coronavirus: বাংলায় লকডাউন: হ্রাসের আশায় আজ ফের রাশ – strict lockdown in all over west bengal to control corona infection

হাইলাইটস

  • জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, ‘এই তো সবে শুরু।’
  • ‘আগামী দিনেও সাপ্তাহিক দু’ দিনের লকডাউন যদি এমনই ভালো ভাবে মেনে চলা হয়, তবেই মিলবে এর সুফল।’

এই সময়: আক্ষরিক অর্থেই বৃহস্পতিবার লকডাউন দেখেছে বাংলা। দেখে মনে হয়েছে, এমনটা যদি আগেই হতো, তা হলে হয়তো করোনার থাবা এতটা চওড়া হতো না। তাই মানুষের আশা, আজ, শনিবার তো বটেই, আগামী দিনগুলিতেও এমনই সফল লকডাউন হবে। সঙ্গে অনেকে এমন দাবিও করেছেন, সপ্তাহের দু’দিন লকডাউনের সঙ্গে সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতে যতই কড়াকড়ি করা হবে, ততই সংক্রমণে রাশ দেওয়া যাবে।

যদিও বৃহস্পতিবার বিমান চলাচল বন্ধ করা যায়নি বলে অসন্তুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। সেই খামতি ঢেকে আজকের লকডাউনে প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে আগাম নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে শনিবার কোনও যাত্রিবাহী বিমান না-চলে দমদম বিমানবন্দরে। ফলে নবান্নের মতোই চিকিৎসক মহলের একাংশেরও আশা, ধীরে হলেও বাংলা সঠিক পথের দিশারী হয়ে উঠতে চলেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, ‘এই তো সবে শুরু। আগামী দিনেও সাপ্তাহিক দু’ দিনের লকডাউন যদি এমনই ভালো ভাবে মেনে চলা হয়, তবেই মিলবে এর সুফল।’ তাঁদের এখনই আত্মবিশ্বাসী না-হওয়ার কারণ, এখন প্রতিদিন গড়ে ২৩০০ করোনা রোগীর হদিস মিলছে রাজ্যে। মাসখানেক পরে দৈনিক এই সংখ্যাটাই অন্তত তিন গুণ এবং পুজোর পরে তা ফের দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার কথা। যেমন, শুক্রবারের দেওয়া স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ২২১৬, মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। তবে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বৃহস্পতিবারের তুলনায় কিছুটা কম। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা এবং হাওড়ার ছবিটাও অপেক্ষাকৃত ভালো। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে পরীক্ষা হয়েছে ১৫,৪৮৫, যা একদিনের নিরিখে সর্বোচ্চ।

পরিস্থিতি যখন এ রকম, তখন কী সুফল মেলার আশায় এই লকডাউন? কমিউনিটি মেডিসিনের এক শিক্ষক-চিকিৎসক কিছুটা রসিকতা করেই বিজ্ঞাপনী পাঞ্চলাইনের সুরে বলছিলেন, ‘জোর-কা ঝটকা ধীরে-সে লাগে নীতিই হল লকডাউনের মূল উদ্দেশ্য।’ বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেসের (আইআইএসসি) দুই গবেষক শশীকুমার গণেশন ও দীপক সুব্রমণির তৈরি যে গাণিতিক মডেল মাথায় রেখে এ রাজ্যে সপ্তাহে দু’দিনের লকডাউন হচ্ছে, সেই মডেল ঘেঁটে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজির শিক্ষক-চিকিৎসক সৌগত ঘোষ বলছেন, ‘লকডাউন সফল হলে মাসখানেক পরে বাংলায় প্রতিদিন হয়তো গড়ে তিন হাজার কোভিড পজিটিভও মিলবে না। এবং পুজোর পর সংখ্যাটা দু’ হাজারেরও কম আর ডিসেম্বরের পর তা ৫০০-রও নীচে নেমে আসতে পারে। যদিও নানা বাস্তব অবস্থার উপর নির্ভর করে গাণিতিক মডেলের ফলাফল।’

