খাইবার পাখতুনখোয়ার আর্কিওলজি অ্যান্ড মিউজিয়ামের ডিরেক্টর আবদুস সামাদ খান একটি সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, বুদ্ধ মূর্তিটির ভাঙা অংশ একত্র করা হয়েছে এর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব যাচাই করার জন্যে। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে এটি খুবই প্রাচীন মূর্তি ছিল, যা আমরা হারিয়ে ফেললাম।’ Dawn সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন, গোটা এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া আর্কিওলজিকাল দফতর থেকে এই ঘটনার কথা ট্যুইট করে জানানো হয়েছে।
আর্কিওলজি অ্যান্ড মিউজিয়ামের ডিরেক্টর আবদুস সামাদ খানের মতে এই ধরনের কাজ গুরুতর অপরাধের সমান। যে কোনও ধর্মকে অপমান করা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। দুষ্কৃতিদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্যে তিনি পুলিশকেও ধন্যবাদ জানান।
তখত ভাই একটা সময়ে বৌদ্ধ গান্ধারা রাজ্যের অংশ ছিল। প্রায় ১ হাজার বছর আগে বর্তমানের পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান জুড়ে ছিল এর বিস্তৃতি। শ্রীলঙ্কা, কোরিয়া এবং জাপান থেকে বহু পর্যটক এখানে আসতেন। খাইবার পাখতুনখোয়ার পুরনো নামই ছিল গান্ধারা। এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই জায়গা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে দুটি বিরল এবং বহু প্রাচীন বুদ্ধ মূর্তি হরিপুট জেলার ভামালার আর্কিওলজিকাল সাইটে আবিষ্কার করা হয়েছিল। সর্ব বৃহত্ মূর্তিটিতে বুদ্ধের মৃত্যু বর্ণিত ছিল এবং দ্বিতীয়টি ছিল দুটি জ্যোতিশ্চক্রের সামনে বুদ্ধের বসে থাকা। এরই মধ্যে যে মূর্তিতে বুদ্ধে মৃত্যু বর্ণিত ছিল, সেটি বিশ্বে প্রাচীনতম বলে মনে করা হয়। এর সত্যতা যাচাই করেছিল আমেরিকান ল্যাবোরেটরিও। তাদের মতে এই মূর্তিটি খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের চেয়েও প্রাচীন। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের পেশাওয়ার জাদুঘরে বুদ্ধের সবচেয়ে বেশি মূর্তির সংগ্রহ রয়েছে। কয়েক বছর আগেই এই জাদুঘর থেকে স্কিস্ট পাথরে তৈরি বুদ্ধে সবচেয়ে বড় মূর্তিটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সুইত্জারল্যান্ডে। একটি আন্তর্জাতিক এগজিবিশনে সেটি প্রদর্শিত ছিল টানা ১০০ দিন।
