অসমের বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে। রাজ্যের ধেমাজি, লখিমপুর এবং বাকসা জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার জল সরে যেতে শুরু করেছে। রবিবার বর্তমানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩০০ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৮১২ জন। এমনই জানানো হয়েছে রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তরফে।
এর ঠিক উলটো ছবি ধরা পড়েছে বিহারে। এই মুহূর্তে রাজ্যের ১৬টি জেলা বন্যা কবলিত। সেই সংখ্যা না বাড়লেও প্রতিদিন বন্যার জল নতুন নতুন এলাকাকে গ্রাস করছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় আরও প্রায় ১২,৫০০ মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। উদ্ধারকাজে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি NDRF-এর ৩৩টি দলকে নামানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমস্ত ধরনের পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে রাজ্য সরকারের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: নাগাড়ে বৃষ্টিতে বানভাসি তেলেঙ্গানা, জারি সতর্কতা! তৈরি রাখা হল চপার
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে শনিবার থেকে একনাগাড়ে বৃষ্টি হয়ে চলেছে ওডিশায়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে বন্যার মতো পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। অসংখ্য মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে। খেত জলে ডুবে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসল। সেইসঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে বালাঙ্গির জেলায় প্রবল বৃষ্টিতে বাড়ির দেওয়াল ধসে একই পরিবারের ২ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত রাজ্যে ভারী বৃষ্টি চলবে বলে পূর্বভাসে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর।
ওডিশার মতোই প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তেলেঙ্গানায়। রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারি করেছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। আধিকারিকদেরও যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমে গিয়েছে। বেশ কয়েকটি ট্যাংক ও খাল উপচে পড়ে আশপাশের এলাকাকে জলমগ্ন করে তুলেছে। ওয়ারাঙ্গলের বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণ জলের তলায়। স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বিলি করা শুরু হয়েছে ত্রাণও। দুর্গত এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে।
জয়শংকর ভূপালাপল্লি জেলায় ১৪ জন মত্স্যজীবীকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে। কুন্দনপল্লি গ্রামে বন্যার জলে আটকে পড়েছিলেন তাঁরা। জমে থাকা জল চাষের জমি থেকে পাম্পের মাধ্যমে সরাতে গিয়েই তাঁরা বন্যার জলে বন্দি হয়ে পড়েছিলেন। রাজ্য় সরকার অনুরোধ করার পর বায়ুসেনা একটি হেলিকপ্টার পাঠায় মত্স্যজীবীদের উদ্ধার করার জন্য।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
