হাইলাইটস
- মুর্শিদাবাদে আবার জঙ্গিযোগ
- জঙ্গি সন্দেহে জলঙ্গিতে বিএসএফের হাতে গ্রেফতার আরও ১
- ধৃত পেশায় রাজমিস্ত্রি
- কর্মসূত্রে ২ বছর কেরালায় কাটিয়ে জলঙ্গির বাড়িতে এক বছর আগে ফিরেছিলেন আনসারি
কে এন শামিম আনসারি? এলাকার লোকজন জানাচ্ছেন শামিম পেশায় রাজমিস্ত্রি। দু-বছর কেরালায় থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করে একবছর হল দেশে ফিরেছেন। জলঙ্গির নওদাপাড়ার বাড়িতে স্ত্রী-পরিবার নিয়ে একবছর ধরে রয়েছেন। মুর্শিদাবাদে ফিরেও রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। এই যুবকের আচার-ব্যবহারে এমন কিছু প্রতিবেশীরা দেখেননি, যাতে সন্দেহ করা যায়।
কিন্তু, বিএসএফ সূত্রে শুক্রবার দাবি করা হয়েছে, শামিম আনসারি ডোমকলের আল মামুনের ঘনিষ্ঠ। গত শনিবার আল-কায়দা জঙ্গি দাবি করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ যে ৬ জনকে দিল্লিতে ধরে নিয়ে গিয়েছে, তাদেরই একজন আল মামুন।
এনআইএ’র একটি সূত্রে সম্প্রতি দাবি করা হয়, মুর্শিদাবাদে ধৃতদের হোয়াটসঅ্যাপে একটি গ্রুপ ছিল। সেই গ্রুপে কথোপকথনের পর সমস্ত চ্যাট ডিলিট করা হতো। ছ’জন ধরা পড়ার পর ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সূত্র ধরে বাকিদের খোঁজও শুরু করেছেন এনআইএ’র গোয়েন্দারা। তাঁদের সন্দেহের তালিকায় মালদার দুই যুবকও রয়েছে। ছ’জনের ফোনকলও পরীক্ষা করা হয়েছে।
কেন্দ্রের এই গোয়েন্দারা আগেই জানিয়েছেন, সন্দেহের তালিকায় আরও অনেক জন রয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়ে রয়েছে জঙ্গি নেটওয়ার্ক। এনআইএ’র ইঙ্গিতেই শামিম আনসারির গ্রেফতারি বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: অস্ত্র সরবরাহে কাশ্মীরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল ধৃত আল-কায়দা জঙ্গিদের
যদিও, বিএসএফের তরফে তেমন কিছু জানানো হয়নি। বিএসএফের একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় জলঙ্গির নওদাপাড়া থেকে শামিমকে সন্দেহের ভিত্তিতেই আটক করা হয়েছে। গত সপ্তাহে মুর্শিদাবাদের ডোমকলের এই জলঙ্গি-সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকেই ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় গ্রেফাতারিতে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারত সরকার ও সেনা বাহিনীকে সরাসরি ভিডিয়ো হুমকি আল কায়দা প্রধানের!
শামিমের স্ত্রী চাঁদতারার অভিযোগ, তাঁর স্বামীকে আচমকা এসে ধরে নিয়ে গিয়েছে বিএসএফের জওয়ানরা। তাঁর দাবি, আটক করার আগে ঘরে তল্লাশি করা হয়নি। কোনও জিগ্যাসাবাদও করা হয়নি। কোন অপরাধে শামিমকে বিএসএফ ধরে নিয়ে গেল, তা পরিবারের সদস্যদের জানায়নি বিএসএফ। শামিমের বৃদ্ধ মা মাগফোরা বেওয়ার অভিযোগ, পুলিশ এসে ছেলের নাম পর্যন্ত জিগ্যেস করেন। কারও সঙ্গে একটি কথাও বলেনি। ফলে, কারা এসে ছেলেকে ধরে নিয়ে গেল, প্রথমে তাঁরা বুঝতেই পারেননি। পরে জানতে পারেন বিএসএফ এসেছিল।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
