biodiversity conservation project: রাজ্যে বন কতটা সুরক্ষিত, জানতে সমীক্ষা – the west bengal forest and biodiversity conservation project (wbfbcp) was started in 2012

হাইলাইটস

  • বনের সুরক্ষায় স্থানীয় মানুষদের নিয়ে গঠিত হয়েছে ফরেস্ট প্রোটেকশন কমিটি, ইকো ডেভেলপমেন্ট কমিটি, ভিলেজ ফরেস্ট কমিটি।
  • বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনদপ্তরকে সহযোগিতা করা, চোরাশিকারের ঘটনা নজরে এলেই সঙ্গে সঙ্গে বনদপ্তরকে জানানো, দাবানল, বেআইনি পশুশিকার ঠেকানো এবং বনভূমি বিনাশের চেষ্টা রুখতে বন দপ্তরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে এই ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই সময় ডিজিটাল এক্সক্লিউসিভ
তাপস প্রামাণিক

এ রাজ্যে বন কতটা সুরক্ষিত? বনের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র ঠিকভাবে রক্ষিত হচ্ছে তো? সেখানকার মানুষজন কেমন আছেন?
বন্য জীবজন্তুদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সংঘাত কি বাড়ছে?

এই সব প্রশ্নের উত্তর পেতে রাজ্যের মোট ১১টি জেলার ২০টি ফরেস্ট ডিভিশনে সমীক্ষা চালানো হবে। তা থেকেই রাজ্যের বনাঞ্চলের সাম্প্রতিক হালহকিকত জানা যাবে। বন সংরক্ষণ এবং জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় ২০১২ সালে চালু হয় পশ্চিমবঙ্গ বন এবং জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্প। এর জন্য ঋণ দিয়েছে জাইকা।
প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে রাজ্য বন দপ্তরের অধীনস্থ সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেস্ট অ্যান্ড বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন সোসাইটি। এই প্রকল্পের মুখ্য উদ্দেশ্যই হল বন এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ। তার জন্য বহুবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বনের সুরক্ষায় স্থানীয় মানুষকে অংশীদার করতে চালু হয়েছে জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট বা যৌথ বন ব্যবস্থাপনা। বনাঞ্চল বাড়াতে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান যাতে সুরক্ষিত থাকে তার জন্য বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ করা হয়েছে। বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে মানুষের সংঘাত কমানো এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গবেষণার কাজেও উৎসাহিত করা হয়। তার জন্য দেওয়া হয় আর্থিক সাহায্য। তার পাশাপাশি বনাঞ্চলের আশপাশের মানুষকে বিভিন্ন ধরনের কাজে নিযুক্ত করা হয়।

ei samay

বনাঞ্চল সংরক্ষণ

বনের সুরক্ষায় স্থানীয় মানুষদের নিয়ে গঠিত হয়েছে ফরেস্ট প্রোটেকশন কমিটি, ইকো ডেভেলপমেন্ট কমিটি, ভিলেজ ফরেস্ট কমিটি। বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনদপ্তরকে সহযোগিতা করা, চোরাশিকারের ঘটনা নজরে এলেই সঙ্গে সঙ্গে বনদপ্তরকে জানানো, দাবানল, বেআইনি পশুশিকার ঠেকানো এবং বনভূমি বিনাশের চেষ্টা রুখতে বন দপ্তরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে এই ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বন এবং বনজ সম্পদ রক্ষার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। যার সূচনাটা হয়েছিল ১৯৭১ সালে বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আরাবারি অরণ্যে। শালগাছের জঙ্গল পুনরুদ্ধারের জন্য মেদিনীপুর শহর থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে আরাবারি অরণ্যে কৃত্রিম উপায়ে শালগাছের চারা রোপণ করা হয়। স্থানীয় ১১টি গ্রামের মানুষকে নিয়ে তৈরি হয় দেশের প্রথম বন সুরক্ষা কমিটি। তাদেরকে শালগাছের চারা লালন পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিনিময়ে এলাকার মানুষকে গ্রামীণ স্বনিযুক্তি স্কিমে চাকরি দেওয়া এবং কাঠের পরিবর্তে অন্য বনজ সম্পদ আরোহণের অধিকার দেওয়া হয়।

সেটাই এখন সারা দেশের কাছে আদর্শ হয়ে উঠেছে। দেশের মোট ২২টি রাজ্যে যৌথ বন ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছে। এই প্রকল্পের জন্য ভারতকে মোট ৪০৯ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি। পশ্চিমবঙ্গে গত আট বছর ধরে এই প্রকল্প চলছে। তার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু তাতে আদৌ কি রাজ্যের বনাঞ্চলের পরিবেশের কোনও উন্নতি হল? কতটাই বা বদলাল বনাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা? সেটা জানতেই গোটা রাজ্য জুড়ে সমীক্ষা চালানো হবে।

ei samay

বনের সুরক্ষা

যে সব জেলায় এই সমীক্ষা হবে তার মধ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ি, বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিং। বনদপ্তরের এক শীর্ষ কর্তা জানান, বন এবং জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ছাড়াও স্থানীয় মানুষের জীবনের মানোন্নয়নকে সবথেকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বনের উপর মানুষের নির্ভরতা যত কমবে ততই বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে মানুষের সংঘাত বন্ধ হবে। বাস্তবে আদৌ সেটা হয়েছে কিনা, তা সমীক্ষার রিপোর্ট থেকেই জানা যাবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কত মানুষ উপকৃত হয়েছেন, তাদের মাসিক আয় কতটা বেড়েছে, তাদের শরীর স্বাস্থ্যের অবস্থা কেমন রয়েছে, বনে বিকল্প রোজগারের সংস্থান করা গেছে কিনা, সে বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জোগাড় করবেন সমীক্ষকরা। সেটা হলে বনের একটা সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাবে।

কোথায় সমীক্ষা?

জলপাইগুড়ি, বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিং।

সমীক্ষা থেকে কী জানা যাবে?

১) বনাঞ্চলের মানুষের মাসিক আয় কতটা বেড়েছে
২) স্বাস্থ্যের অবস্থা
৩) বনে বিকল্প কর্মসংস্থান কতটা হল
৪) পানীয় জলের জোগান কতটা বেড়েছে
৫) বনের উপর মানুষের নির্ভরশীলতা কমেছে কিনা
৬) বনাঞ্চলের আয়তন বাড়লো না কমলো

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

রাস্তা নাকি রেসিং ট্র্যাক! 299 Kmph গতি তুলে মহাসমস্যায় Yamaha R1 রাইউার

Wed Jul 22 , 2020
বেঙ্গালুরুর এক বাইকার কিন্তু দিনের আলোতেই ট্রাফিক আইন ভাঙলেন। ধরা তিনি পড়তেন না। কিন্তু নিজের দোষেই ফেঁসে গেলেন আইনের গেরোয়।  Source link

You May Like

Breaking News

Recent Posts