হাইলাইটস
- পাকিস্তানে ফের বিস্ফোরণ
- বিস্ফোরণ খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশের পরচিনা শহরের তুরি বাজারে
- এটি খোলা বাজার, কাঁচাবাজার থেকে মুদিখানা সবই পাওয়া যায়
- বোমা রাখা ছিল একটি গাড়িতে
- এখনও কেউ বিস্ফোরণের দায় নেয়নি
- কোনও মৃত্যুর খবর নেই, তবে জখম ২০
সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, পরচিনা শহরের তুরি বাজারে এদিন বিস্ফোরণ ঘটে। খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশের কুরাম জেলার মধ্যে এই শহরটি। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ মনে করছে, ব্যস্ত বাজারের মধ্যে একটি গাড়িতে বোমাটি রাখা ছিল।
মুদির জিনিসপত্র ছাড়াও শাকসবজি কেনাকাটির ভিড় রোজই থাকে খোলা আকাশের নীচে বসা এই বাজারে। পরিকল্পনা করেই বিস্ফোরক ঠাসা গাড়িটি কেউ বা কারা বাজারে রেখে গিয়েছিল। পাক পুলিশ সূত্রে ২০ জন জখম হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিস্ফোরণ ঘটার কয়েক মিনিটের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই ব্যস্ত বাজারের আপপাশের বিস্তীর্ণ চত্বর নিরাপত্তার চক্রব্যূহে মুড়ে, জোরদার তল্লাশি শুরু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে, আধিবাসী অধ্যুষিত ওই অঞ্চলে শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। যার জেরে মাঝেমধ্যেই সংঘর্ষ হয়।
এদিন বিস্ফোরণের পর স্থানীয় মানুষ পরচিনার প্রেস ক্লাবে হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। বিক্ষোভের জেরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে, পুলিশ গিয়ে আশ্বস্ত করে অবরোধ তোলে।
গত জুনে পাকিস্তানের ‘সেনা শহর’ রাওয়লপিণ্ডির একটি ব্যস্ত মার্কেটে বিস্ফোরণের জেরে একজনের মৃত্যু হয়। আহত হয় কমপক্ষে ১৫ জন। রাওয়লপিণ্ডি শহরের সদর অঞ্চলে এই মার্কেটটি। ঘটনাস্থল থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাধারণ সদর দফতর।
ডনের খবর অনুযায়ী, ওই মার্কেটের সামনেই একটি বিদ্যুত্খুঁটির নীচে বিস্ফোরক পুঁতে রাখাছিল। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত শেষ করার পর ডনের সাংবাদিককে এমনটাই জানিয়েছেন পাকিস্তান পুলিশের এক কর্তা।
বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কেটটিরও ক্ষতি হয়েছে। বিস্ফোরণের পর মার্কেটটি চারপাশ থেকে ঘিরে রাখা হয়। আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন।
পুলিশের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ছাড়াও ফরেন্সিক একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে। কী ধরনের বিস্ফোরক সেখানে ছিল, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
পাকিস্তান পুলিশের মুখপাত্র বলেন, ‘সংগঠিত সন্ত্রাসবাদের একটা প্রচেষ্টা হয়েছে। জনগণের জীবন নিয়ে যারা এ ভাবে খেলছে, আইনের হাত থেকে তারা নিষ্কৃতি পাবে না।’ এখনও পর্যন্ত কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এই হামলার দায় নেয়নি।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বালোচিস্তানের কোয়েটায় তীব্র বিস্ফোরণে জেরে সাত জনের মৃত্যু হয়। কোয়েটায় প্রেসক্লাবের কাছে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার সময় প্রেসক্লাবের কাছে একাধিক গাড়ি দাঁড় করানো ছিল। বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি গাড়ি নষ্ট হয়েছে। ঠিক কী ভাবে এই বিস্ফোরণ, তা এখনও পরিষ্কার নয়। ঘটনায় আহত আরও অন্তত ১৯ জন। ২০২৯ সালের ডিসেম্বরেও ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয় এই কোয়েটাতেই।
