
বাংলায় আরএসএস ঘাঁটি মমতার
বাংলার বুকে ২০১৩ সাল থেকে প্রভাব বাড়াতে শুরু করে বিজেপি। সিপিএম অভিযোগ করে, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন ক্ষমতা শুরু হওয়ার পর আরএসএস ঘাঁটি গাড়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাদের বাড়তে দিয়েছিল। তারই জেরে বাংলার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ধর্মীয় মেরুকরণের বীজ ঢুকিয়ে দিয়েছিল।

বিজেপির উত্থান হয়েছে বাংলায়
উনিশ শতকে হিন্দু জাতীয়তাবাদ এবং মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদের উত্থান থেকে, দেশভাগ এবং তার পরিণতি, বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রভাব, বাঙালির মানসিকতায় বামপন্থী আদর্শের প্রভাব এবং গত কয়েক দশক ধরে এই রাজ্যে জনসংখ্যার পরিবর্তনের মধ্যে দিয়েই বিজেপির উত্থান হয়েছে বাংলায়।

আরএসএসে লাভবান বিজেপি, পিকে-তে তৃণমূল
এরপর আরএসএসের কাজ থেকে বিজেপি লাভবান হয়েছে বাংলায় প্রভবা বিস্তার করতে। আর উল্টোদিকে বর্তমানে পিকের আই-প্যাকের কাজ করার পদ্ধতিতে মমতার বিশ্বাস বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। পিকে তৃণমূলকে বিধানসভা উপনির্বাচনের সাফল্য এনে দিয়েছে। ফলে আসন্ন ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশান্ত কিশোর হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের প্রধান পরামর্শদাতা।

‘দিদিকে বলো’ অভিযানে তৃণমূলে আস্থা
তিনি বাংলায় পা দিয়েই ‘দিদিকে বলো’ অভিযান শুরু করে তৃণমূলকে সাফল্যের মুখথ দেখিয়েছিলেন। জনসংযোগের এই কর্মসূচিতে তিনি সমস্ত বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের এক সূত্রে বেঁধে দিয়েছিলেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন জনপ্রতিনিধিরা। তৃণমূলের মধ্যে কোন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ রয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

লাল সেলাম থেকে ঘুরে গিয়েছে জয় শ্রীরামে
এই পরিস্থিতিতে বাংলায় লড়াই এখন তৃণমূল বনাম বিজেপির। বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস এখানে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে। যদিও সিপিএম তথা বামফ্রন্ট করোনা পরিস্থিতিতে এবং আম্ফান-পরবর্তী সময়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে বাংলায় নিজেদের ফের প্রাসঙ্গিক করে তোলার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলার মনে এখন লাল সেলাম থেকে ঘুরে গিয়েছে জয় শ্রীরামে। অন্তত ২০২১-এর আগে তা উল্টে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
