কথা তুলে ধরবেন বলে সূত্রের দাবি।
যদিও AICC-র অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তথা দলের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা এই খবরের সত্যতা পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে। রবিবার তিনি বলেন, ‘মিসেস গান্ধী এই নিয়ে কোনও নেতার সঙ্গে কিছু বলেননি। কারওকে লিখিত আকারেও কিছু জানাননি। আমরা এই খবর সম্পূর্ণ অস্বীকার করছি।’ তবে সূত্রের দাবি, এই নিয়ে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন সনিয়া।
গত লোকসভা ভোটে হারের ধাক্কায় ইস্তফা দেওয়ার পরে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, গান্ধী পরিবারের কাউকে যেন কংগ্রেস সভাপতি না করা হয়। সেবার ম্যারাথন বৈঠক করেও নতুন কাউকে সভাপতি নির্বাচিত করতে পারেননি কংগ্রেস নেতারা। এর পরে এক বছরের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। এখন কি কংগ্রেসে নেতৃত্বের খরা মিটেছে? এর উত্তর সময়ই বলবে।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
