এই ঘটনার পর উইসকনসিনের ডেমোক্রেটিক গভর্নর টনি এভারস ঘটনার নিন্দা করেন। টুইট বার্তায় গভর্নর জানান, রবিবার জ্যাকব ব্লেক (Jacob Blake)-কে যে ভাবে গুলি করা হয়েছে, তার নিন্দা করছি। নিজের এসইউভির দরজা খুলে চালকের আসনে বসার সময়, তিন শিশু সন্তানের সামনে পিছন থকে ব্লেককে গুলি করা হয়। ব্লেক বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে গভর্নর আশ্বস্ত করেছেন।
জানা গিয়েছে, উইসকনসিন অফ জাস্টিস বিভাগ কেনোশা শহরের এই ঘটনার তদন্ত করবে। জ্যাকব ব্লেকের ঘটনা নিয়ে পুলিশ মুখে কুলুপ এঁটেছে। এই কৃষ্ণাঙ্গের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল কি না, সে বিষয়েও কিছু জানায়নি।
পুলিশের এই গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটে বিকেল ৫টার সময়। পথচলতি মানুষজন সেলফোনে ঘটনার ভিডিয়ো তুলে অনলাইনে পোস্ট করে দেন। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, নিজের এসইউভির পাশ দিয়ে হেঁটে ড্রাইভারের দিকের দরজার সামনে আসেন ব্লেক। সেসময় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েক জন অফিসার ওই কৃষ্ণাঙ্গের দিকে বন্দুক তাক করে চিত্কার করেন। ব্লেক ড্রাইভারের দরজা খুলে, গাড়িতে ঝুঁকলে পিছনে থেকে এক অফিসার এসে তাঁর জমার কলার ধরেন। ব্লেক ঘুরে দাঁড়াতে গেলে ওই অফিসার গুলি চালিয়ে দেন।
আরও পড়ুন:মহারাষ্ট্রে বহুতল ভেঙে জখম ১৫, ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে কমপেক্ষ ৭০ জন
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাতটি গুলির শব্দ শোনা গিয়েছে। যদিও, ব্লেকের গায়ে ক’টা গুলি লেগেছে, বা পুলিশ কত রাউন্ড গুলি চালিয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। পুলিশের এই গুলি চালানোর সময় এক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাকে ঘটনাস্থলে চিত্কার করে লাফালাফি করতে দেখা গিয়েছে। গর্ভনর জানান, তিনি ঘটনা সম্পর্কে বিশদ এখনও জানতে পারেননি
আরও পড়ুন: নতুন নাম জর্জ ফ্লয়েড, আমেরিকায় শেষ ৬ বছরে পুলিশি গুলিতে মৃত ৭৬৬৬ জন কৃষ্ণাঙ্গ!
এর আগে গত মে মাসে আমেরিকার মিনিয়াপোলিসে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ঘটনায় মার্কিন পুলিশের বর্বরতার বিরুদ্ধে গোটা বিশ্ব নিন্দায় সরব হয়েছিল। শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে নিহত হন ওই কৃষ্ণাঙ্গ যুবক। যে ঘটনায় উত্তাল আমেরিকা। পুলিশের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের দাবি ওঠে। মিনিয়াপোলিসের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিক্ষোভ সর্বত্রব ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিসংযোগের একের পর এক ঘটনা ঘটে মিনিয়াপোলিস, লস এঞ্জেলস, শিকাগো, আটলান্টা-সহ আমেরিকার বিভিন্ন শহরে। মিনিয়াপোলিসে টানা পাঁচ রাতের হিংসা রুখতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস, গ্রেনেড পর্যন্ত ছুড়তে হয়েছিল। পরিস্থিতি সামলাতে লস এঞ্জেলস, শিকাগো-সহ আমেরিকার ১৩টি শহরে রাতে কার্ফুও জারি করা হয়েছিল। অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া জাতীয় নিরাপত্তারক্ষীও সেসময় নামাতে হয়। ‘আমার দম আটকে আসছে’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীদের দেখা যায় করোনায় লকডাউনের মধ্যে হোয়াইট হাউসের বাইরে। কার্ফু ভেঙে নিউ ইয়র্ক, আটলান্টা, লাস ভেগাসের রাস্তায় রাস্তায় চলে দেদার ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনা। আন্দোলনের জেরে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ‘থার্ড ডিগ্রি’ খুনের মামলাও দায়ের হয়।
ওই ঘটনার ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছিল, জালিয়াতির দায়ে ধৃত বছর ছেচল্লিশের কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি জর্জ ফ্লয়েডের গলায় হাঁটু দিয়ে চেপে রাখা শ্বেতাঙ্গ পুলিশ। ফ্লয়েড হাঁটুর চাপে কাতরাচ্ছেন। তাঁর মুখে শোনা যায়, ‘আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, আর পারছি না। মরে যাচ্ছি আমি।’ অফিসার ডেরেক শভিনের আক্রোশ তবু মেটেনি। প্রায় মিনিট পাঁচেক পরে শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান জর্জ। মোবাইল ফুটেজ সামনে আসার পর-পরই ওই ঘটনায় জড়িত চার পুলিশকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তার পরেও কিন্তু সহজে প্রতিবাদের আগুন নেভেনি।
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।
