us student ban policy: বিদেশি পড়ুয়াদের নিয়ে বিতর্কিত নির্দেশ প্রত্যাহার ট্রাম্প প্রশাসনের – united states: trump administration rescinds foreign students order

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: বিদেশি শিক্ষার্থীরা আমেরিকায় থেকে অনলাইনে ক্লাস করতে পারবেন না বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। চাপের মুখে বিতর্কিত সেই নির্দেশ মঙ্গলবার প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

এদিন ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মার্কিন সরকার জানিয়েছে, অনলাইনে ক্লাস করা বিদেশি পড়ুয়াদের ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। হার্ভার্ড ও এমআইটির দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এদিন আদালতে শুনানি ছিল। সেখনেই সরকার পক্ষের আইনজীবী ট্রাম্প প্রশাসনের মত বদলের কথা জানান।

করোনা সংকটের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। তার মধ্যেই ৬ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করে, অনলাইনে যে বিদেশি পড়ুয়ারা ক্লাস করছেন, তাঁদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ভিসা প্রত্যাহার করা হবে। তাঁরা নিজেদের দেশে ফিরে গিয়ে অনলাইনে ক্লাস করতে পারবেন।

আমেরিকার অভিবাসন ও শুল্ক দপ্তর ঘোষণায় বলা হয়, এফ-১ এবং এম-১ ভিসাধারীদের মধ্যে যে সমস্ত পড়ুয়া অনলাইনে ক্লাস করেছেন, তাঁদের কোনও ভাবেই আমেরিকায় থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্টের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, অনলাইনে ক্লাস করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যেতে হবে। নয়তো এমন কোনও কোর্সে ভর্তি হতে হবে, যেখানে শারীরিক ভাবে ক্লাসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।

এদিকে, মার্কিন বিদেশমন্ত্রকও জানিয়ে দেয়, অনলাইনে কোর্স করা শিক্ষার্থীদের ভিসা তারা প্রত্যাহার করে নেবে ভবিষ্যতে ওই পড়ুয়াদের আর ভিসা দেওয়া হবে না।

ভয়াবহ করোনা সংক্রমণের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্কুল-কলেজই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনলাইনে ক্লাস হবে। নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে ছাত্রদের ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে। তবে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আগেই ঘোষণা করে, প্রতিটি কোর্স অনলাইনেই করানো হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন অভিবাসন আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ক্রমেই তীব্র হচ্ছিল। আমেরিকা থেকে বিদেশি পড়ুয়া খেদাও অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হয় গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফটের মতো প্রথমসারির তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। ওই সংস্থাগুলি হার্ভার্ড এবং ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির সঙ্গে একযোগে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।

ফেসবুক-মাইক্রোসফট জানায়, সাময়িক ভাবে হলেও ট্রাম্প প্রশাসন নতুন অভিবাসন আইন স্থগিত রাখুক। নতুন এই আইনের জেরে নিয়োগ প্রক্রিয়া মার খাবে। একই বক্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বণিক সংগঠন এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপদেষ্টা গোষ্ঠীর।

সংগঠনগুলির বক্তব্য, ৬ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তার জেরে অন্যান্য দেশে পড়ুয়ারা সিপিটি এবং ওপিটি প্রোগ্রামে যোগ দিতে পারবেন না। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হবে। শুধু তাই নয়, আমেরিকায় পড়ার জন্য বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা যে বিপুল টাকা খরচ করেন, তা-ও হাতছাড়া হবে।

ইস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লক্ষ বিদেশি পড়াশোনা করতে গিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যত শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন, তাঁদের ৫.৫ শতাংশ বিদেশি। ২০১৮ সালে বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমে আমেরিকার আয় হয়েছিল ৪৪৭০ কোটি ডলার।

বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলির পাশাপাশি আমেরিকার ১৭টি রাজ্য এবং কলম্বিয়া জেলা নতুন এই ভিসা আইনের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয়। তাদের মতে, বিদেশি পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে এই নীতি শুধু নিষ্ঠুর নয়, বেআইনিও। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বিদেশি পড়ুয়াদের দেশ থেকে তাড়ানোর প্রক্রিয়া কোনও ভাবেই সমর্থন করা যায় না।

ট্রাম্প প্রশাসন যাতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে না-পারে, তার জন্য আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ড এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বোস্টন ফেডারেল আদালতে মামলা করেছিল। মামলার আর্জিতে বলা হয়, মার্কিন সরকার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করেছে। এই আইন রূপায়নের যৌক্তিক কারণ দেখাতেও তারা ব্যর্থ।

সেই মামলার শুনানিতে হাজির হয়েই ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের কথা জানান সরকারি কৌঁসুলি। আন্তর্জাতিক মহলের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলে সস্তা জনপ্রিয়তা হাসিলের চেষ্টা করছেন।

মার্কিনমুলুকে সবচেয়ে বেশি পড়ুয়া যায় চিন থেকে। তার পরেই আছে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব এবং কানাডার পড়ুয়ারা।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দেন, চলতি বছরের জন্য এইচ ওয়ান বি ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে। এর পরেই হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়, আগামী দিনে ওই ভিসা দেওয়ার পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হবে। শুধু অতি দক্ষ কর্মীরাই যাতে সেখানে কাজ করার অধিকার পান, বিদেশিদের জন্য কোনও মার্কিন নাগরিকের চাকরি না যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনও নিয়োগকর্তা সস্তায় বিদেশিকর্মী রাখতে পারবেন না। সেদিকে সতর্ক নজর রাখবে প্রশাসন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

REVEALED: These films are expected to be announced for direct release on Netflix on July 16! : Bollywood News

Tue Jul 14 , 2020
With the Coronavirus cases increasing day by day, the chances of cinema halls opening anytime soon also appear slim. Though the exhibitors are putting up pressure and inside reports state that theatres should start next month or latest by September, the Bollywood filmmakers, it seems, have lost patience. A couple […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts