হাইলাইটস
- ঝাড়খণ্ডের জামতাড়ায় অনাহারে মৃত্যুর অভিযোগ
- তিন দিন ধরে খাবার জোটেনি
- মৃত্যু পরিবারের কর্তার
- লকডাউনে কাজ ছিল না
- অভিযোগ নস্যাত্ করল জেলা প্রশাসন
মহেন্দ্র-পত্নীর কথায়, ‘ক’দিনই বা না-খেয়ে থাকা যায়! প্রতিবেশীর থেকে চেয়েচিন্তে টাকা ধার করে, অল্প চাল কিনে এনেছিলাম। মঙ্গলবার রাতে ভাত ফুটিয়ে স্বামীকে খেতে ডাকলে, আর সাড়া পাইনি। গায়ে হাত দিয়ে দেখি হাত-পা ঠান্ডা।’ সোনবাদ গ্রামের এই দুঃস্থ দম্পতির চার মেয়ে, এক ছেলে। প্রত্যেকেই ছোট ছোট। খিদের জ্বালা উপেক্ষা করে তাদেরও তিন রাত গুজরান করতে হয়েছে।
মহেন্দ্র সিংয়ের স্ত্রী না-হয় বানিয়ে বানিয়ে অনাহারের গল্প শুনিয়েছেন। কিন্তু, মহেন্দ্রের ভাইপো রামচন্দ্রও স্বীকার করেছেন, কয়েক দিনে কাকার ঘরে খাবারদাবার ছিল না। রান্না চাপেনি। গ্রামের যিনি মাথা, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনিল সোরেন জানান, পরিবারটি রেশন কার্ড নেই। তিনি নিজে অতীতে কয়েক বার রেশেনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু, ফ্রিতে রেশন দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই মহেন্দ্র সিংয়ের পরিবার আর রেশনের চাল-ডাল পায়নি।
কিন্তু, সাব ডিভিশনাল অফিসার সঞ্জয় পান্ডে দাবি করেন,অনাহারে মৃত্যুর অভিযোগ পেয়ে আধিকারিকরা তদন্তে গিয়েছিলেন। সুশীলা দেবীর সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। উনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মহেন্দ্র সিং খেয়েছিলেন।
ডেপুটি কমিশনার ফৈয়াজ আহমেদ মুমতাজ মহেন্দ্রর বাড়িতে দু’জন আধিকারিককে অনুসন্ধানে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর ফিরে এসে জানিয়েছেন, বাড়িতে রান্না হচ্ছিল। তবে, এ বিষয়ে তিনি বিশদ কিছু বলতে চাননি। মুমতাজ জানান, পান্ডে বিষয়টি দেখছেন।
স্থানীয় বিজেপি নেতার দাবি, মহেন্দ্র সিংয়ের পরিবার যে অনাহারে কাটিয়েছে, তিনি তা জানতে পেরেছেন। বাড়িতে ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। সুশীলা দেবীর পরিবার যাতে দু-বেলা দু’মুঠো খেতে পায়, তিনি সে ব্যবস্থা করেছেন।
