কিন্তু, ভারত-চিনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, তা ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের আলোচনায় মিটিয়ে ফেলা যাবে, এমনটা ভাবা বাড়াবাড়ি। তার পরেও এই বৈঠক যথেষ্ট তাত্পর্যপূর্ণ।
গত মে মাসে চিনের লালফৌজ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে। চিনাসেনার এই আগ্রাসী আচরণের জেরে ১৫ জুন রাতে পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় দু-দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘাত বেধে যায়। রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতে ২০ ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন। লালফৌজকেও এই সংঘাতের মাশুল দিতে হয়েছে। কিন্তু, গলওয়ানে কত জন চিনা সেনা মারা গিয়েছেন, তা গোপন করে রেখেছে বেজিং। তবে, আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দাবি ভারতের প্রায় দ্বিগুণ সেনা মারা গিয়েছে লালফৌজের। গলওয়ানের এই সংঘাতের পর থেকেই দু-দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যে কোনও সময় যুদ্ধ বেধে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি।
আরও পড়ুন: চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে আজ রাতেই বৈঠকে রাজনাথ সিং
আরও পড়ুন: অক্ষয় কুমারের মস্তিষ্কপ্রসূত, অক্টোবরেই আসছে PUBG-র দেশি বিকল্প FAU-G
গলওয়ানের পর, কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে দফায় দফায় আলোচনায় উত্তেজনা খানিক কমলেও, লালফৌজের নতুন করে তত্পরতা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। অগস্টের ২৯. ৩০ ও ৩১ তিন দিনে তিন বার ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করেছিল লালফৌজ। কিন্তু, ভারতের প্রতিরোধে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
প্যাংগং লেক ঘিরে চিনের অতি তত্পরতার কারণে বিগত পাঁচ-ছ’দিন ধরে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ক’দিন ধরেই লাদাখে প্যাংগং লেকের দক্ষিণে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছিল চিন। ভারত তার পালটা জবাবও দিয়েছেন। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় প্যাংগং লেকের উত্তরে ফিঙ্গার ৪-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নেয় ভারতীয় সেনা। ফলে ওই অঞ্চলটি এখন ভারতের নিয়ন্ত্রণে। গত জুন থেকে এখনও পর্যন্ত এই প্রথম সেনা ও স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স ফিঙ্গার ৪-এ এতবড় সাফল্য পেল। এর ফলে প্যাংগংয়ের উত্তরে একেবারে মুখোমুখী হয়ে পড়েছে ভারত ও চিনা সেনা।
তিন দিনের সফরে ২ সেপ্টেম্বর মস্কোয় পৌঁছান রাজনাথ সিং। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলও রয়েছে। রাজনাথের এই সফরের মূল উদ্দেশ্যই ছিল রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সার্জি শোয়েগুর সঙ্গে সেই বৈঠক আগেই হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের খোঁজখবর নেন সার্জি। পাকিস্তানকে রাশিয়া যাতে অস্ত্র না বেচে, ভারত সেই প্রতিশ্রুতিও আদায় করে নেয়। আলোচনার অবসরে রাশিয়ান ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ক্যাথেড্রালও পরিদর্শন করেছেন রাজনাথ। এসসিও, সম্মিলিত সুরক্ষা চুক্তি সংস্থা (সিএসটিও) এবং সিআইএস সদস্য দেশগুলির প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে একটি গ্রুপ ফোটো সেশনেও অংশ নেন।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
