বুধবার-ও দশ ঘণ্টা ইন্দ্রজিৎকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই। ডেকে পাঠানো হয় সুশান্তের ফ্ল্যাটমেট সিদ্ধার্থ পিঠানিকে। এ দিনই আবার জানা যায়, হরিশ শেট্টি নামে অভিনেতার যে চিকিৎসকের কথা রিয়া জানিয়েছিলেন, তিনি মুম্বই পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে দাবি করেছেন, ২০১৩ নয়, ২০১৪ সালে সুশান্ত তাঁর কাছে এসেছিলেন অনিদ্রা সংক্রান্ত সমস্যার ওষুধ নিতে। এই দাবি সত্যি হলে রিয়ার দাবি ফের সংশয়ের মুখে। ঠিক যেমন ভাবে প্রশ্ন উঠছে তাঁর মুখ থেকে শোনা সুশান্তের ‘অল বয়েজ’ ব্যাঙ্কক সফর নিয়ে। অভিনেতার ঘনিষ্ঠদের দাবি, সেই সফরে ছিলেন সারা আলি খান-ও।
সুশান্তের পরিবারের ভূমিকাও প্রশ্নাতীত নয়। যে দিদিরা ভাইয়ের মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না বলে পাটনার এফআইআর-এ দাবি করেছিলেন মুম্বই পুলিশের কাছে সেই তাঁরাই জানান, সুশান্ত যে ‘বিষণ্ণ থাকতেন’ সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল পরিবার। এমনকী, ২০১৩ সালে তিনি যে মনোস্তত্ববিদের পরামর্শ নেন, সে কথাও জানিয়েছিলেন দিদিদের। তা হলে এখন অন্য কথা কেন? তা ছাড়া এ দিনই জানা যায়, মৃত্যুর মাসখানেক আগে সুশান্ত একটি ব্যাঙ্কের সঞ্চয়ে ‘নমিনি’ করেছিলেন দিদি প্রিয়াঙ্কাকে। তাই রিয়ার আইনজীবী সতীশ মানশিন্দের ধারণা, এটি ‘আরুষি তলোয়ার হত্যাকাণ্ডের’ প্রতিফলন।
সুশান্তের বাবার আইনজীবী বিকাশ সিং এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে অবশ্য এহেন নেতিবাচক প্রচারের বিরুদ্ধে সরব হন। একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়, অভিনেতার বাবার অনুমতি ছাড়া তাঁর জীবন নিয়ে কোনও ছবি/গল্প/সিরিয়াল কিছু তৈরি করা যাবে না। এ সবের মাঝেই বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর টুইট, ‘ওঁকে সরানোর প্রথম কারণ স্পষ্ট। সুশান্ত বলিউডের গোষ্ঠীর জন্য বড় বেশি স্বাধীন ও প্রতিভাবান ছিলেন। ওঁর সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরেই সরানোর সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয়টি, রাজনৈতিক কারণ। তবে এটির জন্য আরও কিছুটা খোঁজখবর করা দরকার।’