সেচেনভ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টটিউট অফ মেডিক্যাল প্যারাসাইটোলজি, ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ভেক্টর বোর্ন ডিজিসেস-এর ডিরেক্টর আলেকজান্দ্রা লুকাসেভ জানিয়েছেন, ট্রায়ালের এই পর্যায়ের মূল লক্ষ্য ছিল মানব শরীরে এই ভ্যাকসিন কতটা নিরাপদ তা খতিয়ে দেখা। এই পরীক্ষা সাফল্যের সঙ্গে শেষ হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘এই ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ। ক্লিনিক্যাল টেস্টেই তা প্রমাণিত হয়েছে।’ এর আগেও অবশ্য রেমডেসিভির-সহ প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু পুরোপুরি কোনওটাই সফল বলে এখনও প্রমাণিত নয়। তাই রাশিয়ার দাবি যদি সত্যি হয়, তা হলে করোনার সঙ্গে যুদ্ধে জয় নিশ্চিত বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
এক দিকে যখন ভ্যাকসিন নিয়ে নানা আশা-আকাঙ্ক্ষার দোলাচল, তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জনসমক্ষে মাস্ক পরতে দেখা গেল। বলা যেতে পারে তিনি বাধ্য হলেন মাস্ক পরতে।
বাংলায় করোনায় চিকিৎসাধীনের সংখ্যা এ বার ১০ হাজার ছাড়াল। রবিবার স্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া কোভিড বুলেটিন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১,৭০৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে দেড় হাজারেরও (১৫৬০) বেশি করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে রাজ্যে। ফলে মাত্র ৮ দিনের মাথায় ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজারের গণ্ডি ছুঁল রাজ্যের মোট আক্রান্তের সংখ্যা (৩০,০১৩)। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে প্রতিদিনের টেস্টের নিরিখে পজিটিভ আসা মানুষের ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হার। এ দিন করোনা-মুক্ত হয়েছেন আরও ৬২২ জন।
রাজ্যে সার্বিক ভাবে প্রতি ১০০ টেস্টের নিরিখে পজিটিভ আসার হার ৪.৮৬%। সেখানে শুধুমাত্র গত চার দিনের হিসেবে তা ১০ শতাংশেরও বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রতি ১০০ টেস্টে ১৩ জনেরও বেশি মানুষ কোভিড পজিটিভ হয়েছেন। এই অবস্থায় টেস্ট আরও বাড়ানোর কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সুইৎজারল্যান্ড থেকে ৫ কোটি টাকা খরচ করে আধুনিক টেস্টিং মেশিন (কোবাস ৬৮০০/৮৮০০ সিস্টেম) আনাচ্ছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের কোভিড ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কনটেনমেন্ট কমিটির স্টেট কো-অর্ডিনেটর প্রদীপ মিত্র বলেন, ‘মে-র শেষ দিকে এই মেশিনটি অর্ডার করা হয়েছে। এতে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার টেস্ট করা যাবে। আশা করছি অগস্টের মাঝামাঝি যন্ত্রটি আসবে।’ টেস্টিং, ট্র্যাকিং এবং আইসোলেটিং— এই তিন মন্ত্রে করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি, মুম্বইয়ের ধারাভিতে। শুধু মুম্বই নয়, দিল্লি, তামিলনাড়ুও প্রতিদিন বিপুল সংখ্যায় টেস্ট করাচ্ছে। রাজ্যে ক্রমাগত বেড়ে চলা সংক্রমণের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য দপ্তরকেও সে পথ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। টেস্টের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে এর আগেও রাজ্যের উপরে চাপ এসেছিল। তখন খুব দ্রুত দৈনিক ১২০০ থেকে ১০ হাজার টেস্টের গণ্ডি পেরিয়েছিল রাজ্য (১৯ জুন)। কিন্তু তার পর টেস্টের সংখ্যা কমবেশি একই থেকে গিয়েছে।
করোনা আবহের মধ্যেই সংসদের বাদল অধিবেশনের আয়োজন করা হবে, জানাল কেন্দ্রীয় সরকার৷ রবিবার কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বিষয়টি জানানোর সঙ্গে এ-ও জানিয়ে রাখেন, যাবতীয় সুরক্ষা বিধি মেনে অধিবেশনের আয়োজন করা হবে৷ এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যে সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে, সে কথাও উঠে আসে তাঁর কথায়।