Buddhist temple: বামিয়ান ফিরল কমিউনিস্ট চিনে, হাজার বছরের পুরনো বুদ্ধমন্দির গুঁড়িয়ে দিল সরকার – china demolished 1000-year-old buddhist temple

হাইলাইটস

  • ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর চিনা কমিউনিস্ট পার্টির বিদ্বেষের আর এক উদাহরণ
  • এক হাজার বছরের পুরনো বুদ্ধমন্দির নিশ্চিহ্ন
  • চিনের শানসি প্রদেশ ছিল প্রাচীন এই বুদ্ধমন্দির
  • তালিবানি কায়দায় প্রাচীন এই ঐতিহ্যকে ধ্বংস করা হয়
  • চিনের এই তালিবানি ছবি ধরা পড়ে উপগ্রহ চিত্রে

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: লাদাখ ঘিরে ভারতের সঙ্গে চরম সংঘাতের মধ্যেই বিশ্বের নজর এড়িয়ে একেবারে চুপিসারে তালিবানি কায়দায় হাজার বছরের পুরনো একটি বুদ্ধমন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল চিন। লাদাখ নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সুবিধে করতে পারেনি চিন। আগ্রাসন দেখিয়ে উলটে বিপাকে পড়েছে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি, সিসিপি। ভারতের বিরুদ্ধে ব্যর্থতায় নিজের ঘরেই সমালোচনায় কোণঠাসা অবস্থা শাসক শিবিরের । তা নিয়ে বেজিঙের হাতাশা রয়েছেই। তার উপর জোর করে তিব্বত দখলের জেরে চিনের লালফৌজ ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’র বিরুদ্ধে তিব্বতিদের মনে যে ঘৃণা রয়েছে, তা বেজিঙের অজানা নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দুইয়ের মিশেলে, চিনের শাসকদলের অন্দরে যে ক্রোধ জন্মেছে, প্রাচীন বুদ্ধমন্দির ধ্বংস সম্ভবত তারই বহির্প্রকাশ বলে কেউ কেউ মনে করেছেন। এ রাগের শেষ কোথায়, কেউ অবশ্য জানে না। ঘুরে দাঁড়াতে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি গলওয়ানের থেকেও আরও বড় সংঘাতে যে জড়িয়ে পড়তে পারে, তা নিয়ে ভারতকে অনেকেই সতর্ক করেছে। এমনকী তিব্বতও অ্যালার্ট করেছে। কিন্তু, সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা হল, প্রাচীন বুদ্ধমন্দির নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও চিনের কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে কোনও মিডিয়ায় একলাইনও খবর হয়নি। বুদ্ধমন্দির ভাঙার খবর সামনেই আসেনি। দেশের ইন্টারনেটের উপর সরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণেই প্রাচীন বুদ্ধমন্দির ভাঙার খবর একলাইনও কোথাও বেরোয়নি।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে দেওয়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নাম রয়েছে চিনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি, সিসিপি’র। সংখ্যালঘুদের উপাসনার জায়গা নিয়ে বিরূপ মনোভাব আগেও দেখিয়েছে চিনা শাসকদল। শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের ধর্মাচরণে বাধা দেওয়া, মসজিদ গুঁড়িয়ে সেখানে শৌচাগার বানানোর মতো ঘটনা এতদিনে কারও অজানা নয়। সেই তালিকায় সর্বশেষতম ধর্মীয় নিপীড়নের ঘটনা ঘটে গিয়েছে চিনের শানসি প্রদেশে। একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, বুদ্ধমন্দির ধ্বংসের পরিকল্পনা এখনকার নয়, আজ থেকে অন্তত ১৫ বছর আগে বুদ্ধমন্দির ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। অত্যন্ত নীরবে চিন প্রাচীন এই বুদ্ধমন্দির ধ্বংস করলেও সকলের নজরে ফাঁকি দিতে পারেনি। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপসানালয় ঘিরে চিনের এই ঘৃণার প্রকাশ উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে।

