জানা গিয়েছে, হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে কর্তব্যরত ওই ওয়ার্ড বয়। অভিযোগ, প্রতিটি ট্রিপের পরিষেবা দিতে ৩০ টাকা করে দাবি করেছিলেন ওই ওয়ার্ড বয়। আর্থিক সামর্থ্যে না-কুলনোয় মহিলা নিজেই একরত্তি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে, অসুস্থ বাবাকে স্ট্রেচারে করে এক ওয়ার্ড থেকে আর এক ওয়ার্ডে নিয়ে যান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দেওরিয়ার গৌরা গ্রামের চেদি যাদব দু-দিন আগেই হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তি হন। তিনি পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পেয়েছেন। চেদি যাদবের স্ত্রী পার্বতী দেবী আগের দিন সারাক্ষণ হাসপাতালে ছিলেন। পরদিন ওই বৃদ্ধের কাছে ছিলেন মেয়ে বিন্দু ও একরত্তি নাতি।
বিন্দু সাংবাদিকদের জানান, ওই ওয়ার্ড বয় প্রত্যেক বার স্ট্রেচার করে বাবাকে নিয়ে যাওয়ার সময় ৩০ টাকা করে দাবি করছিলেন। সে কারণেই টাকা দিতে আপত্তি করি। তাতেই বেঁকে বসেন ওই হাসপাতাল স্টাফ। মুখের উপর বলে দেন, টাকা না দিলে, স্ট্রেচারে করে তিনি নিয়ে যাবেন না। অগত্যা, ছেলে শিবমকে সঙ্গে নিয়েই আমি স্ট্রেচার ঠেলেছি।
জানা গিয়েছে, দেওরিয়ার জেলাশাসক অমিত কিশোর সোমবার হাসপাতালে হাজির হন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি চেদি যাদবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন। এর পরেই সদর এসডিএম ও হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ মেডিক্যাল অফিসারের সমন্বয়ে একটি টিম তৈরি করে, তদন্তের নির্দেশ দেন। যত দ্রুত সম্ভব এই টিমকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভাইরাল ভিডিয়ো প্রসঙ্গে জেলাশাসক বলেন, খোঁজখবর নিয়ে জানা গিয়েছে, ভিডিয়োটি দু-দিন আগে তোলা। চেদি যাদব জেলা হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। এই ঘটনায় ওয়ার্ড বয় কালপ্রিট। চিফ মেডিক্যাল অফিসার ইতিমধ্যে ওই ওয়ার্ড বয়কে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার পরেই পরবর্তী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে।
