
শুভেন্দু এককভাবে চলতেই ইচ্ছুক
প্রশান্ত কিশোর দলের প্রচার পরিকল্পনার দায়িত্ব নেওয়ার পর দল খানিক চাঙ্গা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুভেন্দু তাঁকে সেভাবে মেনে নেননি। শুভেন্দু একলা পরিকল্পনা করছেন। নিজের মতো কাজ করছেন। আর মমতার ভরসা যেহেতু শুভেন্দুর উপর রয়েছে, শুভেন্দু একাই কাজ করে চলেছেন, তাঁর দায়িত্বের জায়গায়।

প্রশান্ত কিশোরের কাছে শুভেন্দু বাধার প্রাচীর!
আবার অন্যদিকে প্রশান্ত কিশোর যেহেতু একটা বড় দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তৃণমূলে চাকরি করতে এসেছেন, তাঁকে সাফল্য দেখাতে হবে। এই কাজে প্রশান্ত কিশোরের কাছে শুভেন্দু বাধার প্রাচীর হয়ে যাচ্ছে। কেননা শুভেন্দু কিছুতেই চাইছেন না তাঁর জায়গায় অন্য কারও এন্ট্রি। প্রশান্ত কিশোর তো নয়ই, তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এন্ট্রিও তিনি ভালো চোখে দেখছেন না।

যৌথ দায়িত্বে সক্রিয় হচ্ছেন না শুভেন্দু
আর এর প্রভাব পড়ছে অনেক ক্ষেত্রেই। যেমন ঝাড়গ্রামে শুভেন্দুর সঙ্গে পার্থর নাম জুড়তেই দূরত্ব বৃদ্ধি হতে শুরু করেছে। এই জেলায় তেমনভাবে সক্রিয় হচ্ছেন না শুভেন্দু। রাজনৈতিক মহলের একটা অংশ মনে করছে, লোকসভা নির্বাচনের পর ঝাড়গ্রামের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল শুভেন্দুর হাতে। পরে শুভেন্দুর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে জুড়ে দেওয়া হয় তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম। আর তারপর থেকেই শুভেন্দু ঝাড়গ্রামকে এড়িয়ে যাচ্ছেন।

প্রশান্ত কিশোর বনাম শুভেন্দু নিয়ে প্রশ্ন
এদিকে প্রশান্ত কিশোর শুভেন্দুর ব্যাপারে নাক না গলালেও তিনি নজরে নামছে সমস্ত কিছু। কোননা তাঁর উপর গোটা বাংলারই দায়িত্ব। কোনও জায়গায় খারাপ ফল হলে তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে। এখন তৃণমূলে নতুন এই মতান্তর তৈরি হয়েছে। এটাকে কীভাবে মেটাবেন মমতা, সেটাও একটা বড়সড় প্রশ্ন!

তৃণমূলে একটা আড়াআড়ি ফাটল তৈরি
প্রশান্ত কিশোর আসার পর তৃণমূলে একটা আড়াআড়ি ফাটল তৈরি হয়েছে, একথা মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। প্রশান্ত কিশোর অভিষেককে সঙ্গে নিয়ে চলছে। প্রশান্ত কিশোরের যাবতীয় পরিকল্পনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন তিনি। অন্যদিকে শুভেন্দু চলছেন নিজস্ব ছন্দে। তবে উভয়েরই লক্ষ্য তৃণমূলের মিশন একুশের সাফল্য।

জল্পনার ঘনঘটায় সিঁদুরে মেঘ তৃণমূলে
তবু কাঁটা বিঁধছে মাঝেমধ্যেই। একুশের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই জল্পনার ঘনঘটা বাড়ছে রাজ্য রাজনীতিতে। মুকুল রায়ের অভাব পূরণ করতে গলার কাঁটা হয়ে গিয়েছেন তৃণমূলের এক কাণ্ডারি শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি আবার শুভেন্দুকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে তৃণমূলে। তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বৃদ্ধিতে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে তৃণমূল।

তৃণমূলের অনুষ্ঠানে শুভেন্দুর গরহাজিরায় জল্পনা
একুশে জুলাইয়ের আগে প্রতিবছর নেতাই দিবস পালন করা হয় ঝাড়গ্রামের লালগড়ে। এই নেতাই থেকেই তৎকালীন সিপিএমের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই তিনি এবার নেতাই দিবসে গরহাজির ঝাড়গ্রামে। তাই জল্পনার পারদ চড়েছে ফের।

প্রশান্ত কিশোরের টিমের নজরে সবকিছুই!
প্রশ্ন উঠেছে কেন দোলা সেন নেতাই দিবসে তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করে নেতাই-কাণ্ডে নিহতদের পরিজনদের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দিলেন। কেন শুভেন্দু গরহাজির থাকলেন লালগড়ের এই অনুষ্ঠানে? তিনি তো আগে কোনওদিন লালগড়ের নেতাই দিবসে অনুপস্থিত থাকেননি। তবে কি সত্যিই তিনি দূরত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। প্রশান্ত কিশোরের টিম কিন্তু সবকিছুই নজরে রাখছেন!
