পেঁয়াজের দাম তিন গুণ বেড়ে যাওয়ার পরই সরকার সব ধরনের পেঁয়াজ রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বাধ্য হয়। প্রতি কিলোগ্রাম পেঁয়াজ কোথাও কোথাও ৬০ টাকা দরেও বিক্রি হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ-সহ সব দেশে ভারত থেকে পেঁয়াজ রফতানি অবিলম্বে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
ভারতে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের চাষ হয় মহারাষ্ট্রে। সেখান থেকে যেমন পেঁয়াজ রফতানি করা যাবে না, তেমনি কর্নাটক, তামিলনাডু থেকেও পেঁয়াজ রফতানি আপাতত বন্ধ। কেন্দ্রের বিবৃতিতে রফতানি বন্ধের কোনও কারণ উল্লেখ নেই। মনে করা হচ্ছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের অগ্নিমূল্যই কেন্দ্রকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
আরও পড়ুন: দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীষ সিসোদিয়া করোনা পজিটিভ, গেলেন আইসোলেশনে
বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ রফতানিকারক দেশ হল ভারত। প্রতি বছর ভারত থেকে ২০ লক্ষ টন পেঁয়াজ রফতানি হয়। বাংলাদেশ, নেপাল, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা ব্যাপক ভাবে ভারতের পেঁয়াজের উপর নির্ভর করে। ফলে, ভারতে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ হওয়ায়, উল্লিখিত বাকি দেশগুলির মতো এর প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও। গত বছর সেপ্টেম্বরেও একবার ভারত পেঁয়াজ রফতানি আচমকা বন্ধ করে দিয়েছিল। যার জেরে বাংলাদেশের বাজারে রাতারাতি পেঁয়াজ হয়ে উঠেছিল অগ্নিমূল্য। এ বারও তেমন সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে পজিটিভ, জয়পুরে নেগেটিভ! করোনার টেস্ট রিপোর্টে ধন্দে সাংসদ
পেয়াঁজ রফতানি নিয়ে কেন্দ্রের নির্দেশিকা জারির পর উত্তর ২৪ পরগনার দুই মহকুমার সীমান্তে আটকে গেল ৫০০ লরি পেয়াঁজ। ব্যবসায়ী থেকে ট্রাকচালক– সকলেই ধন্দে। এক দিকে বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্তে, অন্য দিকে বসিরহাট সীমান্তে প্রায় ১২,০০০ টন পেঁয়াজ আটকে রয়েছে বলে খবর। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, কাটা পেঁয়াজ, পেঁয়াজের স্ম্যাশ বা পেঁয়াজ পাউডারের উপর আপাতত নিষেধাজ্ঞা নেই। গোটা ঘটনার জেরে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে লকডাউনের জেরে আটকে থাকা পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী শরদ পাওয়ারের কাছে সম্প্রতি পিটিশন দেন মহারাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজ চাষিরা। মঙ্গলবার এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে পাওয়ারের কথা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
