দিঘা মোহনার এক আড়তদার ও স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনের সদস্য নবকুমার পয়ড়্যা বলেন, ‘দিঘার মৎস্যজীবীদের জালে যে সামান্য কিছু ইলিশ ধরা পড়েছে, তা ভালো সাইজের। একেকটা এক থেকে দেড় টন।’
দিঘা ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম দীর্ঘদিন মাছ শিকার বন্ধ থাকার কারণে ভালো পরিমাণে ইলিশ উঠবে। কিন্তু পমফ্রেট সমেত অন্যান্য মাছ প্রচুর পরিমাণে ধরা পড়লেও ইলিশ সে ভাবে ধরা পড়ছে না। অবশ্য এখন আবহাওয়াও ইলিশের অনুকুল নয়। আবহাওয়া অনুকূল হলে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে বলে আমাদের আশা। যেখানে এই মরসুমে দিনে ১০-১২ টন ইলিশ ওঠে, সেখানে এক-দেড় টন খুব সামান্য। কিছু দিনের মধ্যে ইলিশের জোগান বাড়বে বলে আশা আমাদের। আর সে ভাবে ইলিশ না ধরা পড়লে, লাভ দূরে থাক, ফিশিংয়ের খরচ তোলাটাই কষ্টের হয়ে দাঁড়াবে মৎস্যজীবীদের।’
কাঁথি মৎস্য দপ্তরের সহ মৎস্য অধিকর্তা (সামুদ্রিক) সুরজিৎ বাগ বলেন, ‘একটি ট্রলার সমুদ্রে মাছ শিকার করে ফিরে আসতে ১০-১৫ দিন সময় লাগে। তাই ১ জুলাই থেকে বেরানো ট্রলার ও বোটের ফিরে আসতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। তাছাড়া ইলিশ শিকার করে ফিশিং বোট। যেগুলি এখনও পর্যন্ত ফিরে এসেছে সেগুলির বেশির ভাগ ট্রলার। সে কারণে ইলিশের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। তবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বলছে চলতি মরশুমে প্রচুর ইলিশ উঠবে মৎস্যজীবীদের জালে।’
ইতিমধ্যে ডায়মন্ড হারবার এলাকার মৎস্যজীবীদের জালে ভালো পরিমাণ ইলিশ উঠতে শুরু করেছে। ১ জুলাই থেকে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালু হয়েছে দিঘা মোহনার সামুদ্রিক মাছের পাইকারি বাজার। এই বাজারে দিঘার মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি ওডিশা ও ডায়মন্ড হারবার থেকেও কিছু মৎস্যজীবী তাঁদের মাছ বিক্রির জন্যে নিয়ে আসেন। সোমবার ডায়মন্ড হারবারে কয়েকজন মৎস্যজীবী দিঘা মোহনাতে ইলিশ সমেত অন্যান্য মাছ বিক্রির জন্য নিয়ে আসায় মরসুমের প্রথম ইলিশের দেখা মেলে মোহনার মাছের বাজারে।