এ নিয়ে অবশ্য দ্বিমতও রয়েছে। আইআইএসসি মডেল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথের প্রাক্তন অধিকর্তা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জিকে পাণ্ডে। তাঁর মতো অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ‘কর্নাটক, তামিলনাডু, ওডিশা, উত্তরপ্রদেশও তো সপ্তাহে এক বা দু’দিন লকডাউন করছে। তাতে লাভ কি খুব হয়েছে? বরং বাংলার ধাঁচে কর্নাটক আগেই দু’দিনের এমন লকডাউন করার পরেও সেখানকার কোভিড পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হয়ে চলেছে। বাংলার ভবিতব্যও যে তেমন হবে না, তার গ্যারান্টি কী?’ স্বাস্থ্য দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা অবশ্য এহেন সংশয়কে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। রাজ্যের এক শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য-আমলা বলছেন, ‘লকডাউনের আসল তাৎপর্য সম্পর্কে মানুষের স্বচ্ছ ধারণার অভাব রয়েছে। সংক্রমণের চেন ভাঙার বিষয়টি নিয়েও বিভ্রান্তি আছে অনেকের মনে। দু’ সপ্তাহ লকডাউন করলেই উর্ধ্বমুখী করোনার গ্রাফ রাতারাতি তলানিতে চলে যাবে, এতটা উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিজ্ঞানে শোভা দেয় না।’

স্বাস্থ্যভবনের জনস্বাস্থ্য শাখার এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, করোনা মহামারীর এই পর্যায়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বেই। তা অস্বাভাবিক নয়। ভয়েরও কিছু নেই। আইআইএসসি মডেল অনুসরণ করে সপ্তাহে দু’ দিন করে লকডাউন করা হচ্ছে মূলত তিনটি উদ্দেশ্য মাথায় রেখে। প্রথম উদ্দেশ্য, এতে সংক্রমণের আগ্রাসী রূপকে কিছুটা হলেও ঠেকানো যাবে। দু’ দিন লকডাউন করলে, রাস্তাঘাটে-হাটেবাজারে-অফিসকাছারিতে সামাজিক মেলামেশার মাধ্যমে সংক্রমণটা সাত দিনের বদলে পাঁচ দিন ছড়াবে। দৈনিক সংক্রমণ বৃদ্ধির হার কমবে কিছুটা।

দ্বিতীয়ত, সারা সপ্তাহে যত মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন, তার চেয়ে বেশ কিছুটা কম মানুষ হাসপাতালে আসবেন। আর তৃতীয়ত, লাগাতার সফল ভাবে সপ্তাহে দু’দিন লকডাউনটা চালিয়ে যেতে পারলে, কয়েক মাসের মাথায় চিকিৎসাধীন কোভিড রোগীর (অ্যাক্টিভ কেস) দৈনিক সংখ্যাতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি চোখে পড়তে বাধ্য। চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকার বলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হয়তো রোজই বাড়বে। কিন্তু সেই বৃদ্ধির হারে রাশ টানবে এই লকডাউন, যাতে দৈনিক পরীক্ষিত নমুনার মধ্যে পজিটিভ আসার হার কমতে থাকে। বাড়তে বাড়তে এই হার এখন ১৬% পেরিয়ে গিয়েছে। আশা, এই লকডাউন তাকে ১০ শতাংশের নীচে নিয়ে আসবে।’
তাঁর ব্যাখ্যা, করোনা যখন ছড়িয়ে পড়েছে, তখন তাকে জোর করে থামিয়ে দেওয়া যাবে না। বড়জোর তার গতি মন্থর করে প্রশাসন নিজেদের আরও বেশি প্রস্তুত করে তুলবে, যাতে অসম লড়াইটায় যুঝে ওঠা যায়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

No flights to and from Kolkata airport today and July 29: AAI

Sat Jul 25 , 2020
By: Express News Service | Kolkata | Published: July 25, 2020 8:09:36 am On July 19, the government had extended a ban on flights from six Covid-19 hotspot cities — Delhi, Mumbai, Pune, Chennai, Nagpur and Ahmedabad — to Kolkata was extended till the end of the month. (File) The […]

You May Like

Breaking News

Recent Posts