ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ড্যানিয়েলের হাত পিছনে করে হাতকড়া পরিয়ে দীর্ঘ সময় ফুটপাথে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। ড্যানিয়েল এর প্রতিবাদ করতেই এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সাদা ঢাকা পরিয়ে দেয়। এই করোনা সংকটে আটক ব্যক্তি যাতে থুতু না ছেটাতে পারে, তার জন্যই ওই ডিভাইস। এর পর সেটি পরা অবস্থায় মুখে দু-মিনিট ফুটপাথে চেপে ধরায় শ্বাস আটকে জ্ঞান হারান ড্যানিয়েল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হেফাজতে থাকা আর এক কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকেও গলায় হাঁটুর চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করেই মেরেছিল পুলিশ। যার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন। বছর ৪৬-এর ওই ব্যক্তি ছিলেন নিরস্ত্র। মিনিয়াপোলিস শহরের একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্তা হাঁটু গেড়ে বসে তার গলার ওপর চাপ দেওয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা যান ফ্লয়েড।
আরও পড়ুন: সন্তানদের সামনেই পুলিশের গুলি নির্দোষ কৃষ্ণাঙ্গকে, ফের বিক্ষোভে উত্তাল আমেরিকা!
সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই অগস্টের শেষ দিকে কেনোশা শহরে জ্যাকব ব্লেক পুলিশি বর্বরতার শিকার হয়। তিনিও কৃষ্ণাঙ্গ যুবক। তিন সন্তানের চোখের সামনে বিনা অপরাধে পুলিশ তাঁকে পরপর সাতটা গুলি করে। প্রাণে বেঁচে গেলেও গুলিতে তাঁর শিরদাঁড়া টুকরো টুকরো হয়ে যায়। অস্ত্রোপচার হয়েছে। আছেন হাসপাতালেই। কিন্তু, মেরুদণ্ড সোজা করে আর দাঁড়াতে পারবেন না কেনোশার এই কৃষ্ণাঙ্গ যুবক। তাঁর আইনজীবী জানিয়েই দিয়েছেন, জ্যাকব ব্লেক পঙ্গু হয়ে গিয়েছেন। যদি ভবিষ্যতে আবার স্বাভাবিক হাঁটতে পারেন, সেটা হবে অঘটন!
আরও পড়ুন: কেনোশায় পুলিশেরই পক্ষ নিলেন ট্রাম্প, বিক্ষোভকে দেগে দিলেন ‘ঘরোয়া সন্ত্রাস’
অত্যাচারের শেষ এখানেই নয়। দু-দিন আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে মার্কিন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন আরও একজন কৃষ্ণাঙ্গ। ডিজন কিজ্জি। বয়স ২৯। পুলিশের দাবি, নিহত ব্যক্তির কাছে বন্দুক ছিল। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় তাঁর হাত থেকে বন্দুকটি পড়ে যায়। কিন্তু, পুলিশ যে সাফাই দিক, প্রশ্ন উঠেছে দেশে কারাগার বলে একটা বস্তু আছে। বিচার ব্যবস্থা আছে। সেখানে পুলিশ নিজেই কেন এক একজনকে প্রাণে মেরে দিচ্ছে? শুধুমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ বলেই।
আরও পড়ুন: ফের এক কৃষ্ণাঙ্গকে গুলি করে মারল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুলিশের কোনও দোষ দেখতে পান না। যে পুলিশ জ্যাকব ব্লেককে বিনা অন্যায়ে গুলি করে, কেনোশা শহরে গিয়ে সেই পুলিশের পিঠ চাপড়ে দেয় প্রশংসায়। পুলিশের পক্ষ দিয়ে বিক্ষোভকারীদের দিকে উলটে অভিযোগের আঙুল তোলেন। বিক্ষোভকে দেগে দেন ‘ঘরোয়া সন্ত্রাস’ বলে।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
