নাগপুরের রামেশ্বরী এলাকার একটি ক্লিনিকের চিকিত্সক অভিষেক সামভ্রে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের প্রাথম লক্ষণই হল জ্বর। আমার ক্লিনিকে প্রতিদিন জ্বর নিয়ে রোগী আসেন দুই থেকে তিনজন। তাঁরা সকলেই মনে মনে বিশ্বাস করেন, তাঁদের শরীরে করোনা বাসা বেঁধেছে। জ্বর দুদিনের মধ্যে সেরে গেলে রোগী ভাবেন সে করোনায় আক্রান্ত নন। অন্য জ্বর-সর্দির মতোই সামান্য অসুখ। তিনি আরও জানান, দু-তিনদিন এই ভ্রান্ত ভাবনাতেই কেটে যায়। আর এতেই বিপদ ডেকে আনেন অধিকাংশ মানু।। আমার অনুরোধ, যাঁরা এমন পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন বা যাচ্ছেন, তাঁরা দ্রুত কোভিড টেস্ট করান। অধিকাংশ মানুষই আর টেস্ট করাতে চাইছেন না। কারণ তাঁদের শরীরে কোনও উপসর্গের লক্ষণ নেই বলে। প্রথমদিকে সেরে গেলেও ফের গলা ব্যাথা, কাশি, সর্দি-র মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। প্রথমদিকেই যদি এর চিকিত্সা করা যায়, তাহলে পরিস্থিতি অনেক নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্ভব।
অন্যদিকে অপর এক চিকিত্সক, সুজাতা ভগত জানিয়েছেন, মানুষ আতঙ্কেই আর করোনা টেস্ট করাচ্ছেন না। আইসোলেশন, হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানারকম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই আতঙ্কের জেরে মানুষে টেস্ট করাতে পা বাড়াচ্ছেন না। যদি সামান্য উপসর্গ দেখা দেয় বা টেস্ট করানোর পর asymptomatic হিসেবে ধরা পড়ে, তাহলে আপনি হাসপাতালে ভর্তি হতে নাও পারেন। বাড়ির মধ্যে আইসোলেশনে থাকলেই তা কেটে যায়।
তিনি আরও জানিয়েছেন, সাত-আট দিন ধরে একই সমস্যা নিয়ে চুপ করে থাকলে সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ইমিউনিটি বেশি থাকার ফলে যুবা সম্প্রদায় ও স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা সুস্থ হয়ে উঠছেন, কিন্তু তাঁদের থেকে বাড়িতে থাকা বয়স্ক মানুষদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাঁরাও ভয় পাচ্ছেন করোনা টেস্ট করাতে।
করোনার উপসর্গ
সারা বিশ্বেই এক অবস্থা। করোনা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সুরাহা মিলছে খুবই কম। সবসময় ডাক্তাররা পরামর্শ দিচ্ছেন, করোনায় আক্রান্ত হলে চিকিত্সার পাশাপাশি হোম আইসোলেশন ও শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটা মেনে চললেই করোনা নিয়ে অনেক আতঙ্ক কম হবে। ড. ইয়াজ শেখের মতে, আপনার যদি মৃদু উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে হাসপাতালে নয়, বাড়ির মধ্যেই নিজেকে আইসোলেশনে রাখুন। পরিবারের থেকে দূরে থাকলেই হবে। বাড়িতে যদি বয়স্ক কেউ থাকেন, তাহলে তাঁদের সামনে আসবেন না। যাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, কিডনির সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট ( অ্যাস্থমা) রয়েছে, তাঁদের থেকে দূরে থাকুন। তিনি আরও জানান, আমি দেখেছিল, দু-তিনিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন বেশিরভাগ কমবয়সীর রোগীরা। কিন্তু তাঁদের থেকে সংক্রমিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বাড়ির প্রবীণরা। দু সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তাঁরা সংক্রমিত হয়ে থাকেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই আবার টেস্ট করাতে ভয় পান। ফলে অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে।
সামান্য জ্বর থেকেই শুরু। পরে তা সেরে গিয়েছে ভেবে ভুল করছেন অধিকাংশ। আপনার সঙ্গে এমনটা ঘটলে কী করবেন, জেনে নিন…
– প্রথমদিন কত জ্বর ওঠা-নামা করছে, তা নোট করুন। প্রথমদিন থেকেই নিজেকে আইসোলেশনে রাখুন।
– দুদিনের বেশি জ্বর থাকলে, প্রথমেই বাড়ির বা স্থানীয় চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।
-তিনদিনের মাথায় জ্বর চলে গেলেও আপনি ভাববেন না যে আপনি সুস্থ। আইসোলেশন থেকে বের হবেন না। শরীরের তাপমাত্রার দিকে নজর রাখুন।
– চারদিনের দিন শরীরে কোনও জ্বরের লক্ষণ নেই। তবুও নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রাখুন। আইসোলেশন থেকে বের হবেন না। পারলে কোভিড টেস্ট করাতে পারেন।
– পাঁচ। শরীরে জ্বর নেই। চারদিনের পর থেকেই শুরু হয়েছে হালকা কাশি। আতঙ্কের মধ্যে না থেকে দ্রুত টেস্ট করান।
– ছয়। আতঙ্কগ্রস্ত হবেন না। আইসোলেশনের মধ্যে থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনগুলি দেখে শরীরের যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করুন। কাশি পাঁচদিনের মাথাতেও না সারলে অবশ্যই কোভিড টেস্ট করান।
– সাত, আট ও নয়। কাশি বাড়তেই থাকলে আতঙ্কগ্রস্ত হবেন না। কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খান। টেস্ট করাতে ভুলবেন না যেন।
– দশ। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে এই সময়। এখনও যদি টেস্ট না করান, তাহলে চিকিত্সায় ফল পেতে দেরি হয়ে যাবে। তবে প্যানিক হবেন না।
– এগারো। টেস্টে পজিটিভ এলে একেবারেই ভয় পাবেন না। কারণ এই সামান্য উপসর্গগুলি ওষুধ ও বিধি-নিষেধ মেনে চললে দ্রুত সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাবেন। আর করোনা হলেই মৃত্যু, এটা একেবারেই ভ্রান্ত ধারণা। সঠিক পরামর্শেই সুস্থ হবেন দ্রুত।
– বারো। এগারো দিনের মাথাতেও যদি এই উপসর্গগুলির কোনও পরিবর্তন না হয়, তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হোন। আগের যে করোনা টেস্ট করিয়েছেন, তার রিপোর্ট সঙ্গে রাখুন। আতঙ্কিত হবেন না।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন–
