indian army in ladakh: শীতে তোপ দাগতে তৈরি – indian army in ladakh is preparing to combat with winter in china

চুমার-ডেমচক: শীতের লাদাখে চিনের মোকাবিলার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সেনা। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার চিত্র অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ১৪,৫০০ ফুট উঁচুতে লালফৌজের মোকাবিলা করতে তৈরি ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া বাহিনী। আর এই পুরো বিষয়টির দায়িত্বে ভারতীয় সেনার ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কোর’, যারা প্রবল ঠান্ডা, পার্বত্য এলাকাতেও যুদ্ধ করতে পারদর্শী। বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচেনেও পরিস্থিতি সামলায় এই ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কোর’।

আগে, শীতকালে কঠিন আবহাওয়ার কারণে লাদাখে সেনা মোতায়েন রাখা হতো না। কিন্তু গত কয়েক মাসে লাদাখে চিনা সেনা যে আগ্রাসন দেখিয়েছে, তাতে এ বারের শীতে পরিস্থিতি একেবারে আলাদা। কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনা চলছে। আর তাতে নতুন করে সেনা না বাড়ানো এবং একপাক্ষিক ভাবে স্থিতাবস্থা নষ্ট না করার ব্যাপারে একমত হয়েছে দুই দেশ। কিন্তু চিনা সেনা এগিয়ে আসা অবস্থান থেকে একচুলও হঠেনি। ফলে, শীতে প্রবল তুষারপাতের সুযোগে তারা যে আবার কোনও আগ্রাসন দেখাবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই। আর তাই, কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ভারত। প্রবল ঠান্ডাতেও কাজ করতে পারে, এমন ট্যাঙ্ক, অস্ত্রশস্ত্রের ভান্ডার সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। সেনাদের জন্য তৈরি হচ্ছে শীত নিরোধক বিশেষ আবাস।

পূর্ব লাদাখের চুমার-ডেমচক এলাকায় ভারতীয় সেনা টি-৯০ এবং টি-৭২ ট্যাঙ্ক তৈরি রেখেছে, সেই সঙ্গে প্রস্তুত বিএমপি-২ কমব্যাট ভেহিকেল-ও। এগুলো মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও কাজ করতে সক্ষম। পূর্ব লাদাখের বেশ কিছু এলাকায় রাতে তাপমাত্রা মাইনাস ৩৫ ডিগ্রিতেও নেমে যায়, সঙ্গে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা হাওয়া। সেই পরিস্থিতি মাথায় রেখেই এই রণসজ্জা।

মেজর জেনারেল অরবিন্দ কাপুরের কথায়, ‘ভারতীয় সেনার ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কোর’ একমাত্র এ ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করতে পারদর্শী। এই উচ্চতায়, পাহাড়ি ঠান্ডায় ট্যাঙ্ক, কমব্যাট ভেহিকেল, বন্দুকের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সেনা তৈরি রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেটারই দায়িত্ব নিয়েছে ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কোর’।’ ভারতের সাঁজোয়া বাহিনীকেও তৈরি রাখা হয়েছে, যাতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় কোনও সমস্যা দেখা দিলে কয়েক মিনিটের মধ্যে তারা পৌঁছে যেতে পারে। ২৯-৩০ অগস্ট ভারতীয় সেনা যখন প্যাংগং লেকের বেশ কিছু উঁচু অংশে ঘাঁটি গাড়ে, তখন সক্রিয় হয়ে উঠেছিল চিনা সেনার ট্যাঙ্ক। আর সেই খবর পেয়ে কয়েক মিনিটে এসে পৌঁছেছিল ভারতের সাঁজোয়া বাহিনী। ফলে, মহড়া ইতিমধ্যেই সারা।

তিব্বত মালভূমির যে অংশ চিনের দখলে, সেখান থেকে ট্যাঙ্ক চালানো সহজ। সেই হিসেবে অ্যাডভান্টেজ চিন। কিন্তু জবাব দিতে ভারতও পার্বত্য এলাকায় ট্যাঙ্ক চালানোর প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কোর’-এর চিফ অফ স্টাফ অরবিন্দের কথায়, ‘সেনার জন্য বিশেষ শীতপোশাক যেমন এসেছে, তেমনই তা পরে লড়াই করার প্রশিক্ষণও চলছে। পুরো শীতকাল জুড়েই এই মহড়া জারি থাকবে, যাতে যে কোনও পরিস্থিতি সঙ্গে সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়।’

প্রবল ঠান্ডা ও হাওয়ার কথা মাথায় রেখে প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড কন্টেনার দিয়ে সেনা ছাউনি তৈরি হচ্ছে, যাতে সিমেন্ট ও বালির ব্যবহার যৎসামান্য। তাতে রান্নাঘর, শৌচালয়ের পাশাপাশি থাকছে টিভি এবং সেট-টপ বক্সের কানেকশনও! সেনার জন্য হাই ক্যালোরি ডায়েট, পুষ্টিকর রেশন, জ্বালানি, তেল, পর্যাপ্ত শীত পোশাক এবং হিটিং অ্যাপ্লায়েন্স- সবই মজুত।

আপাতত, শীতকে পাখির চোখ করেই ঘুঁটি সাজাচ্ছে ভারত। লালফৌজের আগ্রাসনের জবাব দিতে তৈরি ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কোর’।

এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

অনুপম হাজরাকে ঘিরে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব, Conflict in BJP as portion of party workers protested against Anupam Hazra in Baruipur

Mon Sep 28 , 2020
স্বাগত অনুপম হাজরা দিনের শুরুটা ছিল ভালই। ঢালাই ব্রিজ এলাকায় অনুপম হাজরাকে স্বাগত জানানো হয়। সদ্য কেন্দ্রীয় সম্পাদকের পদ পাওয়া নেতার নাম ধরে স্লোগান ওঠে। নেতা নিজে কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাঁকে নিয়ে শুরু হয় বাইক মিছিল, বারুইপুরের উদ্দেশে। বারুইপুরে পৌঁছতেই বিক্ষোভ অনুপম হাজরা বারুইপুরে পৌঁছতেই বিক্ষোভ শুরু […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts