শনিবার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ন’টা থেকে এ দিন সকাল ন’টা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ২৫৮৯ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ৪৮ জনের মধ্যে কলকাতার বাসিন্দা ১৯ জন। উত্তর ২৪ পরগনা (১৩) এবং হাওড়াতেও (৬) এক দিনে মৃত্যুর সংখ্যায় তেমন হেরফের ঘটেনি। চিকিৎসক মহল সূত্রে খবর, সীতাংশুবাবু আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনী ছিলেন। দু’সপ্তাহ দমদমের একটি বেসরকারি হাসপাতালে থাকার পরে দিন পাঁচেক আগে তাঁকে কলকাতা মেডিক্যালে কলেজে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।
দৈনিক নতুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যাবৃদ্ধিতে বেশ কয়েক দিন স্বস্তি দেওয়ার পর গত তিন দিন ধরে ফের বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বৃহস্পতিবার ৫২ হাজার, শুক্রবার ৫৫ হাজার নতুন আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার তা পৌঁছল ৫৭ হাজারে। সঙ্গে সংক্রমণ হারও বাড়ল।
করোনা পরিস্থিতি সামলাতে বোলসোনারোর ব্যর্থতা নিয়ে বহু সমালোচনা হয়েছে। কোভিড নিয়ে প্রথম দিকে বলেছিলেন, ‘‘সামান্য ফ্লু।’’ কখনও মাস্ক পরতেন না। নিজের কোভিড-পজ়িটিভ হওয়ার খবরও সাংবাদিক বৈঠকে মাস্ক না-পরেই ঘোষণা করেন। সুস্থ হওয়ার পরে তিনি একই মেজাজে।
সব চেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে আমেরিকায়, দেড় লাখেরও উপরে। সংক্রমিত ৪৭ লক্ষ। ট্রাম্পের দাবি, পরীক্ষা বেশি হচ্ছে, তাই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।
আগামী অক্টোবরে গণ-ভ্যাকসিনেশন শুরু করবে রাশিয়া। সম্প্রতি রাশিয়া দাবি করেছে, প্রথম প্রতিষেধক আনছে তারাই। মাঝ-অগস্টে সুখবর দেওয়া হবে। চিন ও রাশিয়া ভ্যাকসিন আনলে, তা হয়তো ব্যবহার করবে না আমেরিকা। তেমনটাই শোনা যাচ্ছে ট্রাম্পের অন্দরমহলে।
অসমে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ হাজার পার করে ফেলল। কোভিডে মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ১০১৷ একে অবশ্য খুব উদ্বেগের বলে মনে করছেন না রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত৷ তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে৷ গুয়াহাটিতে সংক্রমণ কমে আসছে৷ তিনি আশাবাদী, ৩১ অগস্টের মধ্যে অবস্থার আরও উন্নতি ঘটবে৷
কোভিড রোগীর (যাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি) ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুমে ফোন করলে শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, শয্যা ফাঁকা হলেই। তবে কন্ট্রোল রুমে ফোন করা এবং শয্যা পাওয়ার মধ্যে সময় অনেকটাই লাগছে, অনেক ক্ষেত্রে। তাই অনেক রোগীর পরিবারই বাধ্য হয়ে বেরিয়ে পড়ছেন বেসরকারি হাসপাতালে শয্যার খোঁজে।
টেলিপাড়াতেও থাবা করোনার। স্টুডিয়োপাড়ায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে,মেকআপ আর্টিস্ট, অভিনেতা সহ ১৪ জন (ফেডারেশনের মতে ৬ জন) সংক্রমিত। সংক্রমণের ভয়ে গোটা জুন মাস কাজ করেননি অভিনেতা দেবযানী চট্টোপাধ্যায়। প্রযোজকদের সরাসরি জানিয়ে একটি মাস ধারাবাহিক ‘ত্রিনয়নী’-তে অনুপস্থিত ছিলেন। জুলাই থেকে নতুন মেগা ‘যমুনা ঢাকি’ দিয়ে আবার ফ্লোরে ফিরেছেন। তার আগে শুনেছিলেন, চূড়ান্ত সতর্কতা মানা হচ্ছে সর্বত্র।
