বিজেপি ও তৃণমূলকে এক করে দেখে ভুল হয়েছিল–সূর্যকান্ত মিশ্র

নিজস্ব প্রতিবেদন: ‘নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি এবং আমাদের কাজ’ এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে বার্তা দিলেন সিপিআই (এম)-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক।

প্রায় ঘণ্টাখানেকের এই বার্তায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন সূর্যকান্ত (Surjya Kanta Mishra)। প্রথমে কথা শুরু করেন টিকাকরণ নিয়ে। জাল টিকার প্রসঙ্গ তোলেন। করোনা-কালে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত্‍ নষ্ট হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর পরই তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষণে ঢুকে পড়েন। স্বীকার করে নেন, বামেদের জনসমর্থন কমেছে। ২০০৮-০৯ থেকেই এটা স্পষ্ট ছিল। এবং তাঁরা তখনও এর বিশ্লেষণ করেছিলেন। ভোটের শতাংশ কমেছে। তবে, ২০১৯ সালে এর চরম রূপ তাঁরা দেখেছিলেন। 

আরও পড়ুন: ভাড়া অপরিবর্তিত রেখেই রাস্তায় নামছে বাস, সরকারি আশ্বাসে সুর নরম মালিকদের

কিন্তু এবারের বিধানসভা ভোটে পরিস্থিতি সব চেয়ে খরাপ। কেন হল? অনেকটা সেই কারণ সন্ধান ও পথসন্ধানের চেষ্টাই করেন তিনি। সূর্যকান্ত বলেন, ‘আমাদের ত্রুটি ও দুর্বলতা  খুঁজে বের করে সমালোচনা আত্মসমালোচনা করে রাস্তা খুঁজতে হবে। চিন্তার ঐক্য থেকে ইচ্ছের ঐক্য ও কাজের ঐক্যে যেতে হবে।’ 

এর পরই সরাসরি বিরোধী রাজনীতির ক্ষেত্রে বামেদের মনোভাবের প্রসঙ্গে আসেন। বলেন, ‘বিজেপির সঙ্গে অন্য কোন পার্টিকে এক করে দেখা উচিত নয়; উচিত নয় কারণ, দেখা যায় না। অথচ প্রকারান্তরে সেটাই দাঁড়়িয়ে যাচ্ছিল। তৃণমূল ও বিজেপিকে আমরা এক করে দেখিয়ে ফেলেছি। ফলে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।’ সূর্যকান্ত এ প্রসঙ্গে ‘বিজেমূল’ শব্দবন্ধ তৈরি হওয়া তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি নিয়েও কথা বলেন। সূর্যকান্ত জানান, বঙ্গীয় ভোট-রাজনীতিতে কে প্রধান শত্রু, কার সঙ্গে লড়াই– এ নিয়ে দলে একটা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল। 

ভোট-ফল বিশ্লেষণ করে বলেন, বিজেপি সর্বশক্তি দিয়ে বাঙলা  দখল করতে আসছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা বিজেপিকে আক্রমণ করে ঠিকই করেছেন। কিন্তু তার লাভ তুলে নিয়েছে তৃণমূল। তিনি বিজেপির পরিচিতি-সত্তার রাজনীতিকে আক্রমণ করেন। 

টানা ১০ বছর সরকার চালিয়েও তৃণমূল যে ভাবে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয় বারের জন্য ফিরে এসেছে, তা নিয়ে নানা চর্চা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে সূর্যবাবুর মত, প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা এবং মানুষের নানা ক্ষোভ সামাল দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার কিছু জনমুখী প্রকল্প ঘোষণা করেছিল, শাসকদল ‘দিদিকে বলো’র মতো কিছু কর্মসূচি নিয়েছিল। এগুলি শাসক পক্ষের তরফে  ইতিবাচক ছিল। কিন্তু তাঁরা এই ধরনের কর্মসূচিকে ‘ছোট’ করে দেখেছেন। ভোটের সময়ে পায়ে আঘাত পেয়ে হুইলচেয়ারে বসা মুখ্যমন্ত্রী কী ভাবে বিজেপির মোকাবিলা করবেন— এই প্রশ্ন তোলাও মানুষ ভাল ভাবে নেননি বলে কবুল করেন সূর্যবাবু।

প্রসঙ্গত, সিপিআইএমএল লিবারেশন দলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও বলেছিলেন, বিজেপি-তৃণমূলকে এক আসনে বসানো উচিত নয়। যদিও তা নিয়েও তাঁর সমালোচনা করা হয়েছিল তখন। দীপঙ্কর বলেছিলেন, ‘তৃণমূল বা অন্য কোনও দলকেই বিজেপি’‌র সঙ্গে একাসনে বসানো যায় না। অসম, ত্রিপুরা এবং বিহারে যেভাবে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, সেই অভিজ্ঞতা মনে রেখে বামেদের নিশানা বিজেপি’‌র দিকেই থাকা উচিত। বিজেপি অনেক বড় বিপদ।’

তৃণমূল ও বিজেপি, দুজনের থেকেই যে সমান দূরত্ব রক্ষা করতে হবে, সেই কথাটা মানুষকে বোঝানো যায়নি এবং এর উপর আবার ‘বিজেমূল’ স্লোগানে মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছেন– এ কথা স্বীকার করে নিয়ে প্রকারান্তরে সূর্যকান্ত তথা বঙ্গ সিপিএম যেন দীপঙ্করবাবুর মতকেই মেনে নিলেন।

আপাতত দলের নিজস্ব এবং বামফ্রন্টের কর্মসূচি বাড়ানো, যৌথ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে সূর্যবাবু বলেছেন, সংযুক্ত মোর্চা থাকবে কি না, তা তাঁদের হাতে নেই। তাঁরা জোট ভাঙতে চান না। কিন্তু মোর্চার বাকি শরিকেরা কী চাইবে, তার উপরে মোর্চার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

তবে বামেদের (CPIM) থমকে গেলে চলবে না। নতুন পরিস্থিতিতে চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে নতুন পথের সন্ধান করতে হবে এবং সেই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এখনই যতটা সম্ভব আগামি দিনের পথসন্ধানে নামতে হবে বলে উল্লেখ করেন।

(Zee 24 Ghanta App : দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির লেটেস্ট খবর পড়তে ডাউনলোড করুন Zee 24 Ghanta App)

আরও পড়ুন: কার্যকর হল হাইকোর্টের নির্দেশ, উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করল বোর্ড



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

কয়লা কাণ্ডে ED-র নজরে রাজ্যের ৭ IPS, জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে তলব

Thu Jul 8 , 2021
নিজস্ব প্রতিবেদন: কয়লা কাণ্ডে এবার তৎপর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। রাজ্যের সাত IPS অফিসারকে তলব। ভার্চুয়ালি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব। করোনা পরিস্থিতিতে ইডির দিল্লির অফিস থেকে এই সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারীরা। এই সাতজন অফিসার হলেন, আইপিএস কোটেশ্বর রাও, পুরুলিয়ার পুলিস সুপার এস সেলভামুরুগান, মেদিনীপুর রেঞ্জের ডিআইজি শ্যাম সিং, IPS রাজীব মিশ্র, IPS […]

Breaking News

Recent Posts