Supreme Court on Puri Rathyatra: পুরীর রথযাত্রা নিয়ে হৈহৈ, আদালতের আঙিনায় যখন ধর্ম… – in depth analysis of puri rathyatra case in supreme court by renowned advocate smarajit roy chowdhury

হাইলাইটস

  • দেখা গেল ১৫৬৮ থেকে ১৭৩৫ সালের মধ্যে মোট ৩২ বার রথের চাকা স্তব্ধ ছিল।
  • হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে। আদালত রায় দিয়েছে। কিন্তু সমস্যা মেটেনি এমন নজির বহু।
  • ১৯৫১ সনে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক মামলায় বলে শিখরা ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী একটির বেশি কৃপাণ রাখতে পারবে না।

স্মরজিত রায় চৌধুরী,আইনজীবী

পুরীর রথযাত্রা নিয়ে হৈহৈ কাণ্ড। ১৮ জুন সুপ্রিম কোর্ট করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় পুরীর রথযাত্রা স্থগিত করে বলেন-অনুমতি দিলে প্রভু জগন্নাথ আমাদের ক্ষমা করবেন না। ওড়িশা বিকাশ পরিষদ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দূরত্ব বিধি লঙ্ঘন হবার আতঙ্কে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সেই ভিত্তিতেই এই আদেশ। শুরু হল গবেষণা ।এর আগেও কি রথ বন্ধ হয়েছে? দেখা গেল ১৫৬৮ থেকে ১৭৩৫ সালের মধ্যে মোট ৩২ বার রথের চাকা স্তব্ধ ছিল। কারণ কখনও বহিঃশত্রুর হামলা কখনও অন্য কোনও কারণে। শেষবার বন্ধ হয়েছিল ২৮৪ বছর আগে।

ফের এক গুচ্ছ আবেদন।পরে মত বদলে শর্ত সাপেক্ষে সুপ্রিম কোর্ট রথযাত্রায় সায় দেয়। সর্বাধিক ৫০০ জন সেবায়েত দূরত্ব রেখে রথ টানতে পারবে। অথচ গুজরাত হাইকোর্ট অহমদাবাদের রথযাত্রা কিন্তু বন্ধ রাখল করোনা কারণে। তবে এটাও ঠিক, গুজরাটে করোনার হামলার মাত্রা পুরীর থেকে বহুগুণ বেশি। তবু একই যাত্রায় পৃথক ফল তো হল!

সংবিধানের ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্ম পালনের অধিকার নাগরিকের মৌলিক অধিকার।যদিও রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে, প্রধানত জনস্বার্থের কারণে তা বারেবারে খর্ব হয়েছে। তাই আদালতের আঙিনায় ধর্মকে মানুষের বেশে আসতে হয়েছে। হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে। আদালত রায় দিয়েছে। কিন্তু সমস্যা মেটেনি এমন নজির বহু।

১৯৫১ সনে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক মামলায় বলে শিখরা ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী একটির বেশি কৃপাণ রাখতে পারবে না। দুটি রাখতে গেলে অনুমতি লাগবে। ওই বছরই ঘটনা। বোম্বাই হাইকোর্ট হিন্দু ধর্মে দুই বিবাহকে বেআইনি ঘোষণা করে। বা ধরা যাক রাম মন্দির -বাবরি মসজিদ মামলা। বা শবরিমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশিধিকারের মামলা। তিন তালাক প্রথা বেআইনি ঘোষণা মামলা। আদালতই সামলেছে। কিছু ক্ষেত্রে সামলানো যায়নি। যেমন শবরীমালা মামলা। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে দিগম্বর জৈন বা নাগা সন্ন্যাসীরা কি উলঙ্গ ভাবে থাকতে পারে? একি অশ্লীলতা? একি ১৮৬০ সালের ভারতীয় ফৌজদারি আইনের ২৯৪ ধারার পরিপন্থী? উত্তর অজানা। যদিও সামাজিক স্তরে কখনও হয়তো এই নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে এখনও কোন মামলা হয়নি।

২০১৫ সালে রাজস্থান হাইকোর্ট এক মামলায় আদালত বলে জৈন ধর্মে সান্থারা বা না বাঁচার আধিকার সম্পূর্ণ বেআইনি । না খেয়ে মৃত্যুর পথে চলে যাওয়া কিছুতেই মুক্তি নয় (নিখিল সোনি বনাম ভারত সরকার মামলা,২০০৬) ।পরে ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। জৈনদের বক্তব্য ধর্মের অধিকার মৌলিক অধিকার, আদালতের হস্তক্ষেপ এক্ষেত্রে বাঞ্ছনীয় নয়। হাইকোর্টের মত, এটি আত্মহত্যা ছাড়া কিছুই নয়। এটিকে ধর্মাচরণ বলা যায় না। দেশ জুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। প্রশ্ন, দেশ জুড়ে প্রতিবাদ হলেই কি বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপ পরে? একই আইন, কিন্তু দুটি আদালতের রায় পৃথক হল। কি করে? উত্তর, চিন্তার পার্থক্য।