উজিন পর্বতের উপরে তাইয়ুয়ান বিমানবন্দর থেকে ৮.৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এক নির্জন স্থানে ছিল ফুয়ুন বুদ্ধমন্দির। শানসি প্রদেশের এই বুদ্ধমন্দিরটি চিন এবং তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয় ছিল। যে কারণে প্রাচীন বুদ্ধমন্দির হান জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চক্ষুশূল হয়ে ওঠে। তা ছাড়া, জিনজং প্রদেশের ইউসি জেলার চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সরকারও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পছন্দ করে না। একাংশের ধারণা, প্রাচীন মন্দির ধ্বংসের ষড়যন্ত্র তখন থেকেই।

আরও পড়ুন:আয়োডিন দ্রবণে মাত্র ১৫ সেকেন্ডে কাহিল করোনাভাইরাস! দাবি গবেষণায়

জানা গিয়েছে, ১৫ বছর আগে সংস্কারের অজুহাতে এই বুদ্ধমন্দির ধ্বংসের খসড়া তৈরি করেছিল সিসিপি। সংস্কারের চুক্তির প্রস্তাবে ভালো মনেই স্বাক্ষর করে দিয়েছিলেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা। ২০০৬ সালে সংস্কারের কাজ শুরু। প্রায় তিন-চার বছর সময় নিয়ে অত্যন্ত ধীর গতিতে কাজ এগোয়। আর সংস্কারের নামে গর্ভগৃহের প্রস্থের আকার ৪০ মিটার থেকে ৩০ মিটারে কমিয়ে ফেলা হয়। চারটি বৃহত্‍ ভবন নিয়ে গঠিত বিহারটিকে ভেঙে নতুন একটি ছোট ভবন তৈরি করা হয়। প্রার্থনা ঘরগুলি রূপান্তরিত করা হয় গ্রন্থাগার এবং জাদুঘরে। সেখানে নতুন গার্ড পোস্ট এবং আবাসন তৈরি করা হয়। ওই গার্ডপোস্টে লালফৌজ মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই মন্দিরটির নতুন একটি চিনা নামও দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ভারতে কোভিড-১৯ মৃত্যুর ৭০% ক্ষেত্রেই দায়ী কোমর্বিডিটিস, মৃত্যুহার কমে ১.৬%

উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ২৪ জুলাই থেকে ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে মন্দিরটি একেবারে ধ্বংস করে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। পিপলস আর্মড পুলিশ ২১ জুলাই বুলডোজার এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর অন্যান্য সরঞ্জামাদি নিয়ে ফুয়ুন মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছিল। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে বৌদ্ধসন্ন্যাসীদের অবিলম্বে সেখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২৪ জুলাইয়ের পর থেকে মন্দির ধ্বংসের কাজ শুরু হয়েছিল। ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে প্রাচীন মন্দিরটি পরিণত হয় ধ্বংসাবশেষে। চিন সরকার এই বুদ্ধমন্দিরটি ভেঙে কেন একটি প্রাচীন ঐতিহ্য ধ্বংস করল, সেই উত্তর এখনও অজানা। শুধু বুদ্ধমন্দির নয়, সেইসঙ্গে বুদ্ধের বসে থাকা একটি বিশাল মূর্তিও চিনা কমিউনিস্ট পার্টি ধূলিস্মাত্‍‌ করে দিয়েছে। আফগানিস্তানের বামিয়ানে বুদ্ধমূর্তি ধ্বংসের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল চিনা কমিউনিস্ট দল ।

এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

IndoStar Capital to exit corporate lending business, expects retail loans to pick up in 6 months

Mon Sep 21 , 2020
It will only focus on retail loans once it has whittled down its corporate book to zero. By Malini Bhupta IndoStar Capital Finance, a non-banking finance company, is exiting the corporate lending business after facing difficulty in raising funds. Currently, the financier has a loan book of Rs 10,000 crore. It […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts