সম্প্রতি এক প্রেস রিলিজে আইনজীবী এপি সিং জানান, হাথরস মামলায় আইনি লড়াই চালাতে টাকা সংগ্রহে নেমে পড়ছে ক্ষত্রিয় মহাসভা। উচ্চবর্ণের এই সংস্থার বক্তব্য, তফশিলি জাতি ও উপজাতি আইনের অপব্যবহার হচ্ছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ হাথরসের ঘটনার নেপথ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে সোমবারই বিবৃতি দেন। মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। সেই সন্দেহ থেকেই আইপিসির একাধিক ধারায় ইতিমধ্যে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ লখনউয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে।
দিল্লির নির্ভয়ার মতোই চাঞ্চল্যকর এই গণধর্ষণের মামলায় নির্যাতিতা দলিত তরুণীর পরিবারে পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াইয়ের কথা আগেই জানিয়েছেন সীমা কুশওয়া। দিল্লির নির্ভয়ার ধর্ষণ-খুন নিয়ে তোলপাড় পড়েছিল গোটা দেশে। আইনি লড়াইয়ে নির্ভয়ার পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সীমা কুশওয়া। নির্ভয়া মামলার সেই আইনজীবী হাথরসের তরুণীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে, আইনি লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দু’দিন আগেই দিয়েছেন। আইনি পেশার বাইরেও প্রতিবাদের খুব পরিচিত নাম সীমা কুশওয়া। অতীতে বারবার তাঁকে দেখা গিয়েছে সরব হতে।
জানান, হাথরসের দলিত তরুণীর পরিবারই তাঁকে এই মামলায় আইনি লড়াই লড়তে অনুরোধ করেছে। তাই কোনও পরিস্থিতিতে চাপের মুখে তিনি মাথা নোয়াবেন না। এই আইনজীবীর দাবি, প্রশাসন ধর্ষিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যে ভাবে বারবার বাধা দিচ্ছে, তা আইনসম্মত নয়। তবে, মৃতার ভাইয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যে তাঁর একাধিকবার কথা হয়েছে বলে তিনি এদিন স্বীকার করেন।
১৪ সেপ্টেম্বর পৈশাচিক ধর্ষণের ঘটনার পর ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ওই তরুণীকে প্রথমে আলিগড়ের জেএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে, সফদরজং হাসপাতালে এনে ভরতি করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। ভর্তির পরদিনই মঙ্গলবার মারা যান বছর উনিশের ওই নির্যাতিতা। অভিযোগ, চিকিত্সকরা তাঁকে দিল্লির এইমসে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু, পুলিশ তা শোনেনি। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীও অভিযোগ করেন, ‘সময়ে সঠিক চিকিত্সা পাননি হাথরসের নির্যাতিতা। দলিত তরুণী মারা যাননি। তাঁকে মারা হয়েছে।’
