medical research facing crisis: কোপ করোনার, হোঁচট খাচ্ছে চিকিৎসা গবেষণা – medical research is facing huge crisis due to coronavirus

অনির্বাণ ঘোষ

কোথাও জুনিয়র রিসার্চ ফেলোকে করোনা পরীক্ষার ডিউটি দেওয়া হয়েছে টানা চার মাস। কোথাও পুরোনো গবেষণা প্রকল্পে নিযুক্ত ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে তুলে আনা হয়েছে কোভিড নমুনার হিসেব করতে! কোথাও প্রকল্পের মুখ্য গবেষক নিজেই পৌঁছতে পারেননি প্রতিষ্ঠানে। কোথাও আবার যে সব রোগীর উপর ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছিল, তাঁরা লকডাউন পর্বে টানা গরহাজির থাকায় থমকে গিয়েছে গবেষণাই!

এই সমস্যার বড় শিকার এসএসকেএম এবং স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন। তালিকায় রয়েছে আরজি কর, বাঁকুড়া সম্মিলনী, এনআরএস কিংবা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানও।

এসএসকেএমের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগ সূত্রে খবর, রিসার্চ ফেলোরা আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় যথেষ্ট দক্ষ বলে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হতেই তাঁদের কোভিড টেস্টের দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয়, যত দিন না হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা এই পরীক্ষায় সড়গড় হয়ে ওঠেন, তত দিন পরিস্থিতি সামলাতে হবে রিসার্চ ফেলোদেরই। ব্রেস্ট ক্লিনিকের রিসার্চ ল্যাবের গবেষকরাও যেহেতু বায়োকেমিস্ট্রি বা মলিকিউলার বায়োলজির স্নাতকোত্তর হওয়ার সুবাদে পিসিআর টেস্টে দক্ষ, তাই তাঁদেরও ব্যবহার করা হয় কোভিড টেস্টের কাজে। এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের শিক্ষক-চিকিৎসক সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ে কথায়, ‘পরিস্থিতি বদল হতে ওঁরা ল্যাবে ফিরে এসেছেন বটে। কিন্তু মাঝের কয়েকটা মাস গবেষণার কাজে খুবই ক্ষতি হল।’

কোভিডের হাত ধরে গবেষণা ক্ষেত্রের এই সঙ্কটের ব্যাপ্তি এমনই যে বিশ্ববন্দিত বিজ্ঞানপত্রিকা ‘দ্য ল্যানসেট’ তার সাম্প্রতিকতম সংস্করণে (গত শনিবার) এই বিষয়টি নিয়েই সম্পাদকীয় লিখেছে। তাতে বলা হয়েছে, করোনার চিকিৎসা ও রোগনির্ণয়ে চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মী ও ল্যাবের ব্যস্ততা এমনই তুঙ্গে যে গবেষণার কাজটি লাগাতার অবহেলিতই হচ্ছে। তবে এর জন্য কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়, বর্তমান পরিস্থিতিকেই দায়ী করা হয়েছে সম্পাদকীয়তে। উল্লেখ করা হয়েছে মানবসম্পদ থেকে পরিকাঠামো, অর্থবরাদ্দ থেকে লকডাউনের ঝঞ্ঝাট কী ভাবে ব্যাহত করেছে গবেষণার পরিবেশ ও সুযোগকে। আরজি করের মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক-চিকিৎসক পার্থসারথি কর্মকার কিংবা মেডিক্যালের উপাধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাসরা জানাচ্ছেন, যে কোনও গবেষণায় গবেষকদের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, স্ট্যাটিসটিশিয়ান, কেমিস্ট- সকলেরই। লকডাউনের সময়ে অনেকে যেমন ল্যাবে আসতে পারেননি, তেমনই আবার প্রতিদিন সকলে আসতেনও না ডিউটি রস্টারের কারণে। এ সব কিছুর প্রভাবই পড়েছে গবেষণায়। বাঁকুড়া সম্মিলনীর অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধান বলেন, ‘কোভিডের কারণে গবেষণার কাজ ব্যাহত হয়েছে সারা দুনিয়াতেই। বাংলাই বা আর ব্যতিক্রম হয় কী করে!’

ট্রায়াল পেশেন্টদের গরহাজিরাও বড় মাথাব্যথা। এসএসকেএমের ব্রেস্ট ক্লিনিকের প্রধান চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকার বলছেন, ‘স্তন ক্যান্সারে কেমোথেরাপির সঙ্গে অ্যাসপিরিন দিলে রোগিণীর কেমন উন্নতি হয়, তার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল থমকে রয়েছে। যাঁদের নিয়ে ট্রায়াল চলছিল, লকডাউনে তাঁরা দীর্ঘ দিন হাসপাতালে আসতে পারেননি। এখনও আসতে চাইছেন না।’ ট্রপিক্যালের ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক এবং হাসপাতালের গবেষণা সংক্রান্ত এথিক্স কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি শান্তনু ত্রিপাঠীও জানাচ্ছেন, লকডাউনেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সব ধরনের গবেষণা। শান্তনুর কথায়, ‘হয়তো হাই প্রেশার কিংবা ব্লাড সুগার নিয়ে গবেষণা চলছিল। যে সব রোগীর উপর কাজটা চলছিল, নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তাঁদের হাজারো শারীরিক পরীক্ষা করতে হয়। কিন্তু সেই রোগীদেরই তো দেখা মেলেনি টানা কয়েকটা মাস। তাঁদের গরহাজিরায় পুরো গবেষণাটাই বানচাল!’ তিনি জানান, অনেক গবেষকের গরহাজিরাও মস্ত সমস্যা হয়ে উঠেছিল মাঝে। এখন সে সমস্যা মিটলেও যে ক্ষতিটা গবেষণায় ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে, তা শোধরানো কঠিন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

South Indian Bank appoints Murali Ramakrishnan as MD & CEO, BFSI News, ET BFSI

Fri Sep 4 , 2020
Kerala based South Indian Bank has received regulatory approval to appoint Murali Ramakrishnan as Managing Director & CEO of the lender. Murali will be at helm of the private bank for a period of three years, and will assume charge on October 1, 2020 after current CEO VG Mathew retires […]

Breaking News

Recent Posts