রাতভর টানা বৃষ্টিতে ভাসল কোচবিহার। শহরের অধিকাংশ রাস্তায় হাঁটু জল। গত ২৪ ঘণ্টায় টানা বৃষ্টির জেরে জেলার দিনহাটা, মাথাভাঙা, মেখলিগঞ্জ ও তুফানগঞ্জের অনের জায়গায় জল জমেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন একাধিক এলাকায়৷ বৃহস্পতিবার রাতে কোচবিহার পুলিশ লাইনের কাছে একটি বিশাল গাছ বৈদ্যুতিক তারের উপর উপড়ে পড়লে এলাকা বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ভারী বৃষ্টির কারণে গাছ কেটে রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক করাও সম্ভব হয়নি। ফলে পুলিশ লাইন থেকে জেলা সংশোধনাগারে যাওয়ার রাস্তায় সব যানবাহন ঘুরিয়ে অন্য দিক দিয়ে পাঠানো হয়। কোতোয়ালি থানার সামনে এক হাঁটু জল হওয়ায় সমস্যায় পড়েন পুলিশকর্মীরা। বলরামপুরে কালজানি নদীর বাঁধে ধস নামায় বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। তুফানগঞ্জে টানা বৃষ্টির কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা৷ বুধবার রাতের অবিরাম বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার বেশ কিছু এলাকা।
প্রবল বৃষ্টির জেরে রম্ভিখোলার জলে প্লাবিত হয়েছে ওদলাবাড়ির কাছে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক। ওদলাবাড়ি বাজার থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে লেইতি নদী। সেই নদীর প্রবল স্রোতে উল্টে যায় একটি জেসিবি বা পে-লোডার। মারা যান জেসিবি চালক দুর্গেশ ওঁরাও ( ২৩)। তাঁর বাড়ি মাল ব্লকের ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাবুজোতে। বৃহস্পতিবার সকালে রম্ভিখোলার জল উপচে এসে পড়ে ঘিস সেতুর কাছে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে। দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয় যান চলাচল। পরে বৃষ্টি কমার সঙ্গে জলও নামতে থাকে। সেবক করোনেশন সেতু সংস্কারের কাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক বুধবার বিকেলে তিস্তার জলের তোড়ে ভেসে যান। এদিন ডুবুরি নামিয়েও ওই ব্যক্তির হদিশ মেলেনি। প্রবল বৃষ্টির জন্য এদিন সিকিমেও কয়েক জায়গায় ধস নেমেছে।