হাইলাইটস
- এবার অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- কেরালা, তামিলনাড়ু, ছত্তিশগড়, দিল্লি ও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীরাও একই দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীকে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগেই এ নিয়ে তোপ দেগেছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।
রীতিমতো ক্ষোভ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে লিখেছেন, জিএসটি নিয়ে কেন্দ্র যা ঘোষণা করেছে, তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর থেকে মানুষের ভরসা চলে যাচ্ছে। এটি ভারত সরকারের তরফে আস্থা ও নৈতিক প্রতিশ্রুতিভঙ্গের সামিল। সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।
প্রয়াত অরুণ জেটলির কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘ইউপিএ আমলে ২০১৩ সালে অরুণ জেটলি বলেছিলেন, তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেবে না। তাই জিএসটির বিরোধিতা করা দরকার। কিন্তু নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিই বিজেপি এখন রাখতে পারছে না। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, বিজেপি সরকারের উপর তাহলে কি আর আস্থা রাখা যাবে না?’ রীতিমতো পরামর্শের ঢঙে তিনি লেখেন, কেন্দ্রের উচিৎ টাকা ধার নিয়ে রাজ্যগুলিকে তাদের প্রাপ্য মিটিয়ে দেওয়া দেওয়া। ইচ্ছেমতো কেন্দ্রীয় সরকার নীতি পরিবর্তন করতে পারে না।
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগেই এ নিয়ে তোপ দেগেছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেছিলেন, ‘কোনও দৈবদুর্যোগ নয়, এটা মানুষের তৈরি একটা অ্যাক্ট অফ ফ্রড।’ দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধি এবং জিএসটি আদায় কমে যাওয়ার ঘটনাকে রবিবার এই ভাবেই ব্যাখ্যা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। মোদী সরকারকে তুলোধোনা করে অমিত মিত্র বলেন, জিএসটি ক্ষতিপূরণের নামে রাজ্যগুলির কাঁধে বিপুল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে কেন্দ্র সুপরিকল্পিত ভাবে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো গুঁড়িয়ে ফেলে কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে।
আরও পড়ুন: ‘গড নয়, অ্যাক্ট অফ ফ্রড!’ অমিত মিত্রের তোপে কেন্দ্রের জিএসটি সওয়াল
দিন কয়েক আগেই জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের পর নির্মলা সীতারামনের পাশে বসে কেন্দ্রীয় রাজস্ব সচিব অজয়ভূষণ পাণ্ডে জানিয়ে দেন, গত এপ্রিল মাস থেকে রাজ্যগুলির জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ ১.৫ লক্ষ কোটি টাকে বকেয়া মেটানো হয়নি। তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থ বছরে জিএসটি সেস বাবদ মোট ৬৫,০০০ কোটি টাকা আদায় হবে বলে মনে করা হচ্ছে যেখানে রাজ্যগুলির প্রাপ্য হবে প্রায় তিন লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ, জিএসটি ক্ষতিপূরণ তহবিলে ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ২.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।