পাশাপাশি সংক্রমণ রুখতে পুজো কমিটিগুলির কাছে একগুচ্ছ আবেদন করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘পুজোয় যাতে সংক্রমণ না ছড়ায় খেয়াল রাখুন, এমনভাবে প্যান্ডেল করুন যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়। ঘেরা মণ্ডপে ছাদ খোলা রাখুন। মাস্ক-স্যানিটাইজার রাখুন। যারা দায়িত্বে থাকবেন, তাঁদের ফেস শিল্ড দিন।’
পুজোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ। তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধের সুরেই বলেন, ‘অঞ্জলি যেন সকলেই একসঙ্গে না দেন। সিঁদুর খেলাতেও তাই করুন। সিঁদুর খেলুন, কিন্তু সময় ভাগ করে খেলুন। একটা দল খেলে গেল, আরেকটা দল এল। একটু তো নিয়ম মেনেই চলতে হবে। প্রসাদ বিতরণও সাবধানে করুন। সাধারণ মানুষকে বলব, ফুল-বেলপাতা নিজেরাই পারলে নিয়ে যান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবার পারলে বন্ধ রাখুন। এতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে।’
আরও পড়ুন: প্যান্ডেল থেকে অঞ্জলি-বাঙালির সাধের দুর্গোৎসব নিয়ে একগুচ্ছ অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রীর
এদিন পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৩৪৮৩৭ টি পুজো রয়েছে রাজ্য পুলিশের অধীনে। ২৫০৯ টি পুজো রয়েছে কলকাতা পুলিশের অধীনে এবং ১৭০৬ মহিলা পরিচালিত পুজো রয়েছে। সকলকেই বলব, পুজো করুন। শুধু একটু সাবধানে থাকুন।’
সুরক্ষাবিধি ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য শুধু সন্ধ্যার পর থেকে ঠাকুর দেখতে না-বেরিয়ে সারা দিন ধরে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিল ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। তা হলেই সন্ধ্যার পর থিকথিকে ভিড় এড়ানো যাবে। এদিন একই অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রীও। যদিও মণ্ডপের আলোকসজ্জা দেখতেই আমজনতার একটা বড় অংশই সন্ধ্যার পর প্রতিমা দর্শন পছন্দ করেন। তাই এ বছর আলোকসজ্জা ন্যূনতম রেখে সন্ধ্যার ভিড় কমানোর পক্ষপাতী ফোরাম। তবে, এ বিষয়ে বিশেষ কিছু বলেননি মুখ্যমন্ত্রী।
প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একদিনে সব বিসর্জন নয়। সকলকে সচেতন থাকতে হবে। পুলিশ, দমকল, স্বাস্থ্য সব বিভাগ একটা কোঅর্ডিনেশন কমিটি তৈরি করুন। ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করুন। স্বাস্থ্য দফতরও ভলেন্টিয়ার বাড়ান। সাধারণ মানুষকে নিয়ে বাকিরা সকলে মিলেই ভালো করে পুজো করব।’
তবে, বিজেপির নাম না করে এদিনও তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘অনেকেই পুজোকে কেন্দ্র করে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। অনেকেই পুজো নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন। আমরা তা করতে পারব না।’
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।