হাইলাইটস
- মৃত বাঘিনীর দেহ জঙ্গলে রুটিন টহলদারির সময় দেখতে পান বন দফতরের কর্মীরা।
- বাঘিনীর মাথা থেকে মাংস খুবলে খেয়েছিল অন্য বাঘটি।
মধ্য প্রদেশের উমারিয়া জেলার বান্ধবগড় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পে এই ঘটনা ঘটেছে। মৃত বাঘটির ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ জঙ্গলের বাফার এলাকা হিসেবে পরিচিক ধামোকর থেকে উদ্ধার করা হয়। মৃত বাঘিনীর দেহ জঙ্গলে রুটিন টহলদারির সময় দেখতে পান বন দফতরের কর্মীরা। বাঘিনীর মাথা থেকে মাংস খুবলে খেয়েছিল অন্য বাঘটি। মৃত বাঘিনীর শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিক ছিল।
বাঘিনীর মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বান্ধবগড় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পের সিনিয়র আধিকারিকরা। ফিল্ড ডিরেক্টর ভিনসেন্ট রহিম জানিয়েছেন, ‘ওই বাঘিনীর মৃত্যু যে এলাকা দখলের লড়াইয়ে হয়েছে তা স্পষ্ট। জয়ী বাঘ খুব সম্ভবত মৃত বাঘিনীর থেকে বেশি বয়সী। লড়াইয়ে বাঘিনীর কাঁধের হাড় ভেঙে যায়।’
বিশ্বকে বাঘ সংরক্ষণ শেখাতে চায় ভারত
লড়াইয়ে স্থলের চারপাশে ৪০-৫০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে পুরুষ বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছে। ওই এলাকাতেই যে লড়াই হয়েছিল তা পায়ের ছাপ থেকেই স্পষ্ট। বাঘিনীর মাথার খুলিও ভেঙে গিয়েছে। তার সারা গায়ে লড়াইয়ের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। মাটিতে চারপাশে রক্তের দাগও স্পষ্ট। এর থেকেই প্রমাণিত যে এলাকা দখলের জন্য ভয়াবহ লড়াই হয়েছে ওখানে। বাঘিনীর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করে দেখা গিয়েছে যে তিন বছর বয়সী ওই বাঘিনী মাত্র কয়েক মাস আগে তার মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
বাঘ একা একা থাকতে ভালোবাসে এবং নিজের এলাকায় অন্য কোনও বাঘকে সে মোটেও বরদাস্ত করতে পারে না। একটি বাঘের এলাকা জঙ্গলের পাঁচ থেকে তিরিশ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঘের এলাকার পরিমাণও কমে যায়। এছাড়া শিকার কমে এলে বা ওই এলাকার আবহাওয়ার অবনতি হলেও অনেক সময় বাঘ নিজের এলাকা পরিবর্তন করে।
গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রদেশে এলাকা দখলের লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে ১০টিরও বেশি বাঘের। বান্ধবগড়েই এলাকা দখলের লড়াইয়ে গত পাঁচ মাসে চারটি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহে সান্টার মাছগাভান এলাকাতেও একটি বাঘের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এই বাঘটির মৃত্যুও এলাকা দখলের লড়াইয়ে হয়েছে বলে মনে করছেন বন আধিকারিকরা।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
