Love Story: বিরল ভালোবাসা! স্ত্রীকে বাঁচাতে ২৭৪০ কিমি টানা ড্রাইভ করে সত্যি নায়ক ইনি… – ahmedabad man drove 2,740km nonstop to save wife’s life

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: একটানা ২,৭৪০ কিলোমিটার গাড়ি চালানো যে কী কঠিন কাজ, যিনি স্টিয়ারিংয়ে বসেন, তাঁর অজানা নয়। কিন্তু, জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে থাকা স্ত্রীকে বাঁচাতে সেই কঠিন কাজটাই দাঁতে দাঁত চেপে শেষ পর্যন্ত উতরে দিলেন অহমেদাবাদের এক ব্যক্তি।

শখের লং ড্রাইভের মতো গোটা রাস্তায় হুল্লোড়ে রোমাঞ্চর মেজাজ ছিল না। বরং, ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছোটা রুদ্ধশ্বাস এক অভিযান। একটা মুহূর্ত নষ্ট করার মতো সময় ছিল না ওই ব্যক্তির হাতে। কিন্তু, স্ত্রীর প্রতি বিরল ভালোবাসায় তিনি সফল এক অভিযাত্রী!

দুর্ঘটনায় স্ত্রী মিসবাহ খারাওয়ালার শরীরের ৭০ ভাগ পুড়ে যায়। তার মধ্যে মিসবাহ আবার কোভিড আক্রান্ত! ফলে, সমস্যা আরও জটিল হয়। ডাক্তার জানিয়ে দেন, স্ত্রীকে বাঁচাতে হলে ত্বকের গ্রাফটিং করতে হবে। সবথেকে কাছের যে স্কিন ব্যাংকটি– বেলগমে, কর্নাটক থেকে ১,৩৭০ কিলোমিটার দূরে। যাতায়াতে দ্বিগুণ পথ। স্ত্রীকে নয়া জীবন দিতে চ্যালেঞ্জটা নিয়েই ফেলেন জামালপুরের ফয়জল খারাওয়ালা।

গুজরাতে কোনও স্কিন ব্যাংক নেই। ফলে, ফয়জলের হাতেও সময় ছিল না। ডাক্তাররাও উদ্বিগ্ন, কারণ করোনাভাইরাস বাঁচার আশা অনেকখানি ক্ষীণ করে দেয়। করোনা লকডাউনের মধ্যে সেই অবস্থায় ওই দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে, ডাক্তারদের বিস্মিত করেই তিনি ফিরে আসেন। মিসবাহের সেপসিস শুরু হওয়ার আগেই। ডাক্তাররা জানান, ভারতে মিসবাহ প্রথম কোনও করোনা রোগী, যিনি এমন বীভত্‍‌স ভাবে আগুনে পুড়েছেন।

আরও পড়ুন:Watch: দিল্লির সাহসিনি মা ভেস্তে দিলেন মেয়েকে অপহরণের ছক, মূলচক্রী শিশুটির কাকা

৯ মে, রমজান ছিল সেদিন। বছর তেইশের মিসবাহ কিচেনে পরিবারের সকলের জন্য চা করছিলেন। কিন্তু, দুর্ঘটনাবশত আগুন ধরে যায়। পরিবারের সকলের মিলিত চেষ্টায় আগুন নেভাতে নেভাতে শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে যায় ওই যুবতীর। সেই অবস্থায় ওই রাতে তাঁকে নিয়ে একের পর এক হাসপাতাল। কিন্তু, জামালপুরে বাড়ি শুনে কেউ ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। কারণ, করোনার হটস্পট বলে চিহ্নিত জামালপুর কনটেইনমেন্ট জোন। শেষ পর্যন্ত এলজি হাসপাতালে তাঁর জন্য একটি বেড পাওয়া যায়। কিন্তু, দু-দিন পর যখন ধরা পড়ে মিসবাহ করোনা পজিটিভ, সেখান থেকে শিফট করে দেওয়া হয় এসভিপি হাসপাতালে।

আরও পড়ুন:করোনা-যুদ্ধে সবার আগে ভারতের সিরাম

জীবনের চরম সংকট কাটিয়ে এসভিপি হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবারই ছাড়া পেয়েছেন মিসবাহ। তাঁর কথায়, ‘আমি জামালপুর থেকে এসেছি শুনে, কোনও হাসপাতালই চায়নি ভর্তি নিতে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বিধায়ক ইমরান খেদাওয়ালার হস্তক্ষেপে এলজি হাসপাতালে বেড জোটে।’

এই অবস্থায় ওই যুবতী কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে না উঠলে, সেপটিক হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। এসভিপি হাসপাতালের দুই চিকিত্‍‌সক প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিজয় ভাটিয়া এবং মেডিসিন বিভাগের ডাক্তার আমি পারিখ মিসবাহের চিকিত্‍‌সার দায়িত্ব নেন। ১৪ মে ওই যুবতী করোনা মুক্ত হওয়ার পর, স্কিন গ্রাফ্টের প্রস্তুতি শুরু হয়।

আরও পড়ুন:বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্ত ১.৫ কোটি ছাড়াল, প্রাণহানি ৬.২৫ লক্ষ মানুষের

ডাক্তার ভাটিয়া জানানা, সাধারণত মুম্বই থেকেই আমাদের স্কিন আসে। কিন্তু, মুম্বই স্কিন ব্যাংক জানিয়ে দেয় তারা দিতে পারবে না। এর পর ইন্দোর হাসপাতালের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু, সেটি কোভিড হাসপাতালে পরিবর্তিত হওয়ায়, সেখান থেকেও নিরাশ করা হয়। এমত অবস্থায় রোগীকে সুস্থ করে তোলার সম্ভাবনা কমে আসছিল। সেসময় আশার আলো দেখান ন্যাশনাল বার্নস সেন্টারের আর এক চিকিত্‍‌সক সুনীল কেহস্বানি। তিনিই ভাটিয়াকে পরামর্শ দেন বেলগমের KLES ডাক্তার প্রভাকর কোরে হাসপাতালের ডাক্তার রাজেশ পাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।

সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পান ডাক্তার ভাটিয়া। কিন্তু, স্কিন আনাবেন কী করে। লকডাউনে কোল্ড-চেন ক্যুরিয়ার বন্ধ। সেসময় মিসবাহর স্বামী নিজের কাঁধে সেই দায়িত্ব তুলে নেন। কয়েক জন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ১৫ জুন রওয়না দেন। ১৭ জুন তাঁরা স্কিন নিয়ে ফিরে আসেন। হাসপাতাল থেকেই পুলিশের সঙ্গে কথা বলে, ফয়জল খারাওয়ালার জন্য গ্রিন প্যাসেজের ব্যবস্থা করা হয়।

ডাক্তার ভাটিয়া জানান, ১৭ জুন সকাল ৭টার মধ্যে হাসপাতালে স্কিন চলে আসে। তার এক ঘণ্টার মধ্যে মিসবাহের প্রথম সার্জারি হয়। অটোগ্রাফ্টের সঙ্গে হোমোগ্রাফ্ট করা হয়। ৪ জুলাই আরও একটা অটোগ্রাফ্ট করতে হয়। তার পরেই সুস্থ হয়ে ওঠেন ওই যুবতী।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

No Spike in Cases of Polio-Like Condition in Children: CDC

Thu Jul 23 , 2020
Latest Infectious Disease News WEDNESDAY, July 22, 2020 (HealthDay News) — It’s not clear if a rare polio-like illness called acute flaccid myelitis (AFM) will follow its usual pattern that should see a spike of cases in 2020, the U.S. Centers for Disease Control and Prevention says. The […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts