ক’দিন আগে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত এবং তৎকালীন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সচিন পাইলটের সংঘাতে মরুরাজ্য উত্তাল হয়েছিল। পাইলটের নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন রাজস্থানে কংগ্রেস বিধায়কদের একাংশ। সেই দ্বন্দ্ব মেটাতে কার্যত কালঘাম ছুটেছে দলের হাইকম্যান্ডের। মাসখানেকের সংঘাত পর্বের পর শেষপর্যন্ত টিম-সহ কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন পাইলট।
শুধু তাই নয়, সম্প্রতি রাজস্থান বিধানসভায় আস্থাভোটে বিজেপিকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়ে জয়লাভ করেছে কংগ্রেস। ২০০ আসনের বিধানসভায় ১২৫ বিধায়কের সমর্থন পায় তারা। ধ্বনিভোটে জয় আসে কংগ্রেসের। বিধানসভায় আস্থা ভোটে কংগ্রেসের ঐক্যের ছবির সাক্ষী থেকেছে গোটা দেশ।
আরও পড়ুন: মুখ পুড়ল বিজেপির, পাইলটকে সঙ্গী করে রাজস্থান আস্থাভোটে সহজ জয় গহলোতের
টিম পাইলটের ঘর ওয়াপসির মধ্য দিয়ে মরুরাজ্যে কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহে আপাত দাঁড়ি পড়লেও তা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একেবারে নিশ্চিন্ত করতে পারেনি। বরং সনিয়া গান্ধীদের সামনে আসল লড়াই এখনও বাকি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্ষবেক্ষকদের একাংশ! এক্ষেত্রে তাঁদের ব্যখ্যা, দলে ফেরার আগে সনিয়া ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় একগুচ্ছ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন সচিন ও তাঁর অনুগামী বিধায়করা। তাঁদের মূল নিশানা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত। বিদ্রোহীদের ক্ষোভ খতিয়ে দেখে দূর করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সনিয়া-রাহুলদের তরফে। অন্যদিকে, ‘শান্তি চুক্তি’ হলেও পাইলটের প্রত্যাবর্তন অশোক গেহলত শিবির কতটা মন থেকে মেনে নিয়েছেন তা নিয়ে রাজনৈনিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মধ্যে সংশয় আছে। অনেকের মতে, দু’জনের মাঝে এখনও ছাইচাপা আগুন জ্বলছে। এই পরিস্থিতিতে গেহলতকে না চটিয়ে বিদ্রোহীদের ক্ষোভ দূর করাই কংগ্রেস হাইকমান্ডের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। এমন সময়ে দলের বিশ্বস্ত সৈনিক মাকেনকে রাজস্থানে দূত করে পাঠালেন সনিয়া গান্ধী।
বর্ষীয়ান নেতা মাকেন ঘরোয়া রাজনীতিতে বরাবরই গান্ধী পরিবারের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত। বিগত মনমোহন সিং মন্ত্রিসভায় তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে। বর্তমান চ্যালেঞ্জিং সময়ে এমনই এক বর্ষীয়ান এআইসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক করে রাজস্থানে পাঠিয়ে সেই কাজটাই শুরু সনিয়া গান্ধীর দল শুরু করে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
