Couple sells newborn: বিল মেটাতে অক্ষম, হাসপাতালের চাপে সদ্যোজাতকে ‘বিক্রি’ করল দম্পতি – unable to pay medical bills, couple ‘sells’ newborn to hospital in agra

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: গত সপ্তাহেই সি-সেকশনের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন ৩৬ বছরের ববিতা। অপারেশন করতে হাসপাতাল টাকা চেয়েছে ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে বিবতার ওষুধপত্রের জন্য টাকা লেগেছে ৫ হাজার টাকা। কিন্ত এত টাকা পাবেন কোথা থেকে ববিতার স্বামী শিব চরণ? ৪৫ বছরের শিব পেশায় রিকসা চালক। হাসপাতালের দাবি মতো টাকা মেটাতে অক্ষম ওই দলিত পরিবার অসহায়ভাবে নিজের সদ্যোজাতকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযোগ, বিল মেটাতে না পারায় হাসপাতাল থেকে বলা হয়, সদ্যোজাতকে একলক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিতে। সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরতে গেলে আগে মেটাতে হবে হাপাতালের বিল!

এমন মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর খবরে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রভু এন সিং জানিয়েছেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এমন ভয়াবহ ঘটনা কীভাবে ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মিউনিসিপ্যাল ওয়ার্ড কাউন্সিলর হরি মোহন জানিয়েছেন, ‘ওই দম্পতি হাসপাতালের বিল মেটাতে না পারায় তাঁদের সন্তান বিক্রি করে দিয়েছেন। শিব চরণের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়।’

তবে এই ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, শিশুটিকে হাসপাতাল কিনে নেয়নি, বরং ওই দরিদ্র দম্পতি শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার জন্য দিয়ে যায়। ‘এই অভিযোগ একেবারেই মিথ্যে। আমরা কেউই শিশুটিকে দেওয়ার জন্য তাঁদেরকে জোর করিনি। নিজের ইচ্ছাতেই সে এই কাজ করেছে। আমার কাছে লিখিত চুক্তিপত্রও রয়েছে, যেখানে সদ্যোজাতের বাবা-মায়ের সই রয়েছে। সেখানে তিনি নিজের ইচ্ছের কথা প্রকাশ করেছেন। ‘ এমনটাই দাবি জে পি হাসপাতালের ম্যানেজার সীমা গুপ্তা।

আগ্রার শম্ভুনগরের একটি ভাড়া বাড়িতে পাঁচ ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকেন শিব-ববিতা। দিনে ১০০টাকা রোজগার শিবের। প্রতিদিন তাও হয় না। তাঁর বড় ছেলের বয়স ১৮ বছর। সে এক জুতোর কারখানায় কাজ করে। কিন্তু লকডাউনের কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। কাজ হারায় শিবের বড় ছেলে। অন্যদিকে করোনা লকডাউনের জেরে আশাকর্মীরাও বেশ কয়েকমাস এলাকাভিত্তিক কাজকর্মগুলি বন্ধ রেখেছিলেন। ফলে ববিতা যখন গর্ভবতী ছিলেন তখন কেউই জানাননি যে সরকারি নিয়মে প্রাথমিক হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিত্‍সা ও পরিষেবা পাওয়া যায়। কোথায়, কীভাবে এই পরিষেবা মিলবে তা অজানা ছিল তাঁদের। টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে শিব জানিয়েছেন, ‘আমরা আয়ূষ্মান ভারত স্কিমের আওতাভুক্ত নই। জানি না কীভাবে এই স্কিমের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায়।’

প্রসব যন্ত্রণা উঠলে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার ডাক্তাররা জানান, ববিতাকে দ্রুত সিজার করতে হবে। ২৪ অগস্ট ৬.৪৫ মিনিটে, তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু হাসপাতালে বিল মেটাতে পারেননি তাঁরা। শিব জানিয়েছেন, ‘আমার স্ত্রী ও আমি লিখতে ও পড়তে জানি না। হাসপাতালের কথামতো সমস্ত কাগজপত্রে বুড়ো আঙ্গুলে ছাপ দিই আমরা। পরে হাসপাতাল থেকে ডিসচার্স পেপারস, বিল ও অন্যান্য কোনও কাগজই আমাদের কাছে নেই। ‘ অগত্যা দেখে তাঁরা সদ্য়োজাতেকে এক লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেন। সূত্রের খবর, পুত্রসন্তান দত্তক নেওয়ার জন্য অভিভাবকরা মুখিয়ে থাকেন। এইসব লেনদেনের জন্য সদ্যোজাতের উপর অন্য নজর থাকে।

শিশুর অধিকার অ্যাক্টিভিস্ট নরেশ পারস বলেছেন, এই ঘটনার কোনও বিশ্লেষণ হয় না। ‘একটি শিশুকে দত্তক নিতে গেলে সেন্ট্রাল অ্যাডপসন রিসোর্স অথরিটির একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সদ্যোজাতকে দত্তক নেওয়ার জন্য যে চুক্তিপত্রের দাবি তুলেছে, তা অর্থহীন। তারা একটি জঘন্য অপরাধ করেছে।’

সদ্য সন্তানের জন্ম দিয়ে হাসপাতালের চাপে বিক্রি করে দেওয়ার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ববিতা। তিনিও চান তাঁর কোলে ফিরে আসুক শিশুপুত্র। তাঁর কথায়, ‘আমাদের এখন সামান্য অর্থের প্রয়োজন। সেটাই হাতে নেই।’ নরেশ পারস আরও জানিয়েছেন, ওই গর্ভবতী মহিলা শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের কোনও সুবিধা পাননি। এছাড়া স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রও সাহায্যের হাত বাড়ায়নি, আশাকর্মীরাও তাঁকে কমিউনিটি হেল্থ সেন্টারের হদিশ ও সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেননি। ফলে গোটা বিষয়টিতেই জেলে প্রশাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতেও যেন এমন ঘটনা না ঘটে তাও আশ্বাস দিতে হবে প্রশাসনকে।

খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন এখানে…

এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

দেশজুড়ে আরও ১২০ স্পেশাল ট্রেন চালাবে রেল, তালিকায় রয়েছে বাংলাও

Tue Sep 1 , 2020
করোনা সংক্রমণের মধ্যেও পর্যটক, পড়ুয়া, বিভিন্ন রাজ্যে আটকে থাকা মানুষজন ও পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার জন্য ১ মে থেকে শ্রমিক এক্সপ্রেস চালু করেছিল রেল Source link

You May Like

Breaking News

Recent Posts