এক নেটিজেন ওই দৃশ্যের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেই, এ নিয়ে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে। চূড়ান্ত সমালোচনার মুখে পড়ে জনপ্রিয় সিরিজ এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মটি। প্রাদেশিকতা ও বাঙালি-বিদ্বেষের অভিযোগ তুলে বলা হয়, ক্ষুদিরাম বসুকে অপমান করা মানে বাঙালি জাতির অপমান তো বটেই, দেশের অপমান, স্বাধীনতারও অবমাননা। একজন ফেসবুকে পোস্ট করেন, ‘বাঙালি বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু ওয়েব সিরিজ ‘অভয় ২’-তে পলাতক অপরাধীর তালিকায়। তবে এখানে যদি আন্নাদুরাই, এমজি রামচন্দ্রন কিংবা এনটি রামা রাওয়ের ছবি থাকত, তা হলে দাক্ষিণাত্য কতটা ক্ষোভে ফেটে পড়ত বলুন তো!’ অনেকে আবার এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেরও গন্ধ পেয়েছেন। এসএফআই-সহ চারটি বাম ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ, এ ভাবে ইতিহাসের চূড়ান্ত গৈরিকীকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি-আরএসএস। সাইবার ক্রাইমে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছে এসএফআই।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, কেমন করে এমন একটি মারাত্মক ভুল পুরো প্রোডাকশন টিম, এমনকী ওয়েব প্ল্যাটফর্মের কর্তাদেরও চোখ এড়িয়ে গেল? কেন ভুল চোখে পড়ল না ‘অভয় ২’-র পরিচালক কেন ঘোষেরও? ক্ষুদিরাম বাঙালি বলেই কি এমন অবহেলা? শেষ পর্যন্ত নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে জি ফাইভ স্বীকারোক্তি দিয়েছে, ‘কোনও গোষ্ঠীকে আঘাত করার লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপ করা হয়নি। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া মাথায় রেখে আমরা ক্ষুদিরাম বসুর ছবিটি ব্লার করে দিচ্ছি।’ কেন ঘোষ বা কুণাল খেমুর তরফে অবশ্য আলাদা কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
এই স্বীকারোক্তিতে কিন্তু অনেকেরই রাগ পড়েনি। অনেকেই এমন অন্যায়ের প্রতিবাদে ওই ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে বয়কট করার ডাক দিয়েছেন। ফেসবুক ও টুইটারে বয়কট চেয়ে একের পর এক পোস্ট চোখে পড়েছে রবিবার রাত পর্যন্ত।
‘অভয় ২’-র কীর্তির এখানেই শেষ নয়। ক্ষুদিরামের সঙ্গেই আরও একটি ছবি বসানো হয়েছে ‘রোগস গ্যালারি’তে। সে ছবির সঙ্গে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের হুবহু মিল রয়েছে, এমনই মত উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বাংলার পরিচালককে অপমানের সমালোচনা করা অভিযোগ তোলা হয়েছে বাঙালি-বিদ্বেষের। শুধু তাই নয়, অপরাধীদের মধ্যে এক মহিলার ছবি রয়েছে, যাঁর সঙ্গে ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের মিল পেয়েছেন অনেকেই!