এরকম বহু বিষয় আছে যার আজও কোনও উত্তর নেই। যেমন জৈন ধর্মেই মহিলারা মূর্তি ছুঁতে পারেন না। হাজি আলি দরগাতে মহিলারা কেবল ডিসেম্বর মাসেই প্রবেশ করতে পারেন। অসমের পাতবাউসি সাতরা মন্দিরে রজঃস্বলা নারীদের প্রবেশাধিকার নেই। হারিয়ানার কার্তিক মন্দিরেও এক অবস্থা। নিজামুদ্দিন দরগায় মহিলাদের অন্য নিয়ম। সূর্যাস্তের পর জামা মসজিদে মহিলারা ঢুকতে পারেন না। কাশি বা পুরীর মন্দির শুধুই হিন্দুদের জন্য । অন্যদিকে ভৈরবী মন্দিরে আবার পুরুষের প্রবেশ নিষেধ।

এসব হল পরম্পরা। পরম্পরার সঙ্গে যখন আধুনিক ভাবনার বিরোধ হয়, তখন কোনও পক্ষ আদালতে গেলে বিষয়টি নিয়ে বিচারের প্রশ্ন আসে। আসলে গীর্জার সঙ্গে গ্যালেলিওর বিরোধের যে ইতিহাস, সেটা সত্যের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংঘাত। সেই সংঘাতের কথা সভ্যতার ইতিহাসে থেকে যায়। সেই ইতিহাস দেশে দেশে রয়েছে নানা বর্ণে নানা রঙে। বিরোধ যখন বাড়ে সমাজ উত্তাল হয়। তার পর কালের নিয়মে সেই বিরোধ কোথাও একটা গিয়ে থিতু হয়। কখনও সমাজ তা মেনে নেয়। কখনও বিরোধ থেকেই যায়। তবে আচার, আচরণ, পরম্পরা, ধর্মীয়স্থানের জমির মালিকানা ইত্যাদি সংক্রান্ত বিরোধ হয়তো ততটা সত্যের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংঘাত (যে অর্থে গ্যালিলিও বনাম রাষ্ট্র) নয়, তবু, অন্তত আমাদের দেশের ক্ষেত্রে বলাই যায়, এই সব বিরোধের প্রভাব রাজনীতির ওঠা-পড়াকে অনেক সময়ই নিয়ন্ত্রণ করে।

ভারতীয় সংবিধানে যেমন ধর্ম নিরপেক্ষতা রয়েছে ঠিক তেমনই খুব স্বাভাবিক ভাবেই ধর্ম পালনের অধিকারও রয়েছে । আসলে ধর্ম তো শুধু ধর্ম নয়। যখন বহু মানুষ কোনও ধর্মের কোনও অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন, তখন সেখানে প্রশাসনের প্রশ্নটাও এসে পড়ে। তাই আনন্দমার্গ সম্প্রদায়ের ‘তাণ্ডব নৃত্য’ নিয়েও আদালাতকে মাথা ঘামাতে হয়। আবার দুর্গা পূজার বিসর্জন কি ভাবে হবে তা-ও ঠিক করে দিতে হয়। মহরমের তাজিয়ার গতিপথও ঠিক করে দেয় প্রশাসন।

আবার এসে গেল উল্টোরথ। অভিযোগ উঠেছে, রথে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা হয় নি। ৫০০ সেবায়েতের বদলে রথ টেনেছে অনেক বেশি মানুষ, অন্যান্য বহু নির্দেশ পালন করা হয়নি। ভক্ত সমাগম হয় নি কিন্তু দূরত্ববিধি নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেল। মাস্ক তো দূরের কথা। তাহলে কি আদালত অবমাননার মামলা হবে? ভক্তদের আবেগ জিতেছে। আদালতের নির্দেশ কি হেরে গেছে? তা কিন্তু বলা যাবে না। বলা যাবে না কারণ, ধর্মঘট ‘বেআইনি’ বা রথ নিয়ে নির্দেশ, যেখানে বহু নাগরিক জড়িত থাকেন, সেই সব কএত্রে দেখা যায়, নির্দেশ দিয়েও আদালত, রাষ্ট্র অনেক সময় নরম মনোভাব দেখায়। হয়তো ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থেই।

মনে রাখতে হবে, আধুনিক সমাজে ধর্মের থেকেও আদালত অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। ধর্ম এবং তা নিয়ে কোনও বিরোধ দেখা দিলে আমাদের আদালতের কাছেই যেতে হবে। আমরা সেটা মেনেই নিয়েছি। কিন্তু, আদালত কখনও-ই ধর্মের দ্বারস্থ হবে না। গণতন্ত্রের নিশ্চয়তার সঙ্গে আদালতের বিষয়টি জড়িত। ধর্মের সঙ্গে নয়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

From ‘Dance Pe Chance’ to ‘Byomkesh Pawrbo’: How did Bengal dance to Saroj Khan’s steps? | Kolkata News

Fri Jul 3 , 2020
Kolkata: It was in the early 60s when Saroj Khan was looking forward to her tryst with the Bengali film industry. Back then, she was assisting choreographer B Sohanlal. Sukumar Dasgupta’s Bengali film titled “Sathihara”, which had music by Hemanta Mukherjee and had some dance routines between Uttam Kumar and […]

Breaking News

Recent Posts