হাইলাইটস
- গত ১৫ এপ্রিল, যখন দেশে করোনার প্রকোপ একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে, তখন সুস্থতার হার ছিল মেরেকেটে ১২ শতাংশ!
- যে কারও মনে আতঙ্ক ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু যত সময় গিয়েছে, এই সুস্থতার হার হু-হু করে বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য বলছে, ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনামুক্ত হয়েছেন ৫৭,৫৮৪ জন। এখনও পর্যন্ত এক দিনে এত বিপুল সংখ্যায় রোগীর করোনামুক্ত হওয়ার নজির এই প্রথম। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মোট করোনামুক্ত রোগীর সংখ্যা এখন ২০ লক্ষের কাছাকাছি। সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তের মধ্যে স্বস্তি জোগাচ্ছে এই সুস্থতার হারই, এদিন যা বেড়ে ৭২.৫১ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে।
–করোনা আক্রান্ত রাজের পাশে সাংসদ অভিনেতা দেব। ট্যুইট করে দ্রুত আরোগ্য কামনা করলেন। এদিন রাজ জানিয়েছেন শুভশ্রী-সহ বাকিদের করোনার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
— ইউনাইটেড কিংডমের রয়্যাল অ্যাকাডেমি অফ এঞ্জিনিয়ারিং প্রেসিডেন্ট স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড জিতলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পদার্থবিদ রবি সোলাংকি। করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা করে এই পুরস্কার জিতলেন তিনি।
— এবার করোনা আক্রান্ত হলেন উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অতুল গর্গ। মঙ্গলবার নিজেই ট্যুইট করে সেই খবর সকলকে জানালেন তিনি। এ দিন ট্যুইটারে তিনি জানিয়েছেন, ১৫ তারিখ সোয়াব টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এর পর আবার টেস্ট করতে দেওয়া হলে সোমবার রাতে কোভিড পজিটিভ আসে রিপোর্টে।
— এ বার করোনাভাইরাসের খাঁড়া নেমে এল মার্কস অ্যান্ড স্পেনসারের (Marks & Spencer) কর্মীদের উপর। এই সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে, আগামী তিন মাসে তারা ৭০০০ কর্মী ছাঁটাই করবে। স্টোর এবং ম্যানেজমেন্ট উভয় ক্ষেত্রেই কর্মী ছাঁটাই হবে বলে জানানো হয়েছে।
— মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত মেডিক্যাল বুলেটিনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নয়া সংক্রমণে মোট আক্রান্তের সংখ্য়া হয়েছে ২৭,০২,৭৪৩ জন। এখনও চিকিত্সাধীন রয়েছেন ৬,৭৩,১৬৬ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৯,৭৭,৭৮০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫৭,৯৩৭ জন। এখনও পর্যন্ত দেশে সুস্থতার হার ৭৩.১৮%। মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫১,৭৯৭। মৃতের হার ১.৯২ শতাংশ।
— গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৮,৯৯,৮৬৪ জনের কোভিড পরীক্ষা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
আরও নামল গ্রাফ! একদিনে দেশে করোনায় সংক্রমিত কমে ৫৫ হাজার, আক্রান্ত ছাড়াল ২৭ লাখ
— ফের দিল্লির এইমস-এ ভর্তি হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগে তাঁর করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছিল।
BREAKING: মাঝরাতে AIIMS-এ ভর্তি অমিত শাহ, রয়েছেন পর্যবেক্ষণে
— মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে করোনায় মৃতের মোট সংখ্যা ৫০, ০০০ ছাড়িয়ে গেল। এখনও পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি।
গত ১৫ এপ্রিল, যখন দেশে করোনার প্রকোপ একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে, তখন সুস্থতার হার ছিল মেরেকেটে ১২ শতাংশ! যে কারও মনে আতঙ্ক ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু যত সময় গিয়েছে, এই সুস্থতার হার হু-হু করে বেড়েছে। মে মাসে তা ২৭ শতাংশে পৌঁছে যায়, জুনে একলাফে ৫০ শতাংশে। জুলাইয়ে ৬০ শতাংশ ছুঁয়ে অগস্টের ১৭ তারিখে তা ৭২ টপকে গেল।
