নিজস্ব প্রতিবেদন: একশো তিরিশ কোটির দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ ছুয়েছে। তবে ভরসা যোগাচ্ছে সুস্থতার হার। দেশে সুস্থতার হার প্রায় ৭৩.১৪ শতাংশ। করোনার কার্ভ একটু একটু করে নামছে। এটা সাফল্য তো বটেই। ভারতের মতো জনবহুল দেশ, যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, সেখানে এই লড়াই মোটেই সহজ নয়। তবু আমরা লড়ে যাচ্ছি!
কিছু পরীক্ষায় নম্বর কম পাওয়াই সাফল্য। করোনা তেমনই চ্যালেঞ্জ। এই যুদ্ধে দৈনিক সংক্রমণে সেঞ্চুরি করতে পারেনি ভারত। ১২ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে সংক্রমিত হয়েছিলেন ৯৫ হাজারের বেশি মানুষ ১২ সেপ্টম্বরের পরিসংখ্যানই এখনও পর্যন্ত ভারতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে সংক্রমণের হার কমছে। বাড়ছে সুস্থতার হার। কমছে মৃত্যুহারও।
২৬ অক্টোবর দেশজুড়ে দৈনিক সমক্রমণ নেমে এসেছে ৩৬ হাজারে। ২৬ অক্টোবর ভারতে করোনায় সুস্থতার হার ৯০%-র বেশি। ভারতে প্রতি ১০০ সংক্রমিতে মৃত্যুহার ১.৫ জনেরও কম। ১৪ টি রাজ্যে প্রতি ১০০ সংক্রমিতে মৃত্যুহার ১ জনের কম। প্রতি ১০০ পরীক্ষায় সংক্রমিতের হার কমে হয়েছে ৩.৮১%
আরও পড়ুন: কো জাগর! কিন্তু কে জাগবে এই তুমুল অন্ধকারে!
সাতদিনের গড় সংক্রমণের হারও ৫০ হাজারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ ও আমেরিকার যা পরিস্থিতি, ভারতের করোনা সংক্রমণের প্রকৃতি তা নয়। ভারতে করোনা সংক্রমণের হার কখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। মে থেকে সেপ্টেম্বরে ধীরে ধীরে শীর্ষে পৌঁছেছে করোনা সংক্রমণ। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সংক্রমণের হার ফের নিম্নমুখী।
তবে করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী, একথা স্বাস্থ্যমন্ত্রক এখনও সরকারিভাবে ঘোষণা করেনি। উত্সবের মরশুমের ঝুঁকির মাথায় রেখে, কিছুটা সতর্কভাবেই পা ফেলতে চায় সরকার। পরিসংখ্যান দেখে সিদ্ধান্তে পৌছতে চান না চিকিত্সা বিশেষজ্ঞরাও। কারণ একাধিক। ভারতের শহরাঞ্চলেই কো মরবিড বা স্বাস্থ্যগত দুর্বল মানুষের সংখ্যা বেশি। অনুমান, শহরাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষকে সংক্রমিত করেছে কোভিড। নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হওয়াতেই কি করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী? উত্সবের শিথিলতায় গ্রামীণ ভারতেও কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়তে পারে
চিকিত্সা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার জন্য আগামী কয়েকমাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণও বটে। কারণ, নভেম্বর থেকে উত্তর ভারতে তাপমাত্রার পারদ নামতে শুরু করবে। উত্তর ভারতের শহরাঞ্চলে দূষণের ধোঁয়াশাও উঁকি দিতে শুরু করেছে। শীত ও দূষণে করোনা সংক্রমণ ফের বিপজ্জনক হারে বাড়তে পারে করোনা একবার গ্রামাঞ্চলে ছড়াতে শুরু করলে, সেই পরিস্থিতিও খুব স্বাস্থ্যকর হবে না। তাই করোনা সংক্রমণের হার কমে গেলেও স্বস্তিতে থাকার উপায় নেই। বলছেন চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা।
