চলতি মরসুমে জুনের শুরু থেকেই বর্ষা সক্রিয় থাকায় বৃষ্টির অভাব হয়নি। গ্রীষ্মের দীর্ঘ সময় জুড়ে লকডাউন থাকায় বর্ষার আগে সেচ ব্যবস্থা পুরোপুরি ঢেলে সাজানো সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি নামার পর কাজ হয়েছে বেশি। তার মধ্যে একটানা বৃষ্টিও হয়েছে। ফলে বাংলার বেশিরভাগ নদীই টইটম্বুর। অতিরিক্ত বৃষ্টি বা পড়শি রাজ্যের জল আসার অর্থই হল, পাড় উপচে জল ঢুকবে দু’পাশের তল্লাটে।
কোথায় কেমন বৃষ্টি হতে পারে?আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আজ, সোমবার দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ, গোটা দিনে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি। কাল, মঙ্গলবার বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই বাড়বে। কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গেই ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অতি ভারী বর্ষণ অর্থাৎ ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে পশ্চিমাঞ্চলে। তবে দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবারও আবহাওয়ার আহামরি উন্নতি হবে না। কয়েকটি জেলায় সে দিনও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টি চলবে ঝাড়খণ্ডে।
আরও পড়ুন: কলকাতায় কনটেইনমেন্ট জোন কমে এখন মাত্র ১৭, এক ক্লিকে নয়া তালিকা…
সম্ভাব্য দুশ্চিন্তা হিসেবে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়ে রেখেছে, দক্ষিণবঙ্গের নদীগুলিতে জলস্তর বাড়তে পারে। জলমগ্ন হতে পারে নগর এলাকা। বিশেষ করে টানা দু’দিন ভারী বৃষ্টি হলে কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে হবে।
চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে হচ্ছে সেচ বিভাগকেও। এ পর্যন্ত সফল হলেও, অগস্টের বৃষ্টিতে বহু জায়গাতেই বিপর্যয় শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদ থেকে সুন্দরবন, ভাঙনের সাক্ষী। অমাবস্যার কোটাল ও আগের নিম্নচাপের জোড়া ফলায় উম্পুন-বিধ্বস্ত সুন্দরবন আবার বাঁধ ভাঙার সঙ্গে যুঝছে। কোটালের তীব্রতা কমায় জল নামতে শুরু করেছে দুই ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকায়। কাজ শুরু করেছে সেচ দপ্তর। তবে আগামী নিম্নচাপে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা ভাবলেই শিউরে উঠছেন দ্বীপবাসী।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
