গোটা রাজ্যের পাশাপাশি বীরভূমেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২০ অগস্ট ওই জেলায় একদিনে ৩৭ জনের শরীরে এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তারাপীঠ মন্দিরের পার্শবর্তী এলাকায় করোনা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে বলে জানা গিয়েছে। যে কারণে আগামী ২৪ অগস্ট, সোমবার থেকে দর্শনার্থীদের জন্য তারাপীঠ মন্দিরের দরজা ফের খুলে দেওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্দির কমিটি এবং সেবায়েতদের এদিনের বৈঠকে।
মন্দির খোলা প্রসঙ্গে তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এই এলাকায় করোনা সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাই সমস্ত নিয়মবিধি মেনে আমরা আগামী সোমবার থেকে মন্দির খুলছি। সংক্রমণ ঠেকাতে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সেগুলি নেওয়া হবে।’ দর্শনার্থীদের আগের মতোই কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তারাপীঠের হোটেলগুলিতে কী কী স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে, প্রশাসনের তরফে সেই সংক্রান্ত সবিস্তার নির্দেশিকা বহু আগেই প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মানুষের জীবন আগে, করোনা আবহে অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ হচ্ছে তারাপীঠ মন্দির!
মন্দির সূত্রে খবর, আপাতত গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না দর্শনার্থীদের। বাইরে থেকে দর্শন করেই ফিরতে হবে। সকল দর্শনার্থী ও সেবায়েতদের ক্ষেত্রে মাস্ক এবং হ্যান্ড গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক। সেইসঙ্গে মন্দিরে প্রবেশের আগে প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এই কাজের জন্য মন্দির চত্ত্বরে করা হয়েছে মেডিকেল ক্যাম্প।
আরও পড়ুন: বাংলায় সংক্রমণের নয়া রেকর্ড, কলকাতাকে টেক্কা উত্তর ২৪ পরগনার
গত জুন মাসেই তারাপীঠ মন্দিরের তিনটি গেটে স্যানিটাইজার ট্যানেল বসানো হয়েছিল। দর্শনার্থীরা তার ভিতর দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করবেন। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে পুন্যার্থীদের দাঁড়াতে হবে। প্রত্যেকের সঙ্গে কম করে ৬ ফুট দূরত্ব রেখে মন্দির চত্বরে দাঁড়াতে হবে। আগের মতো গর্ভগৃহে প্রবেশ করে কোনও পুজো বা অঞ্জলির ব্যবস্থা থাকছে না নতুন নিয়মে। শুধুমাত্র সেবায়েতরাই গর্ভমন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন। দর্শনার্থীদের হয়ে সেবায়েতরাই পুজো দিয়ে আসবেন। আগের মতো কোনও সিঁদুর, চরণামৃত দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে না। নাট মন্দির থেকে বিগ্রহ দর্শন করে ফিরতে হবে দর্শনার্থীদের।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
তথ্য সহায়তা: হেমাভ সেনগুপ্ত
