হাইলাইটস
- প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চরম সংঘাতের আবহ দূর করতে সোমবার ফের বৈঠকে বসতে চলেছে ভারত এবং চিন।
- চিনের দখলে থাকা মোল্ডো এলাকায় দু’দেশের সেনাবাহিনীর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
- এই বৈঠকের ফলাফল নিয়ে আশাবাদী দিল্লি।
সীমান্ত সংঘাত এড়াতে দু’দেশের মধ্যে যে সমস্ত চুক্তি ও প্রোটোকল রয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা হবে বলে ভারত এবং চিন উভয়ই সম্মত হয়েছে। আগামী কর্পস কমান্ডার পর্যায়ের আগামী বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত রূপায়ণ নিয়ে মূলত আলোচনা হতে পারে। সোমবারের বৈঠকে ইতিবাচক ফলাফলের বিষয়ে আশাবাদী দিল্লি। যে কারণ এই প্রথম ভারতীয় প্রতিনিধি দলে থাকবেন বিদেশ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের আধিকারিক। উল্লেখ্য, এর আগে আরও ৫ বার ভারত এবং চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে কর্পস কমান্ডার স্তরে বৈঠক হয়েছে।
সোমবারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৪ কর্পসের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং। অন্যদিকে, চিনের সেনাবাহনীর সাউথ শিনচিয়াং রিজিয়নের কমান্ডার মেজর জেনারেল তাদের দেশের প্রতিনিধি দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।
চলতি মাসের গোড়ার দিকে মস্কোয় ভারত ও চিনের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠকে পাঁচ দফা ঐকমত্যকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের চিনা দূতাবাস বিবৃতি জারি করেছিল। এর পরে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সিনিয়র কম্যান্ডার পর্যারে পরবর্তী বৈঠকের জন্য চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা হবে বলে শোনা যাচ্ছিল।
আরও পড়ুন: অরুণাচলের ৯০ হাজার বর্গ কিমি নিজেদের বলে দাবি করেছে চিন: রাজনাথ
সম্প্রতি মস্কোয় সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) বৈঠকের অবসরে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা হয়েছিল এস জয়শংকরের। সেই আলোচনার প্রেক্ষিতেই দু’দেশ পাঁচটি বিষয়ে সহমত হয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম হল, সীমান্ত ব্যবস্থপনা নিয়ে বর্তমান দু-দেশের মধ্যে যে সমস্ত চুক্তি ও প্রোটোকল রয়েছে, তা দু-পক্ষই অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা যাতে বজায় থাকে, দু-দেশই সেই মতো চলবে। উত্তেজনা চড়তে পারে এমন কোনও পদক্ষেপ করা থেকে দু’পক্ষই নিজেদের বিরত রাখবে।
কিন্তু লাদাখ সীমান্তের অশান্তি মিটছে না কেন? এর জন্য চিনকে দায়ী করেছে ভরত। সম্প্রতি লাদাখ পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে বিবৃতি দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর দাবি, ঐতিহাসিক ভাবে নির্ধারিত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা চিন মানে না বলেই অশান্তি। রাজনাথ এও স্পষ্ট করে বলেন, ‘সীমান্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানই চায় ভারত, কিন্তু সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে আপোস করে নয়! প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চিন একপাক্ষিক ভাবে স্থিতাবস্থা নষ্টের চেষ্টা করলে ভারত তা মানবে না। সীমান্তে যে কোনও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত ভারতীয় সেনা।’
এমন এক আবহে সোমবার ভারত এবং চিনের মধ্যে সামরিক স্তরের বৈঠক থেকে সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনও দিশা দেখা যায় কি না, সেটাই এখন দেখার।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।