Subhash Bhowmick writes on poila boishak in kolkata moidan

পয়লা বৈশাখ (Pohela Boishakh 2021) ও ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি’ ফুটবল এক সুতোয় বাঁধা। বাংলা নববর্ষের প্রথমদিন কলকাতার দুই প্রধান ক্লাব-ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) ও মোহনবাগানের (Mohun Bagan) কাছে বাকি আর পাঁচটা দিনের থেকে অবশ্যই আলাদা। যুগ যুগ ধরে এই দিনে সেখানে নিষ্ঠার সঙ্গে হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী বার পুজো। ক্লাবের সাফল্যের কামনায় কর্মকর্তা থেকে ফুটবলার ও সমর্থকরা ওই দিনটা ভক্তি ভরে উদযাপন করেন। ২৪ ঘণ্টা ডিজিট্যালে পয়লা বৈশাখের স্মৃতিচারণ করলেন সুভাষ ভৌমিক (Subhash Bhowmick)। দেশের প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ফুটবলার ছয়-সাতের দশকে যেমন দুই ক্লাবের হয়ে চুটিয়ে ফুটবল খেলেছেন, তেমনই নয়ের দশকের পরে তিনি এই দুই ক্লাবেই করিয়েছেন কোচিং। 

সুভাষ ভৌমিক 

সময়ের সঙ্গেই পয়লা বৈশাখের মানে বদলে গেল। ছোটবেলায় নতুন বছরের প্রথম দিন ছিল একেবারে অন্য জিনিস ছিল। মা-বাবা-দাদুর থেক জামা-কাপড় পাওয়ার একটা আলাদাই আনন্দ ছিল। খেলার মাঠে যখন এলাম, দেখলাম বার পুজো বলে আবার একটা জিনিস হয়। আমি অবশ্য় আজও এর মানে খুঁজে পাই না। আচ্ছা বার পুজো করে কী হবে? পোস্টে কি গোল ঢুকবে! এর চেয়ে প্র্যাকটিস করলে কাজে দেবে, কেন যে বার পুজো শুরু হয়েছিল কে জানে! কেউ দক্ষিণেশ্বরে তো কেউ কালীঘাটে গিয়ে মা কালীর পুজো দিয়ে এসে, মায়ের পায়ের ফুল বারপোস্টে এসে ছোঁওয়ায়। এতে কী লাভ হয় তা ভগবানই জানেন! আমি ঈশ্বরে যদিও বিশ্বাস করি। কিন্তু বারে ফুল দিয়ে পুজোয় বিশ্বাস করি না। এর চেয়ে বরং বল পুজো শুরু হোক, ওটাই তো আমাদের অস্ত্র।”

পয়লা বৈশাখ বললেই খাওয়াদাওয়ার কথাও বলতে হয়। পশ্চিমবঙ্গ আর পূর্ববঙ্গ তো মিশে গিয়েছে। ঘটি-বাঙালের সৌজন্য়ে যে, এখানে এতরকমের রান্না আছে যে বলে শেষ করা যাবে না। তবে আমি কিন্তু বলব মিষ্টির কথা। আমার কাছে ভালবাসা বলতে মিষ্টি। এই রাজ্যে জেলাভিত্তিক এত ভাল ভাল মিষ্টি আছে তার সত্য়িই তুলনা হবে না। যেমন ধরুন মালদহের কানসার্টের চমচম, কৃষ্ণনগরের সরভাজা। কলকাতায় বসে সরভাজা পেলেও, মনোহরা কিন্তু আজকাল দেখতে পাই না সেভাবে। এই মিষ্টিগুলির স্বাদ অতুলনীয়।

আরও পড়ুন- বাঙালিয়ানা মুখ না মুখোশ! সেটা প্রমাণের সঙ্কল্পই বরং করি এই নববর্ষে

আজকের দিনের বিশেষ স্মৃতি বলতে গেলে অবশ্যই বলতে হবে মোহনবাগান ক্লাব ও ধীরেনদা’র (মোহনবাগান ক্লাবের প্রবাদপ্রতিম কর্মকর্তা ধীরেন দে) কথা। পয়লা বৈশাখের দিন ধীরেনদা নিজে হাতে পাঁঠার মাংস রান্না করে সকলকে খাওয়াতেন। সেই স্বাদ এখনও মুখে লেগে আছে। একদম সকাল সকাল মাঠে চলে আসতেন উনি। এখনও মনে পড়ে তসরের ধুতি-পাঞ্জাবী পড়ে হাতে বটুয়া নিয়ে মোহনবাগান ক্লাবে ঢুকতেন উনি। আর ওই বটুয়ার মধ্যে থাকত রুপোর কয়েন। এই কয়েন তিনি আমাদের হাতে দিতেন। ধীরেনদা চলে যাওয়ার পর আর সেভাবে মোহনাবাগানে উদযাপন হয় না। ইস্টবেঙ্গলে বরাবরই ওই মিষ্টিমুখের মধ্যে পয়াল বৈশাখ সীমাবদ্ধ ছিল। দিনটা হই-হই করে আনন্দে। এখন এগুলোই মনে পড়ে আমার। 

অনুলিখন: শুভপম সাহা

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

Biden: 'I won't pass Afghan war on to fifth president'

Wed Apr 14 , 2021
President Biden announces the withdrawal of all US troops by 11 September. Source link

Breaking News

Recent Posts