বেজিঙের ওই মুখপাত্রের দাবি, নতুন চিন প্রতিষ্ঠার সত্তর বছরের মধ্যে চিন কখনোই কোনও যুদ্ধ বা সংঘাতকে উসকে দেয়নি। অন্য দেশের ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি দখলও করেনি। চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, চিন সবসময় এলএসি কঠোর ভাবে মেনে এসেছে। কখনও নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করেননি।
বেজিঙের এই দাবির সঙ্গে যদিও বাস্তবের এতটুকু মিল নেই। ভারতীয় সেনা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, একবার নয়, গত তিন দিনে তিন বার ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেছে চিন। সূত্রের খবর, ভারতের দিকে এগিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে অন্তত ৭ থেকে ৮টি চিনা সেনার হেভি ভেহিকল। চিনের চেপুঞ্জি ক্যাম্প থেকে গাড়িগুলি এগিয়ে আসছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীও যে কোনও পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখছে। অনুপ্রবেশ রুখতে সব ধরনের ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে বল সেনা সূত্রে খবর।
সূত্রের খবর, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। জানা গিয়েছে, ২৯ অগস্ট রাতে প্রথম বার ভারতে ঢোকার চেষ্টা চালিয়েছিল লাল ফৌজ। ব্যর্থ হয়ে সোমবার ফের চেষ্টা চালায় চিনা সেনা। এটা ছিল দ্বিতীয়বার। এর পর সোমবার আরও একবার কালা টপের একেবারে কাছাকাছি চলে আসে তারা। কালা টপ আসলে ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে একটি পাহাড়ি এলাকা। ২০১৪ সালে এই কালা টপে তাঁবু খাটিয়েছিল চিন। ভারতের চাপে মাস দুয়েকের মধ্যে তাঁবু খুলে সরে যেতে বাধ্য হয়।
ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, ১৫ জুনের চিনা আগ্রাসন হয়েছিল প্যাংগং লেকের উত্তরাংশে, কিন্তু, ২৯ অগস্ট থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে ওই লেকের দক্ষিণাংশে। ভারতীয় সেনার প্রতিরোধের মুখে পড়ে চিনের প্রতিক্রিয়া, ভারতের পদক্ষেপ চিনের সার্বভৌমত্বে আঘাত এনেছে।’ বলা হয়, ভারতীয় বাহিনী দু’দেশের শান্তি পরিস্থিতিকে নষ্ট করেছে। পালটা হুঁশিয়ারিও অবশ্য বেজিং দিয়েছে।
সোমবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছিল, চিনা সেনারা সপ্তাহান্তে পূর্বের লাদাখ অঞ্চলে উস্কানিমূলক সামরিক সমাবেশ করছে। উত্তেজনা লাঘব করার জন্য সোমবার দু’পক্ষের সামরিক কম্যান্ডাররা বৈঠক করেছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, ভারতীয় সেনারা প্যাংগং তসো হ্রদের দক্ষিণ তীরে পিএলএর এই তত্পরতা আগে থেকেই আঁচ করেছিল।
