বুধবারের বিরোধী-বৈঠকে কেরালার সিপিএম মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে না-ডাকাও এই প্রেক্ষিতে মস্ত ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছেন অনেকে। এই ঘটনায় দিল্লিতে বাম নেতাদের গলাতেও ক্ষোভের আঁচ মিলেছে৷ পুরো ঘটনাপ্রবাহে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন জানিয়ে প্রাক্তন সাংসদ ও বর্ষীয়ান বাম নেতা হান্নান মোল্লার মন্তব্য, ‘কংগ্রেসকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না৷ ওরা নিজেদের স্বার্থে অনেক কিছুই করতে পারে৷ ওদের নিজেদের ঘরের অবস্থাও তো ভালো নয়। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে এগোনোর কোনও পরিকল্পনা আছে কি না কংগ্রেসের–তা সময়ই বলবে৷ দেখা যাক, কোথাকার জল কোথায় গড়ায়৷’
তবে আর এক সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের ব্যাখ্যা, ‘সনিয়া গান্ধীর ডাকা মিটিংয়ে উনি (মমতা) সাম্প্রতিক অতীতে যাননি, এমন নজিরও রয়েছে। মমতা অতীতে একাধিক বার বলেছেন, বিজেপি ওঁর ন্যাচারাল অ্যালাই। উনি যে এক সময়ে কংগ্রেসে ছিলেন–তার জন্য তৃণমূলনেত্রী একাধিক বার খেদ প্রকাশও করেছেন।’ রাজ্যের বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যেরও দাবি, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষার প্রশ্নে কংগ্রেসের অবস্থানের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মিল রয়েছে। সে কারণেই বৈঠক। এর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সম্পর্ক নেই। তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের নতুন কোনও সমীকরণ হচ্ছে ভাবার কারণ নেই।’
এর পরেও অবশ্য বুধবারের বৈঠকে সনিয়া-মমতার সম্পর্কে নতুন করে উষ্ণতাই লক্ষ করেছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। গোড়ায় নিজের বক্তব্যের শেষে মম সনিয়াকে অনুরোধ জানান বৈঠক পরিচালনার জন্য৷ দেশের প্রাচীনতম এবং প্রধান বিরোধীদলের সভানেত্রী সনিয়া তখন বলেন, ‘মমতাজি, আপনিই বৈঠক পরিচালনা করছেন না কেন ?’ মমতা বলেন, ‘আপনি সিনিয়র নেতা৷’ সনিয়া জবাব দেন, ‘না, না। এটা কোনও বিষয় নয়৷ আপনি বলেছিলেন, আপনাকে আগে চলে যেতে হতে পারে৷ আপনিই বৈঠক পরিচালনা করুন, তার পরে আমি থাকব৷’ সনিয়ার সৌজন্যে আপ্লুত মমতা বলেন, ‘এটা আমার কাছে সম্মানের৷ সম্মানিত বোধ করছি৷ কিন্তু আমার মনে হয়, আপনি যখন আছেন, তখন আপনিই বৈঠক পরিচালনা করুন৷ প্রথমে আমি বক্তাদের নাম ঘোষণা করছি, পরে আপনিই করবেন৷’ মমতার প্রস্তাবে সম্মতি দেন সনিয়া৷ দীর্ঘক্ষণ বৈঠক পরিচালনা করেন মমতা, তার পরে হাল ধরেন সনিয়া৷ মমতা স্মরণ করেন, তিনি কেন্দ্রে মন্ত্রী থাকার সময় ‘রাজীব খেলরত্ন’ চালু করেছিলেন।