বাংলাতেও একই ছবি। এ যাবৎ মোট ১.১৬ লক্ষ আক্রান্তের মধ্যে রোগমুক্তি হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার ব্যক্তির। অর্থাৎ, সুস্থতার হার ৭৫ শতাংশেরও বেশি। একই ভাবে দেশে পাল্লা দিয়ে কমেছে করোনায় মৃত্যুর হারও। জুনে যা ছিল ৩.৩৩ শতাংশ, এখন তা কমে ১.৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
আশাহত হবেন না! বাংলায় একদিনে সুস্থ প্রায় ৩ হাজার মানুষ, কমল মৃত্যুর সংখ্যাও
ক্রমাগত বেড়ে চলা করোনা পরীক্ষার হারই এই জোড়া স্বস্তির বেশ কয়েকটি কারণের মধ্যে অন্যতম বলে মনে করছেন অনেকে। আইসিএমআরের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র রবিবারই দেশে মোট ৭ লক্ষ ৩১ হাজার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের মতে, এর নেপথ্যে কোনও সরল ব্যাখ্যা নেই। চিকিৎসকরা মনে করছেন, করোনার চিকিৎসায় লাগাতার উন্নতি এই মৃত্যুহার কমার সবচেয়ে বড় কারণ। তাৎপর্যপূর্ণ কারণ হল নভেল করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা (ভিরুল্যান্স) কমে যাওয়াও। তবে টেস্ট বৃদ্ধির ভূমিকাও যে একেবারেই নেই, তা নয়।
তবে, সংক্রমণের ব্যপ্তি এখনও উদ্বেগে রেখেছে বিশেষজ্ঞদের। এ দিনও দেশে নতুন করে পজিটিভ হয়েছেন ৫৭,৯৮২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৯৪১ জনের। যার জেরে দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা এ দিন ৫০ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। গত প্রায় দশ দিন দৈনিক আক্রান্তের নিরিখে বিশ্বে এক নম্বরে রয়েছে ভারত! ব্রাজিল, আমেরিকার মতো দেশকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে। মোটের উপর দেশের প্রায় সমস্ত রাজ্য থেকে সংক্রমণের খবর এলেও, কয়েকটি রাজ্যে তা এখনও লাগামছাড়াই রয়েছে। তালিকায় প্রথম সারিতে নাম মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং উত্তরপ্রদেশের।
প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বক্সার সরিতা দেবীও করোনায় আক্রান্ত
এদিকে রাজ্যের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোভিড রোগীদের স্বাস্থ্যের অবস্থা পরিবারের সদস্যদের জানাতে কোভিড পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর কথা আগেই ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। সোমবার থেকে সেই সিস্টেম কাজ করা শুরু করল বলে নবান্নে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। তিনি জানান, এই সিস্টেমের মাধ্যমে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, এমআর বাঙুর এবং রাজারহাট চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীদের হাল-হকিকত খোঁজ পাবেন রোগীর পরিজনরা। স্বাস্থ্য দপ্তরের ওয়েবসাইটে (wbhealth.gov.in) দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করে রোগী ভর্তির সময় স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে জমা থাকা পরিজনের নম্বর দিলেই সেই নম্বরে আসবে ওটিপি। সেই ওটিপি দিলেই স্ক্রিনে ভেসে উঠবে রোগীর যাবতীয় তথ্য।
মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, প্রতি দু’ঘণ্টা অন্তর এই তিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর তথ্য আপডেট করা হবে। রাজীব সিনহা বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের সব কোভিড হাসপাতালের তথ্যই কোভিড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম মারফত পেতে পারবেন রোগীর আত্মীয়েরা।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
