হাইলাইটস
- সমাজবাদী পার্টির একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অমর সিং প্রয়াত।
- শনিবার দুপুরে সিঙ্গাপুরে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
- ২০১৩ সাল থেকে অমর সিং কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন।
দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ ছিলেন অমর সিং। ২০১৩ সাল থেকে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। গত কয়েক মাস আগে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ICU-তে রাখা হয়েছিল বলে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
একসময় দিল্লির জাতীয় রাজনীতির অন্যতম ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছিলেন অমর সিং। সমাজবাদী পার্টির নেতা হওয়া সত্বেও রাজনৈতিক মহলের সব শিবিরে তাঁর ছিল অবাধ বিচরণ। ২০০৮ সালে ইন্দো-মার্কিন পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে প্রথম ইউপিএ সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল বামেরা। ফলে সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে মনমোহন সিং সরকার। এই সংকটকালে সমাজবাদী পার্টি সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় সে বার সংসদে আস্থা ভোটে উতরে যায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ। তৎকালীন সপা সুপ্রিমো মুলায়ম সিং যাদবকে এই বিষয়ে রাজি করানোর ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা নিয়েছিলেন অমর সিং। পরবর্তী কয়েক বছর জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব বাড়তে থাকে।
তবে নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে সমাজবাদী পার্টির সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন মুলায়মের একদা ঘনিষ্ঠ অমর সিং। পরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর পরে নিজের দল খুলেছিলেন একদা সপার একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেতা। তবে রাজনীতির অঙ্গনে তাঁর প্রভাব প্রতিপত্তি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছিল। সম্প্রতি ফের রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার পরে মনে করা হচ্ছিল, ফের স্বমহিমায় ফিরে আসবেন সদাহাস্য এই নেতা। তবে সঙ্গ দিচ্ছিল না শরীর।
অসুস্থতা সত্বেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ সক্রিয় ছিলেন অমর সিং। এদিন সকালেও ট্যুইট করে স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং শিক্ষাবিদ্ বাল গঙ্গাধর তিলকের প্রয়াণ বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
পাশাপাশি সমর্থকদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান বর্ষীয়ান এই নেতা।
গত ২২ মার্চ হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই এক ভিডিয়ো বার্তা পোস্ট করেছিলেন অমর সিং। ওই ভিডিয়ো বার্তায় করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন করার জন্য তাঁর সমর্থকদের কাছে আবেদন করেছিলেন তিনি।
২০২০ সালের শুরুর দিকে একবার অমর সিংয়ের মৃত্যু নিয়ে গুজব ছড়িয়েছিল। সেবার সব জল্পনায় জল ঢেলে ছোট্ট একটি ভিডিয়োর সঙ্গে লিখেছিলেন, ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’।
তবে চিকিৎসা শেষ করে আর দেশে ফেরা হল না ‘টাইগারের’। মাত্র ৬৪ বছর বয়সে সিঙ্গাপুরে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। যার সঙ্গে এক বর্ণময় রাজনৈতিক অধ্য়ায়ের অবসান হল।
আরও পড়ুন: কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে স্যাটেলাইট-নজরদারি ইরানের! ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি?
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।