সেখান থেকে ধানবাদে ফিরতে গেলে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা তাঁকে বাধা দেন। ধানবাদ থেকেই ট্রেন ধরে নয়াদিল্লি ফেরার কথা ছিল সাক্ষী মহারাজের। সরকারি আধিকারিকেরা সাক্ষী মহারাজকে শান্তি ভবনে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। বিজেপি সাংসদকে মহামারী আইইনের উল্লেখ করে জানানো হয়, কোভিড সংকটের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিনরাজ্য থেকে যে কেউ এলে, বাধ্যতামূলক ভাবে তাঁকে আগে ১৪ দিন কোয়ারানটিনে কাটাতে হবে। সেই নিয়মে আপনাকেও ১৪ দিন নিভৃতবাসে থাকতে হবে। শান্তি ভবনেই কোয়ারানটিনে থাকতে বলে প্রশাসন। সাক্ষী মহারাজকে জানানো হয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপি নেতা বাবুলাল মারান্ডি-সহ সকলকেই এই নিয়ম মানতে হয়েছে।
সাক্ষী মহারাজকে জোর করে প্রশাসন কোয়ারানটিনে পাঠানোয়, ক্ষুব্ধ হয় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতির জন্য হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতারা তোপ দাগেন। অবলম্বে মুক্তি না দিলে, রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, রাঁচি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে গিরিডিতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উন্নাও থেকে আসেন সাক্ষী মহারাজ। ট্রেনে ধানবাদে নেমে, সেখান থেকে গিরিডিতে যান। ফেরার সময়েও ধানবাদ থেকে নয়াদিল্লির ট্রেন ধরার কথা ছিল। গিরিডি থেকে গাড়িতে ধানবাদ যাওয়ার পথে জেলা প্রশাসন তাঁকে বাধা দেয়। পিরটাঁড় থানা এলাকায় তাঁর গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ফেরত পাঠানো হয় শান্তভবন আশ্রমে। কোয়ারানটিনে। জানা গিয়েছে, ওই আশ্রমের অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই তিনি গিরিডি এসেছিলেন।
ডেপুটি কমিশনার রাহুল কুমার সিনহা জানান, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনেই (Covid-19 rules) সাক্ষী মহারাজকে ১৪ দিনের কোয়ারানটিনে পাঠানো হয়েছে। বাইরের রাজ্য থেকে যাঁরা আসবেন, সকলের জন্যই এক নিয়ম। সিনহা আরও জানান, এই সফর নিয়ে সাক্ষী মহারাজ রাজ্য় সরকারকে আগাম কিছু জানাননি। তাই আমরা তাঁকে আইসোলেশনে রেখেছি। ডেপুটি কমিশনার জানান, সাক্ষী মহারাজ চাইলে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারেন।
ঝাড়খণ্ড সরকারের বিরুদ্ধে (Hemant Soren government) ক্ষোভ উগরে সাক্ষী মহারাজ বলেন, ‘আমাকে জোর করে প্রশাসন কোয়ারানটিনে পাঠিয়েছে। আমি একজন সংসদ সদস্য। ঝাড়খণ্ড ভারতের অংশ। আমি আমার অসুস্থ মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারব না?’ অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, ‘রবিবার (৩০ অগস্ট) পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং ছিল। তার আগে আমাকে জোর করে এখানে আটকে দেওয়া হল।… এটা ন্যক্কারজনক ঘটনা।’
এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।