এদিন রাতে অসমও কেঁপে উঠেছে। মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে অসমের তেজপুরের কাছাকাছি এলাকায়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি বিভাগ জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১৩ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৪। এর আগে চলতি সপ্তাহেই কম্পন অনুভূত হয় পশ্চিমবঙ্গে। শিল্পশহর দুর্গাপুরে বুধবার সকালে এই কম্পন অনুভূত হয়। রিখটারে স্কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.১ ম্যাগনিটিউড। তার আগে ২১ অগস্ট শুক্রবার সকালে কম্পন অনুভূত হয় পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর এলাকায়। সেই ভূমিকম্পের তীব্রতা অবশ্য বেশি ছিল না।
সবমিলিয়ে ১১ লক্ষ লোকের বাস মিজোরামে। ভারতের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন জনবহুল রাজ্য। এর আগে ২২ জুন মিজোরামে ৫.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে চম্পাই জেলায় রাস্তাঘাট, বাড়িঘরের ভালোই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়ে। সরকারি হিসেবে ৩১টি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গত জুন থেকে ঘনঘন ভূমিকম্পে পার্বত্য মিজোরামে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কেবল জুন মাসেই বিভিন্ন মাত্রার চারটি ভূমিকম্প হয়েছে মিজোরামে। উত্তরপূর্বের অন্যান্য রাজ্যেও কম্পন অনুভূত হয়।
আরও পড়ুন: আন্দামান-নিকোবরে গ্রেট আন্দামানিজ উপজাতির ফের ৪ জন করোনা আক্রান্ত, সতর্ক কেন্দ্র
ভারতীয় মৌসম ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, জুন মাসের ২৫ তারিখ এক ঘণ্টার মধ্যে ৪.২ ও ৪.৫ মাত্রার দু’টি ভূমিকম্প হয় মিজোরামে। হয়েছিল মিজোরামের চম্পাই এলাকায়। বিশেষজ্ঞরা সেই এলাকা গিয়ে পরিদর্শনও করেন। তবে, গত ২২ জুন ভোর ৪.১০-এ কেঁপে ওঠে মিজোরামের সেই চম্পাইয়ের ভূমি। ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৫.৩। ২০ কিমি গভীরে ছিল কম্পনের উপকেন্দ্র। বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটল ধরে যায়। তার দিন দুই আগেই অসম, মেঘালয়, মণিপুর ও মিজোরামের মানুষ জোরালো কম্পন অনুভব করেন। কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.১। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল মিজোরামের আইজলে।
আরও পড়ুন: পাক দাবি নস্যাত্ করে ভারত বলল, পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার ‘যথেষ্ট প্রমাণ’ দেওয়া হয়েছে
শুধু জুন নয়, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেও একদিনের ব্যবধানে দু’টি ভূমিকম্প হয় মিজোরামে। ৫ জুলাই মাঝারি মাত্রার কম্পন ধরা পড়ে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৬। চম্পাই থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। সন্ধ্যা ৫টা ২৬ মিনিট নাগাদ কম্পনটি সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে ন্য়াশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)। তবে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিশ্বের ষষ্ঠ বড় ভূমিকম্পপ্রবণ বেল্টের মধ্যে পড়ে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্য।
২০২০-তে বারবার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে গোটা দেশে। শুধু অগস্টে দেশজুড়ে বেশ কয়েক বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই সোমবার কম্পন অনুভূত হয়, অরুণাচল প্রদেশের অনজো এলাকায়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৭। দিন কয়েক আগে ভূমিকম্প হয়েছে আন্দামান নিকোবর দ্বীপের পোর্টব্লেয়ার থেকে ২২২ কিমি দক্ষিণে। কেঁপেছে মরুরাজ্য রাজস্থানও। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজস্থানের বিকানির থেকে ৬৬৯ কিমি দূরে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিমি গভীরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোটখাটো ভূমিকম্প কোনও বড়সড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত। ফলে আশঙ্কিত হয়ে পড়ছে মানুষজন।
এই সময় ডিজিটালের বিনোদন সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।
